ঢাকা , বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
রাসেল ও সোহেল এর নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন বড়লেখায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিজ বাড়িতে দুই ভাই খুন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পর্তুগাল বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বড়লেখা বিএনপির গ্রুপিং, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দুতাবাস পর্তুগাল মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পর্তুগাল বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাজা দো বাংলাদেশ’র উদ্যোগে পর্তুগালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন পর্তুগালে নতুন বেতন বিপ্লব: মন্টিনিগ্রোর উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপরেখা তারেক রহমান হবেন বাংলাদেশের মাহাথির মোহাম্মদ :দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

ট্রেনের নিচে স্বামীর ঝাঁপ দেয়ার শব্দ শুনলেন মোবাইল ফোন কলে থাকা স্ত্রী

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮
  • / ১০৭৪ টাইম ভিউ

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র ২ মিনিট পরে আমি চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি। তুমি সুখে থাকিও। বলেই মোবাইল ফোনকলে স্ত্রীকে রেখে স্বামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। ২-৪ মিনিটের ব্যবধানে স্ত্রী আবার ফোন করে স্বামীর মোবাইলে। জানতে চান তার স্বামী কোথায়? ততক্ষণে স্বামীর দেহের উপর দিয়ে চলে গেছে দ্রুতগামী ট্রেন। রেললাইনের ভেতর বাইরে পড়ে ছিলো খন্ডবিখন্ড দেহ। স্বামীর এই নির্মম পরিণতি শুনে মোবাইলের অপরপ্রান্তে থাকা স্ত্রী ঝুমা রানী দাসও মুর্চা যান।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া রেলওয়ে থানা সুত্রে জানা যায়, ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে কুলাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার বিহালা গ্রামের কাছে ট্রেন লাইনে। ভুলন দাস (৩২) নামক যুবক সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।

মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে রেলওয়ে পুলিশ পরিবারের লোকজনের কাছে খবর দেয়। রাত ৮টায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসে। ২১ ডিসেম্বর সকালে নিহত ভুলনের স্ত্রী জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে আসলে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করে রেলওয়ে পুলিশ।
রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেক জানান, পারিবারিক কলেহরে জের ধরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ট্রেন লম্বা হুইছেল বাজালেও ভুলন দাস রেললাইন থেকে সরেননি। লাইনের পাশে চাদরের উপরে নিজের মোবাইল ও সাথে থাকা টাকা আলগা করে রাখা ছিলো বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের  মেওয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত খোকন দাসের পুত্র ভুলন দাস। তিনি পেশায় একজন পল্লীচিকিৎসক। বর্তমানে বিয়ানী বাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ বাজারে ডর্ক্টস চেম্বার নামে তার একটি নিজস্ব ফার্মেসী রয়েছে। যেখানে বসে তিনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। বিয়ে করেছেন বছর দুয়েক আগে। স্ত্রী একজন স্কুল শিক্ষিকা।

স্থানীয় সুতে জানা যায়, ভুলন দাস ৪-৫ বছর আগে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে আহমদ ফার্মেসী ও কুলাউড়া উপজেলার সুরমা ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

পোস্ট শেয়ার করুন

ট্রেনের নিচে স্বামীর ঝাঁপ দেয়ার শব্দ শুনলেন মোবাইল ফোন কলে থাকা স্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৮

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র ২ মিনিট পরে আমি চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি। তুমি সুখে থাকিও। বলেই মোবাইল ফোনকলে স্ত্রীকে রেখে স্বামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন। ২-৪ মিনিটের ব্যবধানে স্ত্রী আবার ফোন করে স্বামীর মোবাইলে। জানতে চান তার স্বামী কোথায়? ততক্ষণে স্বামীর দেহের উপর দিয়ে চলে গেছে দ্রুতগামী ট্রেন। রেললাইনের ভেতর বাইরে পড়ে ছিলো খন্ডবিখন্ড দেহ। স্বামীর এই নির্মম পরিণতি শুনে মোবাইলের অপরপ্রান্তে থাকা স্ত্রী ঝুমা রানী দাসও মুর্চা যান।

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া রেলওয়ে থানা সুত্রে জানা যায়, ২০ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে কুলাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার বিহালা গ্রামের কাছে ট্রেন লাইনে। ভুলন দাস (৩২) নামক যুবক সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন।

মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে রেলওয়ে পুলিশ পরিবারের লোকজনের কাছে খবর দেয়। রাত ৮টায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুলাউড়া রেলওয়ে থানায় নিয়ে আসে। ২১ ডিসেম্বর সকালে নিহত ভুলনের স্ত্রী জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে আসলে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করে রেলওয়ে পুলিশ।
রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মালেক জানান, পারিবারিক কলেহরে জের ধরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ট্রেন লম্বা হুইছেল বাজালেও ভুলন দাস রেললাইন থেকে সরেননি। লাইনের পাশে চাদরের উপরে নিজের মোবাইল ও সাথে থাকা টাকা আলগা করে রাখা ছিলো বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সিলেট জেলার বিয়ানী বাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের  মেওয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত খোকন দাসের পুত্র ভুলন দাস। তিনি পেশায় একজন পল্লীচিকিৎসক। বর্তমানে বিয়ানী বাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের দুবাগ বাজারে ডর্ক্টস চেম্বার নামে তার একটি নিজস্ব ফার্মেসী রয়েছে। যেখানে বসে তিনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। বিয়ে করেছেন বছর দুয়েক আগে। স্ত্রী একজন স্কুল শিক্ষিকা।

স্থানীয় সুতে জানা যায়, ভুলন দাস ৪-৫ বছর আগে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে আহমদ ফার্মেসী ও কুলাউড়া উপজেলার সুরমা ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।