Advertise with us
আপনার এলাকার খবর
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

লাইফস্টাইল
১০:২০ অপরাহ্ণ, ৯ জুলাই ২০১৯

সন্তানের জন্য টানা ৪৫ বছর রোজা রাখা সেই মায়ের মৃত্যু

কেবল মা-ই পারেন সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু বিসর্জন দিতে। সন্তানের ভালোর জন্য নিজের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ সব ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র চিন্তা করেন না একজন মা। এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ঝিনাইদহের সুখিরন নেছা (৭৫)। সন্তানের জন্য টানা ৪৫ বছর রোজা পালন করেছেন তিনি। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত ধর্মীয় বিধি-বিধান […]

সন্তানের জন্য টানা ৪৫ বছর রোজা রাখা সেই মায়ের মৃত্যু
দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
২ মিনিটে পড়ুন |

কেবল মা-ই পারেন সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু বিসর্জন দিতে। সন্তানের ভালোর জন্য নিজের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ সব ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র চিন্তা করেন না একজন মা। এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ঝিনাইদহের সুখিরন নেছা (৭৫)। সন্তানের জন্য টানা ৪৫ বছর রোজা পালন করেছেন তিনি। হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে রোজা রেখেছেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠ মায়েদের আসনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সন্তানের মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে স্রষ্টার প্রতি আনুগত্য পালন করা এ মা বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার বিকাল ৫টার দিকে মারা যান (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের স্ত্রী সুখিরন নেছা। ছেলেকে ফিরে পেয়ে দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে রোজা রাখা এ মা ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর দিন রাতেই গ্রামের গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে তার।

সুখিরন নেছার হারিয়ে যাওয়া বড় ছেলে শহিদুল ইসলামকে ফিরে পাওয়ার পরে প্রায় ৪৫ বছর ধরে টানা রোজা পালন করেছেন। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত রোজা রাখবেন এমন সংকল্প ছিল তার।

১৯৭৫ সাল। বড় ছেলে শহিদুলের বয়স তখন মাত্র ১১ বছর। কোনো এক সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরও কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে।

মা সুখিরন পাগলের মতো এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। কিছুতেই শহিদুলকে যখন ফিরে পাওয়া গেল না, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রোজা রাখবেন সুখিরন।

মৃত্যুর আগে সুখিরন নেছা বলেছিলেন, এই সিদ্ধান্ত নেয়ার চারদিন পর ছেলে শহিদুল ইসলাম বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ির উঠুনে দাঁড়িয়ে মা বলে চিৎকার করে ওঠে তার নাড়িছেঁড়া ধন। সেই থেকে রোজা রেখেছেন মা সুখিরন।

চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে পড়েছেন মা সুখিরন। মা শুধু সন্তানকে দিতেই জানে, নিতে জানে না। মা সুখিরন পৃথিবীতে ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন।

হাটগোপালপুর গ্রামের মঞ্জুর ঢালী বলেন, আমার বুদ্ধি জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই দেখছি সুখিরন নেছা রোজা রাখছেন। শত অভাব অনটনের মধ্যে পরের বাড়িতে কাজ করে ছেলেমেয়েদের বড় করেছেন তিনি। ধর্মের বিধান মেনে রোজা রেখেছেন।

সুখিরন নেছার ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার মা আমার জন্য এত কষ্ট করেছেন। তিনি আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com