জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিখ্যাত ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত হয়েছে। সোমবার প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতর থেকে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এ কথা ঘোষণা করেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বিশ্ব এখন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু […]
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিখ্যাত ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত হয়েছে।
সোমবার প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতর থেকে সংস্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এ কথা ঘোষণা করেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বিশ্ব এখন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ সম্পর্কে আরও বড়পরিসরে জানবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ আপসহীন আন্দোলনের একপর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
ওই দিন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারী স্লোগানের উদ্যমতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত পত করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ পতাকা। লাখো শপথের বজ্রমুষ্ঠি উত্থিত হয় আকাশে।
সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনও মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন। পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির কণ্ঠে ‘তোমার দেশ, আমার দেশ, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ, তোমার নেতা-আমার নেতা- শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতা ও গেরিলাযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। এর পরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বজ্র নিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যান কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে।
ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ ৭৮টি আলোচিত বিষয়কে মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে সংস্থাটির বিশ্ব ঐতিহ্যবিষয়ক কর্মসূচির আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কমিটি (আইএসি)।
সুপারিশে ৭৮টি দলিলের তালিকার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি রয়েছে ৪৮ নম্বরে।
এখন পর্যন্ত বিশ্বের সব মহাদেশের ৪২৭টি দলিল ও ঐতিহাসিক সংগ্রহ মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনালের তালিকাভুক্ত হয়েছে।
কোনো দলিলকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে ওই দলিলের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক প্রভাবের বিষয়টি স্বীকৃত হয়।
আর এ তালিকাভুক্ত করার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহাসিক ঘটনার সংরক্ষণ ও সবার কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
জানা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল আর্কাইভের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আল রাইজির নেতৃত্বে এবারের আইএসিতে ছিলেন ১৫ বিশেষজ্ঞ। তারা দুই বছরের প্রক্রিয়া শেষে ২০১৬-১৭ সালের জন্য নতুন দলিলগুলোকে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ করেন।
মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ইউনেস্কোর ৩৯তম অধিবেশনে সুপারিশকৃত ৭৮টি দলিল মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
| রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র | শনি |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ২ | ৩ | ৪ | |||
| ৫ | ৭ | ৮ | ৯ | ১০ | ১১ | |
| ১ | ১৩ | ৪ | ১৫ | ১৬ | ১ | ৮ |
| ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ | ২৩ | ২৪ | ২৫ |
| ২৬ | ২৭ | ২ | ৯ | ৩০ | ||