দলীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শপথ নিলেন সুলতান মনসুর- কুলাউড়া বিএনপির প্রত্যাখ্যান

- আপডেটের সময় : ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ ২০১৯
- / ১৬২১ টাইম ভিউ
নিজস্ব প্রতিনিধি: দলের সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) বেলা ১১টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জাতীয় সংসদ ভবনে তার দপ্তরে সুলতান মনসুরকে শপথবাক্য পাঠ করান। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর এক সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। জরুরি অবস্থার সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে দলে সনাক্ত হয়ে পড়ার পর যখন দল তাকে কোনো মূল্যায়ন করেনি এবং আওয়ামীলীগের কোথাও কোনো জায়গা হয়নি উনারএমন কি নির্বাচনের জন্য নমিনেশন দেওয়া হয়নি উনাকে ,যখন অনেকবার চেস্টা করেও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান নি ।
তখনই বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে থাকেন,২০১৮ সংসদ নির্বাচনে উনার কৌশল কে সময়ই সহযোগিতা করে, তখন তিনি ড.কামাল হোসেনের সঙ্গে ভেড়ান । আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গণফোরাম গঠনকারী কামাল হোসেন কয়েক বছর আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামে একটি ফোরাম গড়ে তোলার চেস্টা করেন ,এবার নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার সময় গণফোরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া দুটোই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়, আর এই ঐক্য প্রক্রিয়ার হয়ে উনার কৌশল কে কাজে লাগান এবং সফল হন ।
৩০ ডিসেম্বর ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র ছয়টি আসনে জয় পায় বিএনপি। আর গণফোরামের দুটি মিলিয়ে ঐক্যফ্রন্ট পায় মোট আটটি আসন। নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলে তারা। সংসদ।নির্বাচনের প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে। গণফোরামের প্রার্থীদের মধ্যে সুলতান মনসুর ছাড়াও সিলেট-২ আসন থেকে দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে বিজয়ী মোকাব্বির খান। সুলতান মনসুরের সঙ্গে মোকাব্বিরও শপথ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল করে বুধবার তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তিনি শপথ নিচ্ছেন না, দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু রোববার সাংবাদিকদের জানান, তারা (শপথ নিতে) গেলে অবশ্যই আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আইনগত সিদ্ধান্ত যা নেওয়া দরকার, সেগুলো আমরা নেব। মন্টুর ভাষায়, যারা যাচ্ছে তাদের মাথা খারাপ না হলে …. যেখানে মূল দল বলছে, না যাওয়ার কথা। সেখানে দলের পরিপন্থী হয়ে এই কাজ করবে, এটা গ্রহণযোগ্য না। অন্যদিকে শপথ নেওয়ার বিষয়ে সুলতান মনসুর বলেন যারা ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করেছে, তাদের মতামতের গুরুত্ব দিতেই তিনি সংসদে যাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি জনাব আবেদ রাজা সাহেব এ প্রসংঙ্গে জিজ্ঞেস করলে দেশদিগন্ত কে তিনি জানান ঐক্যফ্রন্টের হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করায় স্হানীয় বিএনপি নেতা-কর্মিরা ধানের শীষ প্রতিকের জন্য মরনপন যুদ্ধ করে নির্বাচিত করেছে । আমার বোদগম্য হচ্ছে না, কিসের ভিত্তিতে বা কোন যুক্তিতে সুলতান মনসুর সাহেব বলেন যারা তাকে ভোট দিয়েছে তাদের মতামতে সংসদে যাচ্ছেন । এই ব্যাপারে কুলাউড়া বিএনপির সম্পৃক্ততা নেই, আমি এবং কুলাউড়া বিএনপি ঘৃণাভরে তা প্রত্যাখ্যান করছি ।
মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য, সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক বদরুজামান সজল বলেন দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য কুলাউড়া উপজেলা বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতৃবন্দরা ধানের প্রতিক কে নির্বাচিত করার জন্য কাজ করেছে কোনো ব্যাক্তির নয় । দল ও ঐক্যফ্রন্ট যেখানে সংসদ বর্জন ও নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেখানে কুলাউড়ার ধানের শীষের ভোটাররা সংসদে যাওয়ার সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না । জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা শেখ নিজামুর রহমান টিপু বলেন প্রানপ্রিয় দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য যখন জাতীয়তাবাদী প্রেমীরা উৎকন্ঠায় ছিলো । “সংসদ নির্বাচনে সুলতান মো: মনসুর আহমদ তার প্রতিটি জনসভার ভাষণে বলেছিলেন ধানের শীষে ভোট দেওয়া মানে গনতন্ত্রের প্রতীক বেগম জিয়া’কে ভোট দেওয়া ও উনাকে মুক্ত করা। আর এই মেসেজটি মাঠপর্যায়ের সকলকে পৌছে দেওয়ার আহবান জানান।
তার’ই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিকুলতা উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় নির্দেশেই একটি ভোটেই দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন সেই আশায় ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলো স্হানীয় ভোটার । জনাব সুলতান মনসুর সাহেবের প্রতি কুলাউড়ার মানুষের প্রচন্ড ঘৃনা জন্মেছে এবং কুলাউড়ার ভোটারের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করেছেন তিনি। কিন্তু দেশবাসীর প্রশ্ন উনাকে যারা ভোট দিয়েছে তারা হলো বিএনপি তা সূর্যের মতো দৃশ্যমান । সেখানে স্হানীয় বিএনপির নেতারা শপথ নেওয়ার পক্ষ দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মত দিতে পারেন না বলে জানিয়েছেন । ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে অন্য কোনো দলে যোগ দেননি। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা – সমালোচনা চলছে তাদের নেত্রীকে মুক্তি করার জন্য ভোট চাইলেন এবং বিএনপির আবেগী জনতা বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্তির জন্য ভোট দিলেও সুলতান মনসুর শেখ হাসিনার কাছে প্রিয়ভাজন ও আস্হাভাজন হওয়ার জন্য সংসদে যোগদান করে বিশ্ব নেতৃবৃন্ধের কাছে নির্বাচন সুস্ট হয়েছে প্রমান করতেই সংসদে উনার যোগদান ।