Advertise with us
আপনার এলাকার খবর
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

ইন্টারভিউ
১২:০৫ পূর্বাহ্ণ, ৭ এপ্রিল ২০১৮

আমার বেড়ে উঠা কুয়েতে

আরবী, উর্দু , হিন্দী ও ফরাসি সহ মিশ্র সংস্কৃতিতে মরুর বুকে পাঁচ বছরের শিশু থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে উঠা,  বাংলা সংস্কৃতি কে বুকে লালন-পালন করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বছরের পর বছর বাংলা সংগীতের উপড় তালিম নিয়ে হাজারো সংস্কৃতির ভিড়ে আপন বাংলা সংস্কৃতিকে শতভাগ আয়ত্ত্ব করেছেন । তারই প্রমান মিলেছিলো ২০০৯ সালে […]

আমার বেড়ে উঠা কুয়েতে
৪ মিনিটে পড়ুন |

আরবী, উর্দু , হিন্দী ও ফরাসি সহ মিশ্র সংস্কৃতিতে মরুর বুকে পাঁচ বছরের শিশু থেকে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে উঠা,  বাংলা সংস্কৃতি কে বুকে লালন-পালন করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বছরের পর বছর বাংলা সংগীতের উপড় তালিম নিয়ে হাজারো সংস্কৃতির ভিড়ে আপন বাংলা সংস্কৃতিকে শতভাগ আয়ত্ত্ব করেছেন । তারই প্রমান মিলেছিলো ২০০৯ সালে চ্যানেল আই সেরা কন্ঠে প্রথম স্থান দখল করা মধ্যে দিয়েই, এ যেনো সকল প্রবাসীদের বিজয় । মিষ্টভাষী -মিষ্টিহাসী দুরন্ত চলার গানে ও উপস্থাপনায় মরুর দেশ কুয়েতে ছিলো তার একক প্রভাব । মরুর ধু-ধু হাওয়ায় ঘাম ঝডানো সন্ধ্যায় শতব্যাস্ততায় প্রবাসীরা যখন ক্লান্ত, তখন কোনালের ফুল সাজানো চুম্বক হাসিমাখা উপস্থাপনায় ও গানে আবেগপ্রবণ হয়ে যেতো প্রবাসীরা, ওরা খুঁজে পেতো আপন ভূবন,আপন ঠিকানা। হৃদয়ের আঙিনায় এক টুকরো বাংলাদেশে । ক্ষনিকের জন্য হারিয়ে যেতো আপনজনদের মাঝে । সেই কোনাল এখন ধাবরিয়ে বেড়াচ্ছে দেশ – বিদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের সংগীতাঙ্গনে, সব মিলিয়ে গতিময় জীবনে সফল একজন সংগীত শিল্পী হিসেবে । কোনালের কুয়েত বাসায় গেলে সেই পরিচিত হাসিমুখ নিয়ে অনেক কথা বললেন।
নিজামুর রহমান টিপু : কেমন আছেন, কুয়েতে আপনার সময় কেমন কাটছে ?
কোনাল: ভালো ,তবে মন কিছুটা খারাপ ।
নিজামুর রহমান টিপু : কেনো ?
কোনাল: দেখেন সব বিদায়ই বেদনার হয়,কষ্টের হয় , আমার বেড়ে উঠা কুয়েতে সেই পাঁচ বছর বয়সে কুয়েতে এসেছিলাম, আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম কুয়েতে, ছোট বেলাতে এসেছি তো তাই বাংলাদেশের স্হৃতি আমার মনে নেই । কৈশর-শৈসব এসব কিছুই কেটেছে আমার কুয়েতে পারিবারিক পরিচয়ে অনেক আত্মীয়-স্বজন, স্কুল-কলেজ আমি লেখা-পড়া করেছি কুয়েতে সে ক্ষেত্রে আমার সব বন্ধু-বান্ধবী সবাই তো কুয়েতেই । এখন বাবা-মা সহ আমরা কুয়েত কে বিদায় দিয়ে চলে যাচ্ছি স্বদেশে স্হায়ীভাবে বসবাস করার জন্য ।তা যেমন আনন্দের ঠিক। থেমনি যাদের ফেলে রেখে যাবো তাদের সাথে হয়তো আর কখনো দেখা হবে না , সেজন্য মন কিছুটা খারাপ হবেই তো ।
নিজামুর রহমান টিপু : আপনি আপনার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারেন ।
কোনাল : হাহাহা হাস্যজ্জল ভাবে বললেন , এদে কোনাসে জাস ( মানিকগঞ্জ ) শুদ্ধ- এই কোথায় যাচ্ছো।
