ঢাকা , বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
রাসেল ও সোহেল এর নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন বড়লেখায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিজ বাড়িতে দুই ভাই খুন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পর্তুগাল বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বড়লেখা বিএনপির গ্রুপিং, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দুতাবাস পর্তুগাল মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পর্তুগাল বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাজা দো বাংলাদেশ’র উদ্যোগে পর্তুগালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন পর্তুগালে নতুন বেতন বিপ্লব: মন্টিনিগ্রোর উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপরেখা তারেক রহমান হবেন বাংলাদেশের মাহাথির মোহাম্মদ :দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুলের বাড়ি কুলাউড়ায় শোকের মাতম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • / ২৪৬ টাইম ভিউ

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুলের বাড়ি কুলাউড়ায় শোকের মাতম…

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের একটি অফিস টাওয়ারে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) অফিসার ছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী দিদারুল ইসলাম (৩৬)। শহরের মেয়র এরিক অ্যাডামস ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে অন্যদের রক্ষা করেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ম্যানহাটনের মিডটাউনে একটি অফিস ভবনে বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, যাতে দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত হন। পরে বন্দুকধারী নিজেও আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আজ আবারও অকারণে বন্দুক সহিংসতার বলি হলাম। চারটি জীবন চলে গেছে, তার মধ্যে একজন আমাদের পুলিশ বিভাগের সদস্য—অফিসার দিদারুল ইসলাম।”

অ্যাডামস জানান, “অফিসার ইসলাম প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এনওয়াইপিডিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিউইয়র্কবাসীদের রক্ষা করছিলেন, জীবন বাঁচাচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্বাসী মানুষ ও ঈশ্বরে আস্থাশীল।”

অ্যাডামস আরও জানান, সোমবার রাতে তিনি দিদারুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন যে দিদার ছিলেন একজন সত্যিকারের বীর।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, দিদারুল ইসলাম ছিলেন বিবাহিত, তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে তৃতীয় সন্তান গর্ভে ধারণ করেছেন। তিনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠান্ডা মাথায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।”

ঘটনার সময় ইসলাম ঐ ভবনে একটি পেইড সিকিউরিটি ডিটেইলে কাজ করছিলেন। এই ধরনের ডিটেইলে অফিসাররা পোশাক পরেই করপোরেট অফিসগুলোর অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন।

ন্যাশনাল ল’ এনফোর্সমেন্ট অফিসারস মেমোরিয়াল ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪২ জন ফেডারেল, স্টেট, কাউন্টি, মিউনিসিপাল ও সামরিক বাহিনীর সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন। দিদারুল ইসলাম এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।

বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এই মৃত্যু গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়েছেন।

এদিকে, পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম নিহতের খবরে বাংলাদেশে তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চলছে শোকের মাতম। দিদারুলের বাড়ি কুলাউড়া পৌর শহরের মাগুরা এলাকায়।

পোস্ট শেয়ার করুন

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুলের বাড়ি কুলাউড়ায় শোকের মাতম

আপডেটের সময় : ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

নিউইয়র্কে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুলের বাড়ি কুলাউড়ায় শোকের মাতম…

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের একটি অফিস টাওয়ারে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) অফিসার ছিলেন বাংলাদেশি অভিবাসী দিদারুল ইসলাম (৩৬)। শহরের মেয়র এরিক অ্যাডামস ও পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ তাকে ‘নায়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে অন্যদের রক্ষা করেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) ম্যানহাটনের মিডটাউনে একটি অফিস ভবনে বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি চালায়, যাতে দিদারুল ইসলামসহ চারজন নিহত হন। পরে বন্দুকধারী নিজেও আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আজ আবারও অকারণে বন্দুক সহিংসতার বলি হলাম। চারটি জীবন চলে গেছে, তার মধ্যে একজন আমাদের পুলিশ বিভাগের সদস্য—অফিসার দিদারুল ইসলাম।”

অ্যাডামস জানান, “অফিসার ইসলাম প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে এনওয়াইপিডিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিউইয়র্কবাসীদের রক্ষা করছিলেন, জীবন বাঁচাচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্বাসী মানুষ ও ঈশ্বরে আস্থাশীল।”

অ্যাডামস আরও জানান, সোমবার রাতে তিনি দিদারুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন যে দিদার ছিলেন একজন সত্যিকারের বীর।

পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, দিদারুল ইসলাম ছিলেন বিবাহিত, তার দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে তৃতীয় সন্তান গর্ভে ধারণ করেছেন। তিনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠান্ডা মাথায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।”

ঘটনার সময় ইসলাম ঐ ভবনে একটি পেইড সিকিউরিটি ডিটেইলে কাজ করছিলেন। এই ধরনের ডিটেইলে অফিসাররা পোশাক পরেই করপোরেট অফিসগুলোর অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন।

ন্যাশনাল ল’ এনফোর্সমেন্ট অফিসারস মেমোরিয়াল ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪২ জন ফেডারেল, স্টেট, কাউন্টি, মিউনিসিপাল ও সামরিক বাহিনীর সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত হয়েছেন। দিদারুল ইসলাম এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন।

বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এই মৃত্যু গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে দিদারুল ইসলামের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তার পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়েছেন।

এদিকে, পুলিশ সদস্য দিদারুল ইসলাম নিহতের খবরে বাংলাদেশে তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় চলছে শোকের মাতম। দিদারুলের বাড়ি কুলাউড়া পৌর শহরের মাগুরা এলাকায়।