ঢাকা , বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
রাসেল ও সোহেল এর নেতৃত্বে সংযুক্ত আরব আমিরাত জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন পর্তুগালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন বড়লেখায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিজ বাড়িতে দুই ভাই খুন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পর্তুগাল বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বড়লেখা বিএনপির গ্রুপিং, কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া সমাধান সম্ভব নয় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দুতাবাস পর্তুগাল মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পর্তুগাল বিএনপির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কাজা দো বাংলাদেশ’র উদ্যোগে পর্তুগালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন পর্তুগালে নতুন বেতন বিপ্লব: মন্টিনিগ্রোর উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপরেখা তারেক রহমান হবেন বাংলাদেশের মাহাথির মোহাম্মদ :দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

বিশ্বসেরা শিক্ষকের পুরস্কার পেলেন কেনিয়ার পিটার

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
  • আপডেটের সময় : ০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯
  • / ১০৩১ টাইম ভিউ

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ আফ্রিকার দরিদ্র দেশ কেনিয়ার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন তিনি। শিক্ষকতা করে যে বেতন পেতেন তার আশিভাগ গরিব-দুঃখী ছাত্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় এই মানুষটিই জিতেছেন বিশ্বের সেরা শিক্ষকের পুরস্কার। যার আর্থিক মূল্য দশ লাখ ডলার। কেনিয়ার গ্রস্ত উপত্যকায় খরা আর দুর্ভিক্ষের মাঝে স্বপ্ন চাষ করেন গণিত ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক পিটার তাবিছি (৩৬)। প্রত্যন্ত এই গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে কচিকাঁচাদের পড়ান তিনি।

তার কল্যাণে ওই কচিকাঁচারা হয়ে উঠেছে বিশ্বসেরা। খালিজ টাইমস জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে দুবাইয়ে বলিউড অভিনেতা হফ জ্যাকম্যানের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তাকে দেয়া হয় দশ লাখ ডলারের পুরস্কার। তাবিছি বলেন, ‘এই পুরস্কারটি শুধু আমাকেই স্বীকৃতি দেয় না, এই মহান মহাদেশের তরুণদেরও স্বীকৃতি দেয়। আমার শিক্ষার্থীরা যা অর্জন করেছে তার কারণেই আমি আজ এখানে।’ সারা বিশ্ব থেকে এই পুরস্কারের ৯ জন চূড়ান্ত দাবিদারকে পরাজিত করার পরে তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরস্কারটি তাদেরকে একটি সুযোগ দিয়েছে। এই পুরস্কার বিশ্বকে জানান দেয় যে এরাও কিছু করতে পারে।’ দুবাইয়ের ভার্কে ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রায় ৯৫ শতাংশ স্কুল ছাত্রছাত্রী দরিদ্রতম পরিবার থেকেই আসে। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই অনাথ-এতিম। অনেকে বাড়িতে খাবার খেতেই পায় না। মাদকাসক্তি, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যা তাদের সাধারণ সমস্যা। স্কুলে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন ছাত্রকে প্রায় ৭ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়।

এই স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষক অনুপাত ৫৮:১। এখানে ইন্টারনেট সংযোগসহ একটিই মাত্র ডেস্কটপ কম্পিউটার রয়েছে। আর তাবিছি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতেই তার বেতনের ৮০ শতাংশই ব্যয় করেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনয়াত্তা এক ভিডিও বার্তাতে তাবিছিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনার গল্প সমগ্র আফ্রিকার গল্প। আমাদের আফ্রিকা, বহু প্রতিভার আঁতুড়ঘর।’

পোস্ট শেয়ার করুন

বিশ্বসেরা শিক্ষকের পুরস্কার পেলেন কেনিয়ার পিটার

আপডেটের সময় : ০২:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ আফ্রিকার দরিদ্র দেশ কেনিয়ার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন তিনি। শিক্ষকতা করে যে বেতন পেতেন তার আশিভাগ গরিব-দুঃখী ছাত্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় এই মানুষটিই জিতেছেন বিশ্বের সেরা শিক্ষকের পুরস্কার। যার আর্থিক মূল্য দশ লাখ ডলার। কেনিয়ার গ্রস্ত উপত্যকায় খরা আর দুর্ভিক্ষের মাঝে স্বপ্ন চাষ করেন গণিত ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক পিটার তাবিছি (৩৬)। প্রত্যন্ত এই গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যে কচিকাঁচাদের পড়ান তিনি।

তার কল্যাণে ওই কচিকাঁচারা হয়ে উঠেছে বিশ্বসেরা। খালিজ টাইমস জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে দুবাইয়ে বলিউড অভিনেতা হফ জ্যাকম্যানের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়। তাকে দেয়া হয় দশ লাখ ডলারের পুরস্কার। তাবিছি বলেন, ‘এই পুরস্কারটি শুধু আমাকেই স্বীকৃতি দেয় না, এই মহান মহাদেশের তরুণদেরও স্বীকৃতি দেয়। আমার শিক্ষার্থীরা যা অর্জন করেছে তার কারণেই আমি আজ এখানে।’ সারা বিশ্ব থেকে এই পুরস্কারের ৯ জন চূড়ান্ত দাবিদারকে পরাজিত করার পরে তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরস্কারটি তাদেরকে একটি সুযোগ দিয়েছে। এই পুরস্কার বিশ্বকে জানান দেয় যে এরাও কিছু করতে পারে।’ দুবাইয়ের ভার্কে ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রায় ৯৫ শতাংশ স্কুল ছাত্রছাত্রী দরিদ্রতম পরিবার থেকেই আসে। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই অনাথ-এতিম। অনেকে বাড়িতে খাবার খেতেই পায় না। মাদকাসক্তি, অল্প বয়সে গর্ভধারণ, স্কুল থেকে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যা তাদের সাধারণ সমস্যা। স্কুলে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন ছাত্রকে প্রায় ৭ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়।

এই স্কুলে পড়ুয়া শিক্ষক অনুপাত ৫৮:১। এখানে ইন্টারনেট সংযোগসহ একটিই মাত্র ডেস্কটপ কম্পিউটার রয়েছে। আর তাবিছি শিক্ষার্থীদের স্কুলে ধরে রাখতেই তার বেতনের ৮০ শতাংশই ব্যয় করেন। কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনয়াত্তা এক ভিডিও বার্তাতে তাবিছিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনার গল্প সমগ্র আফ্রিকার গল্প। আমাদের আফ্রিকা, বহু প্রতিভার আঁতুড়ঘর।’