নিজামুর রহমান টিপু : এখন পর্যন্ত আপনার পরিবারের বা ভক্তদের কারো সাথে মান-অভিমান, ঝগড়া হয়েছে কি?
কোনাল: না কখনই কারো সাথে ঝগড়া অথবা মান -অভিমান হয়নি, ঝটপট উত্তর দিয়েই উল্টো প্রশ্ন ছুড়লেন ঝগড়া হবে কেনো..?
নিজামুর রহমান টিপু : তরুন সংগীত শিল্পী যে কয়েকজন বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে আপনিও একজন, সেক্ষেত্রে বাবা-মা’র মাঝে বেশী উৎসাহ যুগিয়েছেন কে…?
কোনাল : রক্ত-মাংস পানি করে আমাকে শিখিয়েছেন.আমার সঙ্গে সঙ্গে যা করার উনি করেছেন. কুয়েত এবং দেশে সব উনি করেছেন তিনি হলেন আমার মা । আমার বাবা ঘন্টার পর ঘন্টা মরুভূমিতে বসেছিলেন, আমি যখন গান শিখি, না খেয়ে – না পড়ে, নিজের কোনো সুখ না ভেবে শুধু আমার সব করেছেন, তিনি হলেন আমার বাবা । উনারা দুজনই আমার জন্য সমান তালে,সমানভাবে সহযোগিতা উৎসাহ দিয়েছেন ।
নিজামুর রহমান টিপু :চ্যানেল আই সেরা কন্ঠ ২০০৯ প্রতিযোগিতায় যখন আপনি অংশগ্রহন করেন কে বা কারা আপনাকে বেশী সহযোগিতা করেছে ..?
কোনাল :কুয়েত প্রবাসীরা আমাকে সবচেয়ে বেশী সাপোর্ট ও সহযোগিতা করেছিলো । বাবা-মা তো আছেনই তো বলা বাহুল্যে । তার পরে যারা ছিলেন তারা কুয়েত প্রবাসীর সহযোগীতা করেছেন, এবং এসএমএসে মধ্যেপ্রাচ্যর সহযোগিতাই বেশী পেয়েছি ।
নিজামুর রহমান টিপু: যদি ভবিষৎতে আপনাকে অভিনয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়. তাহলে যাবেন কি..?
কোনাল : বর্তমানে গান গেয়েই সময় পাই না. মঞ্চ-টিভি সব সংগীতানুষ্টানে উপস্থিত হতে পারিনা সময়ের জন্য । অভিনয়ে যাবো কি করে.? তবে হ্যা যদি ভবিষৎ তে সুযোগ পাই যাবো ।
নিজামুর রহমান টিপু : আপনি তো কুয়েত কে বিদায় দিয়ে চলে যাচ্ছেন, যদি কুয়েত প্রবাসীরা আপনাকে অনুষ্ঠান করার জন্য আমন্ত্রণ জানায় তাহলে বিশেষ সহযোগিতা পাবে কি..?
কোনাল: কুয়েত থেকে বাবা-মা সহ চলে গেলেও কুয়েতে আসার আগ্রহ সবসময় থাকবে, আর কুয়েতে যদি মিউজিক্যাল প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয় বা কোনো শো করা হয় সেখানে আমাকে আমন্ত্রন জানানো হয় সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই আসব ।আমি আগেই বলেছি কৈশোর-শৈসব সবকিছুই কুয়েতে কাটিয়েছি ,চ্যানেল আই সেরা কন্ঠে সবচেয়ে বেশী সাপোর্ট করেছে কুয়েত প্রবাসীরা । যেহেতু আমি বড় হয়েছি কুয়েতে, সেক্ষেত্রে দেশে আমার বন্ধু-বান্ধব তখন ছিলো না, সে সময় দেশের আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও উঠা বসা ছিলো না । যেমন যারা বাংলাদেশে বড় হয়, তাড়া স্কুল-কলেজে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে থাকে, তাদের এলাকায় অনেক পরিচিতি থাকে, সেই সুযোগটা আমি পাইনি, আমার সেই সার্কেল বাংলাদেশে ছিলোনা ।আমার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট ছিলো কুয়েত প্রবাসীরা।
কুয়েতে অবস্থানরত সকল প্রবাসীদের কে কৃতজ্ঞতা সহ ধন্যবাদ জানাই।

30121851_1620904821350571_664385829_o

 

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

ত্বকের ঘরোয়া যত্ন
৯ বছর আগে

Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১ 
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com