Advertise with us
আপনার এলাকার খবর
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

আন্তর্জাতিক
১১:৩৮ অপরাহ্ণ, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন, না করলে সমস্যা কী?

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এবং সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর দিন শেষে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত গোটা জীবনের সব ধরনের কাজের দিক-নির্দেশনা ইসলামে প্রদত্ত হয়েছে। ইসলামের কিছু বিধান এসেছে সরাসরি আল্লাহ মহানের পক্ষ থেকে। যাকে আমরা পবিত্র কুরআনের মাঝে পেয়ে থাকি। এছাড়া ইসলামের আরো কিছু বিধান সাব্যস্ত হয়েছে […]

জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন, না করলে সমস্যা কী?
দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
৩ মিনিটে পড়ুন |

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এবং সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পর দিন শেষে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত গোটা জীবনের সব ধরনের কাজের দিক-নির্দেশনা ইসলামে প্রদত্ত হয়েছে। ইসলামের কিছু বিধান এসেছে সরাসরি আল্লাহ মহানের পক্ষ থেকে। যাকে আমরা পবিত্র কুরআনের মাঝে পেয়ে থাকি। এছাড়া ইসলামের আরো কিছু বিধান সাব্যস্ত হয়েছে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবন যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে জেনে রাখার বিষয় হলো- রাসূলের (সা.) জীবন যাপন প্রক্রিয়াও মূলত আল্লাহ মহানের নির্দশনায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
মুসলিম সমাজে এখন পবিত্র হজের পবিত্র আবহ বিরাজ করছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে অনেকেই সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। পবিত্র হজ পালনের মৌসুমে কিছু বিষয় বা বস্তু নিয়ে বিশ্বব্যাপি আলোচনা হয়। তার মাঝে জমজমের কূপের পানির বিষয়টি অন্যতম। এমন কোনো হাজি সাহেব পাওয়া যাবে না, যিনি হজ শেষে পবিত্র এই কূপের পানি সঙ্গে করে না নিয়ে আসেন। জমজম কূপের পানি আল্লাহ মহান প্রদত্ত একটি নেয়া্মত। আমরা জানি, সাধারণত পানি বসে পান করা সুন্নাত। কিন্তু জমজমের পানি দাঁড়িয়ে খাওয়ার বিধান রয়েছে ইসলামে। এটা কেন? এই বিধান কতটুকু কোরআন-হাদিস সম্মত?

সাধারণত বা স্বাভাবিক নিয়মে পানি বসে পান সুন্নাত। এ ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর হাদিস রয়েছে এবং এ বিষয়টির প্রতি রাসূল (সা.) গুরুত্বারোপও করেছেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করাকে তিরস্কার করেছেন। (মুসলিম শরীফ ৫১১৩, বাংলা, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত)G। এছাড়া হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- তোমাদের কেউ যেন দাঁড়িয়ে পান না করে। (মুসলিম শরীফ ৫১১৮, বাংলা, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত) সুতরাং পানি বসে খাওয়া সুন্নাত এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ বা সমস্যা নেই।

এখন প্রশ্ন হলো জমজমরে কূপের পানি বসে পান করতে হবে নাকি দাঁড়িয়ে পান করতে হবে- এ ব্যাপারে ইসলামি দিক-নির্দেশনা কী? হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলকে (সা.) জমজমের পানি পান করিয়েছি। তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছেন। [বুখারি ১৬৩৭, ৫৬১৭, মুসলিম ২০২৭, তিরমিযি ১৮৮২]

এছাড়া রাসূল (সা.) থেকে আরো আলোচনা পাওয়া যায়। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- জমজমের পানি যে জন্য পান করা হয়ে থাকে; তা সে জন্যই হবে । অর্থ্যাৎ জমজমের পানি পান যে উদ্দেশ্যে পান করা হবে তাই পূর্ণ হতে পারে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩০৬২; মুসনাদে আহমাদ, ১৪৮৪৯)। বিজ্ঞ ফকিহ বা ইসলামী স্কলারদের মতে, জমজমের পানি কিবলা দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে পান করা সুন্নাত না, মুস্তাহাব একটি আমল এবং এটাকে খুব গুরুত্ব প্রদান করা বা আবশ্যক ভাবা ঠিক না। এছাড়া অন্য ফকিহরা বলেছেন, জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করা মুস্তাহাবও না, বরং জায়েজ । (ফাতওয়ায়ে শামী-১/২৫৪-২৫৫)

জমজম কূপের পানি রাসূল (সা.) দাঁড়িয়ে পান করেছেন, মর্মে সহিহ হাদিস রয়েছে। তবে তিনি জমজমরে পানি দাঁড়িয়ে পান করার নিদের্শ দিয়েছেন এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই বা খুঁজে পাওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো রাসূল (সা.) জমজমের পানি পান করার জন্য দাঁড়িয়েছেন, ব্যাপারটি এমন নয়। যখন তিনি জমজমরে পানি পন করেছেন, তখন সেখানে বসার মতো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে রাসূল (সা.) দাঁড়িয়ে জমজমের পানি পান করেছেন। সুতরাং বিষয়টিকে খুব কঠিনভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং জমজমের পানিকে দাঁড়িয়ে পান করার বিধান বানানো বা আবশ্যক ভাবার কোনো অবকাশও নেই। রাসুল (সা.) পরিস্থিতির কারণে জমজমরে পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার পর বা বসার ব্যবস্থা থাকার জমজমরে দাঁড়িয়ে পান না করাই উচিত।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com