Advertise with us
আপনার এলাকার খবর
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

স্বাস্থ্য সংবাদ
৩:২৯ অপরাহ্ণ, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

অপুষ্টিতে ভুগছে ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ

বাংলাদেশে এখনো অপুষ্টিতে ভুগছে দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ প্রতি আটজনের মধ্যে একজন পাচ্ছেন না পুষ্টিকর খাবার। এছাড়া ৩১ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও বাংলাদেশ সরকারের চালানো এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হচ্ছে, পুষ্টিকর খাবার বলতে বোঝায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন ছয় ধরনের খাবার […]

অপুষ্টিতে ভুগছে ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ
৩ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশে এখনো অপুষ্টিতে ভুগছে দুই কোটি ১০ লাখ মানুষ। অর্থাৎ প্রতি আটজনের মধ্যে একজন পাচ্ছেন না পুষ্টিকর খাবার। এছাড়া ৩১ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও বাংলাদেশ সরকারের চালানো এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হচ্ছে, পুষ্টিকর খাবার বলতে বোঝায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যেন ছয় ধরনের খাবার থাকে অর্থাৎ শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, পানি ও চর্বি থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষ এখনো অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত ও অপর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান-সংবলিত খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য যেসব পুষ্টিকর খাবার আছে যেমন, শাকসবজি, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল এগুলো খাওয়ার ব্যাপারে খুব একটা জোর দেন না।

গবেষণায় জানা গেছে, দরিদ্রতার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে মানুষের সচেতনতার অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্যতার অভাব এই পুষ্টিহীনতার প্রধান কারণ। কারণ অনেকে মাছ, মাংস, শাকসবজি, ফলমূলের মতো পুষ্টিকর খাবার টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না। আবার অনেকের এসব খাবার কেনার ক্ষমতা আছে ঠিকই, কিন্তু তারা জানেন না কোন খাবারগুলো কী পরিমাণে খেতে হবে।

গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দিনে ২ হাজার ১০০ কিলোক্যালোরি প্রয়োজন। তবে দেখা যাচ্ছে, মানুষ তিন-চার বেলা পেট ভরে খাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু শরীর প্রয়োজনীয় ক্যালরি পাচ্ছে না। ফলে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে মানুষ।

ডব্লিউএফপির তনিমা শারমিন বলেন, পেট ভরে শর্করা খেলেও সেখানে যদি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান না থাকে তাহলে সেটাও পুষ্টিহীনতা। খাদ্যে ভেজালের আতঙ্কে অনেকে জেনে বুঝেও পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে চলেন। এছাড়া বাংলাদেশে যে উপায়ে রান্না করা হয়, সে কারণেও খাবারের পুষ্টি উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।

এদিকে সরকারি হিসাবমতে, বাংলাদেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে যে ১১.৯০% জনগোষ্ঠী রয়েছে তারাই মূলত পুষ্টিহীনতায় ভোগেন বেশি। তবে ক্রয়ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে পুষ্টিহীনতাযয় ভুগছেন একটি বড় জনগোষ্ঠী। পুষ্টিবিদদের মতে, একেক বয়সে পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা একেক রকম থাকে। এর মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালে এবং গর্ভধারণের সময় নারীদের পুষ্টির চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে বাংলাদেশে মা ও শিশুর পুষ্টির দিকটি যেভাবে নজরে রাখা হয়, বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়ের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ গুরুত্ব পায় না। এছাড়া প্রবীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির দিকটিও অবহেলিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখনো দুই কোটি ১০ লাখ মানুষের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতা নেই। শতাংশের হিসাবে এটি বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১৩%।

তবে এই হারকে খুব একটা উদ্বেগজনক ভাবছেন না পুষ্টিবিদ তনিমা শারমিন। উদ্বেগের বিষয় হলো যে ৮৭% মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রয়েছে, তাদেরও একটি বড় অংশ পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন। সেটা শুধুমাত্র সচেতনতা ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্যতার অভাবে।

এই গবেষণা বাংলাদেশের খাদ্যরীতি, খাদ্যের পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাদ্য কিনতে বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বিষয়ে নতুন কিছু দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হয়।

পুষ্টিহীনতা দূর করতে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারকে সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের খাদ্যনীতি, কৃষিনীতিতে খাদ্য উৎপাদনে যত জোর দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে গেছে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যক্তিপর্যায়ে অভ্যাস পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক পরিবর্তনও দরকার আছে।

Facebook Comments Box
×
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com