বাংলাদেশের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, মাদারীপুর ও পটুয়াখালীতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়টি অনেকটা দুর্বল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন লাখ লাখ মানুষ। আর ঘূর্ণিঝড়ের […]
বাংলাদেশের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরিশাল, মাদারীপুর ও পটুয়াখালীতে ৮ জন নিহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। ঘূর্ণিঝড়টি অনেকটা দুর্বল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন লাখ লাখ মানুষ।
আর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে গাছপালা ভেঙে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিনত হয়েছে। এ কারণে মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রামে মহাবিপদ সংকেত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নৌযান চলাচলে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। রোববার আবহাওয়া দপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দীন আহমেদ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
পাঁচ জেলায় নিহত ৭ জনের মধ্যে পরিচয় মিলেছে ৪ জনের। নিহতরা হলেন- খুলনার উপকূলীয় দাকোপ উপজেলায় প্রমিলা মন্ডল (৫২)। খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় সেনহাটি গ্রামে আলমগীর হোসেন (৩৫)। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের উত্তর রামপুরা গ্রামে হামেদ ফকির (৬৫) ও বরগুনা সদর উপজেলার হালিমা খাতুন (৬৫)।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। বিধ্বস্ত হয়েছে ৫০ হাজার ঘরবাড়ি। দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। তবে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার কোথাও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। উপকূলীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলেও কমবেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বলেন, এলাকায় একটি ঘরবাড়িও নেই। এখানকার বেশিরভাগ ঘরবাড়িই হচ্ছে মাটির তৈরি। দুই একটি টিনের। মাটির তৈরি ঘরবাড়ি ও টিনের ঘরবাড়ি সব বিধ্বস্ত হয়েছে। আমার ইউনিয়নে পাঁচ হাজারেরও অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এলাকার মাছের ঘেরগুলো সব ভেসে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে একই উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন, ইউনিয়নের দুই হাজারেরও অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাটির তৈরি কোনো ঘরবাড়িই ভালো নেই। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। মাছের ঘেরগুলোও ভেসে গেছে।
এদিকে আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জানান, হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মানুষের থাকার জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
রোববার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল ঘূর্ণঝড়ে সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা কন্ট্রোল রুমের তত্ত্বাবধায়ক জেলা ডিআরআরও প্রশান্ত কুমার রায় জানান, জেলাব্যাপী ৫০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৬০টি ঘর। সম্পূর্ণরুপে বিধ্বস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৫৮০টি ঘরবাড়ি। এছাড়া জেলার কোথাও কোনো হাতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
| রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র | শনি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | |
| ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | ||