Advertise with us
আপনার এলাকার খবর
সম্পূর্ণ নিউজ deshdiganto.com

স্লাইডার
৯:৪৮ অপরাহ্ণ, ৩১ জানুয়ারি ২০২০

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩, বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২১৩ জন মারা গেছে। এছাড়া দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত দশ হাজার। এদিকে চীনের বাইরেও বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৮ দেশে ৯৮ জনের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তবে ওইসব দেশে কেউ মারা যায়নি। অন্যান্য […]

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১৩, বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা
৪ মিনিটে পড়ুন |

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২১৩ জন মারা গেছে। এছাড়া দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত দশ হাজার।

এদিকে চীনের বাইরেও বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৮ দেশে ৯৮ জনের এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তবে ওইসব দেশে কেউ মারা যায়নি।

অন্যান্য দেশে যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই চীনের উহান শহরে ভ্রমণ করেছিল। আর এই উহান শহর থেকেই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এছাড়া জার্মানি, জাপান, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে আট জনের মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. টেডরস এ ভাইরাসকে অভূতপূর্ব প্রাদুর্ভাব হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি অভাবনীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে চলেছে। এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চীনা কর্তৃপক্ষের ‘অসাধারণ পদক্ষেপের’ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।

এদিকে বৃহস্পতিবার এক জরুরি বৈঠকের পর বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান টেডরস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, ‘এ ভাইরাসের সংক্রমণে চীনে যা ঘটছে সে কারণে এই ঘোষণা নয়, বরং অন্য দেশে এটি ছড়িয়ে পড়ছে এটাই কারণ। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভাইরাসটি দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১০ হাজার : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৩ জনে। এছাড়া এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০০ ছাড়িয়ে গেছে।

হুবেই প্রদেশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরও ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থল উহান শহরে মৃতের সংখ্যা ২০৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া চীনের প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় এক জরুরি বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। খবর সিএনএন, আল জাজিরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইসাস বলেন, এই ঘোষণার মূল কারণ শুধু চীনে কী হচ্ছে তা নয় বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশে কী ঘটছে সেটাও দেখতে হবে।

তিনি বলেন, উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো এই ভাইরাস দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে।

জেনেভায় সংবাদ সম্মেলনে ড. টেড্রোস ভাইরাসটিকে একটি ‘অভূতপূর্ব প্রাদুর্ভাব’ হিসেবে বর্ণনা করেন যা ‘অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া’ সৃষ্টি করছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০টির মতো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ পর্যন্ত চীন, থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, হংকং, সিঙ্গাপুর, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাইওয়ানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইসরায়েলেও এক রোগীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাণকেন্দ্র চীনের মধ্যাঞ্চলের উহান শহর থেকে শত শত বিদেশি নাগরিককে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং নিহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের উহান থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

তবে বিস্তার ঠেকাতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ চীনগামী বিমানের ফ্লাইট বাতিল করছে। এর মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়া, ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফিনএয়ার ইতোমধ্যে চীনগামী বিমানের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।

২০০৩ সালে একই গোত্রের ভাইরাস সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোমের (সার্স) প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় চীনে। সেই সময় সার্সে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবার ছাড়িয়ে গেছে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস। চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ কী : এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর ও শুষ্ক কাশি হতে পারে। এর সপ্তাহখানেক পর শ্বাসকষ্টও দেখা দেয়। অনেক সময় নিউমোনিয়াও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। তবে এসব লক্ষণ মূলত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই জানা গেছে।

সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার একদম প্রাথমিক লক্ষণ কী বা আদৌ তা বোঝা যায় কি-না তা এখনও অজানা। তবে নতুন এই করোনাভাইরাস যথেষ্ট বিপজ্জনক। সাধারণ ঠান্ডা-জ্বরের লক্ষণ থেকে এটি মৃত্যুর দুয়ার পর্যন্তও নিয়ে যেতে পারে।

এই ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে উঠছে কারণ এ বিষয়ে এখনও ভালোভাবে জানা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে এ ভাইরাস কতটা বিপজ্জনক এবং এটা একজন থেকে আরেকজনের শরীরে কীভাবে ছড়িয়ে পড়ছে এ বিষয়গুলো এখনও পরিষ্কার নয়।

এখন পর্যন্ত এটা জানা সম্ভব হয়েছে যে, এ ভাইরাস থেকে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটা অনেক ভয়াবহ হতে পারে। অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষমতা আরও প্রবল হচ্ছে এবং সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন।

Facebook Comments Box
×
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেন্ডার
রবিসোমমঙ্গলবুধবৃহশুক্রশনি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০ 
Advertise with us
আরও deshdiganto.com সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com