Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

লাইফস্টাইল
১২:৫৪ অপরাহ্ণ, ১০ আগস্ট ২০২০

করোনায় ঢাকার দুই সিটিতে প্রতিদিন বিয়েবিচ্ছেদ গড়ে ৫১ (ডিভোর্স)

অনলাইন ডেস্ক : করোনা থেকে বাঁচতে মানুষকে বেশিরভাগ সময় থাকতে হচ্ছে গৃহবন্দি। গৃহবন্দি অবস্থায় গৃহবিবাদও বাড়ছে সমানতালে। ফলে ঘটছে বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে গড়ে ৫১টি বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। কোভিড-১৯ সংকটের মধ্যে বিয়েবিচ্ছেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বাধ্যতামূলক নৈকট্যকেই দায়ী করা হচ্ছে। বিষয়টি ‘উদ্বেগের’ উল্লেখ করে […]

করোনায় ঢাকার দুই সিটিতে প্রতিদিন বিয়েবিচ্ছেদ গড়ে ৫১ (ডিভোর্স)
অনলাইন ডেস্ক
২ মিনিটে পড়ুন |

অনলাইন ডেস্ক : করোনা থেকে বাঁচতে মানুষকে বেশিরভাগ সময় থাকতে হচ্ছে গৃহবন্দি। গৃহবন্দি অবস্থায় গৃহবিবাদও বাড়ছে সমানতালে। ফলে ঘটছে বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটিতে গড়ে ৫১টি বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। কোভিড-১৯ সংকটের মধ্যে বিয়েবিচ্ছেদ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বাধ্যতামূলক নৈকট্যকেই দায়ী করা হচ্ছে।

বিষয়টি ‘উদ্বেগের’ উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাধ্যতামূলক ঘরবন্দি জীবন মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে বাড়ছে বিচ্ছেদ। আপসে অনীহা, সমাধান খুঁজে বের করার অনিচ্ছা, এমনকি ধৈর্যধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বাড়ছে ডিভোর্স। বিয়েবিচ্ছেদ সমর্থনযোগ্য না হলেও বাধ্য হয়ে তা করেছেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত রেফাত (ছদ্মনাম)। বাবা-মায়ের পছন্দে দেড় বছর আগে বিয়ে করেন সদ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সুমিকে (ছদ্মনাম)। বিয়ের পর মাসখানেক ভালো সময় কাটালেও এরপর একটু একটু করে শুরু হয় ঝামেলা। পরস্পরের মতের অমিল চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে লকডাউনে সারাদিন একসঙ্গে থাকতে গিয়ে। একপর্যায়ে দুজনেই অতিষ্ঠ হয়ে সিদ্ধান্ত নেন ডিভোর্সের। পরিবারের সমর্থনেই সুমি ডিভোর্স দেন রেফাতকে।

দীর্ঘ প্রেমের পরিণতি বিয়েও ভেঙে গেছে এ লকডাউনের মধ্যে। এমনই এক দম্পতি ছিলেন ফারজানা (ছদ্মনাম) ও ফয়সাল (ছদ্মনাম)। ৮ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর বছর দু-এক আগে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। দুজনই চাকরিজীবী। শুরুর এক বছর কাটে স্বপ্নের মতো। কিন্তু দ্বিতীয় বছর থেকেই বাধে বিপত্তি। লকডাউনের গত ৪ মাস একসঙ্গে থাকতে গিয়ে বুঝতে পারেন তারা আসলে ভিন্ন মেরুর। ছোট ছোট অমিল এই সময়ে রূপ নেয় বড় আকারে। এরপর জুলাই মাসে উভয়েই সিদ্ধান্ত নেন ডিভোর্সের।

শুধু রেফাত বা ফারজানা নয়, এমন বিচ্ছেদের ঘটনা এখন অনেক ঘটেছে। এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হঠাৎ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনাচরণেই পরিবর্তন এসেছে। দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা, অসিষ্ণুতা। কবে এ থেকে মুক্তি মিলবে, তাও জানা নেই কারও। ফলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ভাবনা মানুষের মেজাজকে করে তুলছে খিটখিটে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবারের সদস্যদের ওপরে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডিভোর্সের ঘটনা ঘটেছে ৫৬৩টি। আগস্টে ৫৪৫টি। সেপ্টেম্বরে ৫৪১টি। অক্টোবরে ৮২০টি। নভেম্বরে ৪৫৩টি। ডিসেম্বরে ৪৯৮টি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিচ্ছেদ হয় ৫২৮টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫২টি, মার্চে ৪৯২টি। এপ্রিলে অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় এ মাসে তালাকের সংখ্যা শূন্য। মে মাসে ১১৩টি, জুনে ৪৪১টি এবং জুলাইয়ে সর্বোচ্চ ৮৭৮টি বিয়েবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৫১৪টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬১৮টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪১ ও মার্চে ৪৫৫টি। এপ্রিলে কোনো তালাক কার্যকর হয়নি। মে-তে ৫৪টি, জুনে ৬৩২টি ও জুলাইয়ে ৬৫৪টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com