Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

বাংলাদেশ
৩:০৮ অপরাহ্ণ, ৮ জুলাই ২০২৪

প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন

প্রিয়জনের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন…. প্রিয়জনের মানসিক রোগ যদি বুঝতে না পারেন ঘটে যেতে ভয়ানক দূর্ঘটনা। এমনকি হত্যাকাণ্ড। কিছু কিছু মানসিক রোগ আছে যাতে রোগীর বিবেক বিবেচনা একেবারেই কাজ করেনা। তিনি কি করছেন না করছেন কোন হুশ জ্ঞান নেই। একটি ভয়ংকর কেইস হিস্ট্রি বলি, “মিসেস সেলিনা (ছদ্মনাম) বাইপোলার মোড ডিসওর্ডার এর রোগী […]

প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন
২ মিনিটে পড়ুন |

প্রিয়জনের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন….

প্রিয়জনের মানসিক রোগ যদি বুঝতে না পারেন ঘটে যেতে ভয়ানক দূর্ঘটনা। এমনকি হত্যাকাণ্ড। কিছু কিছু মানসিক রোগ আছে যাতে রোগীর বিবেক বিবেচনা একেবারেই কাজ করেনা। তিনি কি করছেন না করছেন কোন হুশ জ্ঞান নেই।

একটি ভয়ংকর কেইস হিস্ট্রি বলি,

“মিসেস সেলিনা (ছদ্মনাম) বাইপোলার মোড ডিসওর্ডার এর রোগী গত ২০ বছর যাবৎ। কিন্তু আজো পরিবারের লোক বুঝতেই পারেন নি তিকি যে একটি ঘোরতর মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। অথচ এ রোগে আক্রান্ত হবার ফলে প্রথম এপিসোডে আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে তার নিজের ৭ মাসে সন্তান কে তিনি নিজ হাতে পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলেছিলেন।

২য় এপিসোডে তিনি গ্রামের ৮ বছরের এক বাচ্চা ছেলেকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে দিয়ে প্রায় মেরে ফেলেছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি জেলে যান। সনাক্ত হয় তার মানসিক রোগ।

৩য় এপিসোডে তার পরিবারের আরেক সদস্য সামান্যের জন্যে হত্যাকাণ্ড থেকে রেহাই পেয়েছেন। ৩ য় এপিসোডের মানসিক রোডে তিনি ধারালো দা ধার দিয়ে রেডি করেছেন। এবার বলেছেন নিজের জন্মদাতা আজ রাতেই কয়েকশো টুকরো করবেন।

কথাটি শোনা মাত্রই পরিবারের সদস্য ভয় পেয়ে যান। সাথে সাথে আমার চেম্বারে ধরে বেঁধে নিয়ে আসেন। দ্রুত তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করি। সিমটম যা যাওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক সাবধান থাকতে বলি।”

বাইপোলার মোড ডিসওর্ডার রোগটি সব সময় থাকেনা। কয়েকমাস পর পর বা কয়েক বছর পর পর এ রোগের উপসর্গ হঠাৎ করে দেখা দিয়ে থাকে এবং তা দ্রুত তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে যায়। অবাক বিষয় হলো, এ উপসর্গ স্থায়ী থাকে অল্প কয়েক দিন বা মাত্র কয়েক মাস। এর পর রোগী ভালো, স্বাভাবিক। কিন্তু সেই উপসর্গ কালীন সময়ে রোগীকে ঠিকমতো ম্যানেজ করতে না পারলে ঘটে যেতে পারে ভয়ানক পরিণতি।

কেনো মর্মান্তিক ঘটনা গুলো ঘটে যায়?

এ রোগের উপসর্গ যখন থাকেনা অর্থাৎ In between the episode – ইন বিটুয়িন দা এপিসোড , তখন রোগী থাকেন সম্পুর্ন সুস্থ, আপনজন থাকেন বিভ্রান্ত। তারা বুঝতেই পারেন না তিনি যে ভয়ানক এক মানসিক রোগে আক্রান্ত, তিনি যে আবার তার সেই পুরোতন রোগের বশবর্তী হয়ে পূণরায় ভয়ংকর কিছু একটা করে ফেলতে পারেন।

অনেক সময় সচেতনতার অভাবে রোগীর স্বজনরা ভাবেন ভন্ড পীর, কহিরাজ আর তান্ত্রিকদের পানি, তেল আর টূটকা তাবীজ এ রোগী ভালো হয়ে গেছে

এ রোগ কেনো হয়?

ব্রেইনের নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিন নি:সরনের তারতম্যের জন্যে এ রোগ হয়। এ রোগটি চিকিৎসা সম্পুর্ন নিরাময় হয়।

চিকিৎসা কি?

ডোপামিন রিসেপ্টর ব্লকার-এন্টিসাইকোটিক এবং মোড স্ট্যাবিলাজার নির্দিষ্ট মাত্রায়, নির্দিষ্ট মেয়াদে ব্যবহার করলে এ রোগ সম্পুর্ন নিরাময় হয়ে যায়।

আসুন মানসিক রোগ নিয়ে সচেতন হই।

ডা. সাঈদ এনাম
এমবিবিএস (ডিএমসি) এমফিল (সাইকিয়াট্রি)
সহকারী অধ্যাপক সাইকিয়াট্রি
সিলেট মেডিকেল কলেজ।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

বিলাত ম্যানিয়া
৪ মাস আগে
ভুতে ধরা নাকি মানসিক রোগ
৫ মাস আগে

Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com