দেশদিগন্ত ডেস্ক : -“৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলো জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে। আর এ কারনেই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতাত্তোর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল কর্মকান্ড, তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহল নিজেদের স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা জলাঞ্জলী দিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে […]
দেশদিগন্ত ডেস্ক : -“৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলো জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে। আর এ কারনেই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতাত্তোর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খল কর্মকান্ড, তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহল নিজেদের স্বার্থে দেশের স্বাধীনতা জলাঞ্জলী দিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে পদদলিত করে গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার, মানুষের বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ আইনের শাসনকে গলাটিপে হত্যার মাধ্যমে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে। ফলে দেশব্যাপী মানুষ চরম অশান্তির আগুনে দগ্ধ হতে থাকে ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তৎসময়ে বিরাজমান জাতীয় অনৈক্য, দেশপ্রেমিক শক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা, মৌলিক ঐক্যবোধের অভাব, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিরোধের সুযোগ নিয়ে বিদেশী সা¤্রাজ্যবাদী, নব্য উপনিবেশবাদী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি সমূহ বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতির পথ রুদ্ধ করেছিল। অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার মাধ্যমে দেশকে পশ্চাদমূখী করার প্রয়াস পেয়েছিল। এই সকল অশুভ শক্তির অপতৎপরতার ফলে আমাদের সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়ে পড়ে, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ব্যাপক নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়, রাজনীতি হয়ে পড়ে বিদেশী প্রভুদের সেবাদাসে। দেশ মাতৃকার এই চরম দুুর্দিনে ৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর আধিপত্যবাদের এদেশীয় এজেন্টদের কুটকৌশলে মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করা হয়। কিন্তু স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষা এবং স্বাধীনতার সুফল ফিরে পেতে অকুতোভয় দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং জনতার স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থনে ৭ নভেম্বর ঘটে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব, সিপাহী-জনতার মিলিত বিপ্লবে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। এই পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয় ও গণতন্ত্র অগ্রগতির পথে ধাবিত হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। জিয়াউর রহমান জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশে শৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং একই সাথে জাতীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে শৃঙ্খল মুক্ত করেন। রাজনীতির পথকে অবারিত ও মসৃণ করে জনগণভিত্তিক রাজনীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুণ:প্রবর্তনের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উন্মেষ ঘটান। উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতির সূচনা করে জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’ নীতির আলোকে তিনি রাজনীতি ও দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার ও উদীয়মায় বিশ^নেতা রাষ্ট্রপতি জিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। জিয়া শাহাদাত বরণ করলেও তাঁর আদর্শে বলীয়ান মানুষ যেকোন মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনও অঙ্গীকারাবদ্ধ। বর্তমানে আবারো আধিপত্যবাদী শক্তি চিরকাল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকতে ভয়াবহ দুঃশাসন জারী রেখে গোটা দেশকে করায়ত্ত করতে চাচ্ছে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনে করে-৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুণ:রুদ্ধার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষাসহ বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধিপত্যবাদী শক্তিকে পরাস্তের মাধ্যমে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মূহুর্তে অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি
৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নি¤েœাক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঃ
১। ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঐ দিন সকাল ৬ টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে
দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় প্রতাকা উত্তোলন করা হবে।
২। ৭ নভেম্বর সকাল ১১ টায় মহান স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর মাজারে বিএনপি’র পক্ষ
থেকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দের পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া।
৩। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুপুর ১২-০০টায় বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ১২টা ১৫ মিনিটে
বিএনপি-ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ১২টা ৩০ মিনিটে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহ শহীদ জিয়ার মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা
পাঠ করবে।
৪। বেলা ৩-০০টায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
৫। অনুরুপভাবে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর ও উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে নিজ নিজ সুবিধানুযায়ী যথাযোগ্য মর্যাদায়
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
| রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র | শনি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | |
| ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | ||