Advertise with us
আপনার এলাকার খবর
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

বাংলাদেশ
২:১৫ পূর্বাহ্ণ, ১১ জুন ২০২০

করোনা চিকিৎসায় সিলেটে সীমাহীন ভোগান্তি, দুর্ভোগ

সিলেটের করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের একটি ছবি এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কুকুর শুয়ে আছে হাসপাতালের প্রবেশ মুখের জীবাণুনাশক টানেলে। ভাইরালের পর এই দৃশ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সচল হয়নি জীবাণুনাশক টানেল। অকার্যকর অবস্থায় হাসপাতালের প্রবেশমুখে রয়েছে টানেলটি। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানালেন- ‘এখন আর ওই টানেলের দিকে লক্ষ্য রাখার সুযোগ নেই। রোগী দেখতে […]

করোনা চিকিৎসায় সিলেটে সীমাহীন ভোগান্তি, দুর্ভোগ
৪ মিনিটে পড়ুন |

সিলেটের করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের একটি ছবি এখন ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কুকুর শুয়ে আছে হাসপাতালের প্রবেশ মুখের জীবাণুনাশক টানেলে। ভাইরালের পর এই দৃশ্য পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু সচল হয়নি জীবাণুনাশক টানেল। অকার্যকর অবস্থায় হাসপাতালের প্রবেশমুখে রয়েছে টানেলটি। হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানালেন- ‘এখন আর ওই টানেলের দিকে লক্ষ্য রাখার সুযোগ নেই। রোগী দেখতে দেখতেই সময় শেষ। কোথায় কী হচ্ছে- সেদিকে নজর রাখা যাচ্ছে না।’ বাস্তব অবস্থাও তাই।

এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের জন্য একমাত্র করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। টানা তিন মাস ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। গেল এক সপ্তাহ ধরে আর এই হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে না। উপচে পড়ছে রোগী। আইসিইউতেও জায়গা নেই। গতকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ছিলেন ১২ জন রোগী। ওই রোগীদের জীবন বাঁচাতে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানিয়েছেন, তার হাসপাতালে গতকাল পর্যন্ত ৭৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৬ জন ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ৩০ জন। এর মধ্যে ১২ জনের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নিয়ে কোভিড চিকিৎসার শুরুতেই বিতর্ক ছিল। কারণ করোনা আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা। প্রয়োজন ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেন ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হাসপাতাল। কিন্তু শামসুদ্দিনে এই ব্যবস্থা ছিল না। সেন্ট্রাল অক্সিজেন রয়েছেন এমন হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসার দাবি তুলেছিলেন সিলেটের মানুষ। বাস্তবে তা হলো। শামসুদ্দিনে চিকিৎসা সেবা শুরু করেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রথমে দুটি ভেন্টিলেশন চালু করা হয়েছিলো। আইসিইউ সংকট দেখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের পক্ষ থেকে আরো ৯টি ভেন্টিলেশন দেয়া হয়। এখন ১১টি আইসিইউ বেড সমৃদ্ধ একটি ওয়ার্ড গড়ে তোলা হয়েছে,গত এক মাস ধরে এ হাসপাতালে রোগীরা আইসিইউ সাপোর্ট পেলেও আগে ভর্তি হওয়া রোগীরা সেই সুবিধা পাননি। গত সপ্তাহে ওসমানী হাসপাতাল থেকে আরো চারটি ভেন্টিলেশন দেয়া হয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি সেই ভেন্টিলেশনগুলো স্থাপনের কাজ এখন চলছে। এরই মধ্যে সিলেটে এখন আইসিইউ সাপোর্ট রোগী বাড়ছে। সিলেটের আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই নিজ বাসাতে থেকেই করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন। যারা শ্বাসকষ্ট কিংবা অন্য কোনো সমস্যায় ভুগেন তারা হাসপাতালমুখী। এখন শামসুদ্দিন হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি রয়েছে তাদের অধিকাংশেরই অক্সিজেন সাপোর্ট লাগছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান,গড়ে প্রতিদিন একশ’র মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রয়োজন। চাহিদা মতো অক্সিজেন মিলছে না বলে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,এদিকে পুরাতন হাসপাতাল হওয়ার কারণে করোনা আক্রান্ত রোগীরা এই হাসপাতালে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারছেন না।
এতে করে অনেক রোগীই মৃত্যুর ভয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যেমনটি করেছিলেন মারা যাওয়া চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিনও। ইতিমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে বাড়ি ফেরা অনেক রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে হাসপাতালের ভেতরে অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করছেন রোগীরা। তারা জানান, ‘দমবন্ধ’ অবস্থায় নিজেরাই করোনার সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন,হাসপাতালের চার নম্বর ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ২৫টির বেশি। ওই ওয়ার্ডে একত্রে রাখা হচ্ছে পুরুষ ও মহিলা রোগীদের। তাদের জন্য একটি মাত্র বাথরুম। কয়েক দিন আগে ওই বাথরুমের স্যানিটেশন ব্যবস্থা নাজুক হওয়ার কারণে রোগীরা দুর্গন্ধে বাইরে ছুটে আসেন,আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক করোনা রোগীকে ভর্তি করেছিলো পুলিশ। ওই রোগী হাসপাতালের বেডেই বাতরুম ব্যাবহার করে। কিন্তু পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাওয়া যায়নি, হাসপাতালে এখনো ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট রয়েছে। এ কারণে সীমাহীন ভোগান্তি ও দুর্ভোগে রয়েছেন করোনা রোগীরা,হাসপাতালে খাবার সরবরাহ নিয়ে রোগীদের অভিযোগের অন্ত নেই।
তারা জানান, সকালে একটু ভালো মানের নাস্তা দেয়া হয়, কিন্তু দুপুরে ও রাতে যে খাবার দেয়া হয় সেগুলো খাবার উপযোগী না। জীবন বাঁচাতে রোগীরা অর্ধেক খেয়ে বাকিগুলো ফেলে দেন। প্রয়োজনের তাগিদে তারা বাইরে থেকে এনে খাবার খান,সম্প্রতি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা জৈন্তাপুরের এক রোগী জানিয়েছেন, ২১ দিন তিনি হাসপাতালে ছিলেন। এই সময়ে তিনি শুধু ১৫০০ টাকার পানি কিনে খেয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অনেক রোগীরই বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামতো ওষুধ পাওয়া যায় না, এ কারণে করোনা আক্রান্ত রোগীরা প্রায় সময়ই প্রটেকশন ছাড়া বাইরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী চৌহাট্রার বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে আসেন। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়িত হয়েছে। পাশাপাশি সময়মতো চিকিৎসক না পাওয়ারও অভিযোগ উঠেছে সম্প্রতি, এদিকে সিলেটে করোনা আক্রান্ত সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহের একমাত্র বুথ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। প্রতিদিনই নমুনা দিতে আসা লোকজনের ভিড় বাড়ছে, এখন শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টাও লাইনে দাঁড়িয়ে নমুনা দিতে পারছেন না। নমুনা দেয়ার সিরিয়াল নেয়া নিয়েও মারামারি হচ্ছে,এ ছাড়া নমুনা দিতে আসা সন্দেহভাজনরা সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। এ কারণে হাসপাতালের সামনে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে,রোগীর জায়গা হচ্ছে না শামসুদ্দিনে।
বিকল্পের সন্ধানে ছিল স্বাস্থ্য বিভাগ,বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া নেয়া সম্ভব হয়নি,ফলে নতুন করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ৫০ শয্যা ও খাদিমনগরে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে করোনা রোগীদের ভর্তি শুরু করা হবে।
এখন চলছে প্রস্তুতি,কিন্তু ওই হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের ব্যবস্থাও নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, শামসুদ্দিনে রোগী বেড়েছে,
আপাতত চিকিৎসার দিকে সবাই নজর দিচ্ছে। এখন রোগীর জীবন বাঁচানোই হচ্ছে প্রধান কাজ,তিনি জানান, সিলেটে আরো দুটি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। আমাদের প্রবাসীদের একটি গ্রুপ সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন।
তারা ওই দুটি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন চালুর ব্যাপারে আর্থিক সহযোগিতা করবেন,তবে সেটি চালু হতে ১০ দিনের মতো সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box
×
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

বিলাত ম্যানিয়া
৬ মাস আগে
ভুতে ধরা নাকি মানসিক রোগ
৭ মাস আগে

Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com