ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
কানাডার প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট ইলেকশন ডলি’র হ্যাটট্রিক জয় ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন লন্ডন বিএনপি নেতা শরফুকে শ্রীমঙ্গলে গণ সংবর্ধনা ইতালির মানতোভা শহরে দুইদিনব্যাপী দূতাবাস সেবা অনুষ্ঠিত ,প্রায় আট শতাধিক প্রবাসীরা এই ক্যাম্প থেকে দূতাবাস সেবা গ্রহণ করেন ইতালিতে এমপি প্রার্থী প্রফেসর ডা: সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম কে চাঁদপুরবাসীর সংবর্ধনা দেশে ফিরছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্হায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানের মৃত্যুতে দোয়া অনুষ্ঠিত কুলাউড়া বিএনপির ১৩ ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা, সমন্বয়কদের দায়িত্ব বন্টন কুলাউড়ায় রাজাপুরে বালু উত্তোলন বন্ধ ও সেতু রক্ষায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত উৎসবমুখর পরিবেশে ইতালির তরিনোতে সিলেট বিভাগ ঐক্য পরিষদের নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ছাত্রশিবিরের নববর্ষ প্রকাশনা উৎসব

‘দম্পত্তি’ হেনস্থার দায়ে এএসআই প্রত্যাহার

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
  • আপডেটের সময় : ০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯
  • / ৯১০ টাইম ভিউ

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, অভিযুক্ত এএসআই ওবাইদুর রহমানকে ক্লোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ থেকে সিলেটে বেড়াতে এসে পুলিশের হেনস্তার শিকার হন এক দম্পতি। নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে পুৃলিশ তাদের আটকে দুর্ব্যবহার করে এবং টাকা কেড়ে নেয় বলে ফেসবুকে অভিযোগ করেছেন তাসলিমা বেগম নামের এক নারী।
ফেসবুকের ওই স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু তোলপাড়। সিলেটের পুলিশ প্রশাসনও এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই মো. ওবাইদুর রহমান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত।
তাসলিমার ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, গত বুধবার সকালে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকা হয়ে দক্ষিণ সুরমাস্থ কদমতলি বাস টার্মিনালে যাচ্ছিলেন তারা। পথিমধ্যে চৌহাট্টায় তাদেরকে আটকে হেনস্থা করে টহল পুলিশ।
ওই নারীর অভিযোগ, একটি সিএনজি অটোরিকশায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। চৌহাট্টায় তাদেরকে আটকে পুলিশ আলাদাভাবে জেরা করে। এসময় অপ্রীতিকর নানা প্রশ্ন করা হয়। পরে টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তাসলিমা নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সিএনজি অটোরিকশায় ৫ জন পুলিশ ছিল। আমার সঙ্গে আমার সাহেব ছিল। সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে আমার সাহেবকে নিয়ে গেলো তাদের গাড়িতে। বলতাছে আপনি একটু আমাদের সঙ্গে আসেন কথা আছে। ওরে নিয়ে গিয়ে আমাকে প্রশ্ন করা শুরু। আপনার কি হয় ওনি? বিয়ে হলো ক’দিন? ছেলে-মেয়ে ক’জন? কি করেন? এখানে কেন আসছেন? তখন আবার চলে গেলো আমার সাহেবের কাছে। ওরেও গিয়ে একই কথা জিজ্ঞেস করা হলো কিন্তু আমার আড়ালে।’
স্ট্যাটাসে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘নাস্তা না করেই গাড়িতে উঠলাম। আমার সাহেব আমার সঙ্গে একটা কথাও বলে না। ১২টা বাজে তাও কথা বলে না। আমি বারবার ওরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি কাজ হয়নি। দুপুরে খাবার বিরতি দিলো। নামলাম খাওয়ার জন্য। ওরে বললাম দেখো আমার সঙ্গে কথা বলছো না কেন? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার সঙ্গে এমনটা করো না। তখন দেখি ওর চোখ ভিজে গেছে। ও বলতাছে জানো আমাকে কি জিজ্ঞেস করেছে? আমাকে বলতাছে কত টাকায় ভাড়া করে নিয়ে আসছেন? আমার সাহেব তখন বললো দেখুন আমার বউটা খুবই ভালো পরিবারের মেয়ে আর আমিও ওরে খুবই যত্ন আর সম্মানে রাখি, আমাকে যা খুশি বলেন আমার বউটাকে নিয়ে কিছু বলবেন না। আমি ঘুরতে পছন্দ করি। আমার ছেলে ইন্টারে পড়ে। এখন আমাকে কাবিননামা নিয়ে ঘুরতে হবে। আমি আর কি লিখবো? তবে মরে গেলেও সিলেট কোনোদিনই আর যাবো না।’

পোস্ট শেয়ার করুন

‘দম্পত্তি’ হেনস্থার দায়ে এএসআই প্রত্যাহার

আপডেটের সময় : ০৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মার্চ ২০১৯

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা জানান, অভিযুক্ত এএসআই ওবাইদুর রহমানকে ক্লোজড করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি ময়মনসিংহ থেকে সিলেটে বেড়াতে এসে পুলিশের হেনস্তার শিকার হন এক দম্পতি। নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে পুৃলিশ তাদের আটকে দুর্ব্যবহার করে এবং টাকা কেড়ে নেয় বলে ফেসবুকে অভিযোগ করেছেন তাসলিমা বেগম নামের এক নারী।
ফেসবুকের ওই স্ট্যাটাস নিয়ে শুরু তোলপাড়। সিলেটের পুলিশ প্রশাসনও এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই মো. ওবাইদুর রহমান। তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত।
তাসলিমার ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, গত বুধবার সকালে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকা হয়ে দক্ষিণ সুরমাস্থ কদমতলি বাস টার্মিনালে যাচ্ছিলেন তারা। পথিমধ্যে চৌহাট্টায় তাদেরকে আটকে হেনস্থা করে টহল পুলিশ।
ওই নারীর অভিযোগ, একটি সিএনজি অটোরিকশায় পাঁচজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। চৌহাট্টায় তাদেরকে আটকে পুলিশ আলাদাভাবে জেরা করে। এসময় অপ্রীতিকর নানা প্রশ্ন করা হয়। পরে টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।
তাসলিমা নামের ওই নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সিএনজি অটোরিকশায় ৫ জন পুলিশ ছিল। আমার সঙ্গে আমার সাহেব ছিল। সিএনজি অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে আমার সাহেবকে নিয়ে গেলো তাদের গাড়িতে। বলতাছে আপনি একটু আমাদের সঙ্গে আসেন কথা আছে। ওরে নিয়ে গিয়ে আমাকে প্রশ্ন করা শুরু। আপনার কি হয় ওনি? বিয়ে হলো ক’দিন? ছেলে-মেয়ে ক’জন? কি করেন? এখানে কেন আসছেন? তখন আবার চলে গেলো আমার সাহেবের কাছে। ওরেও গিয়ে একই কথা জিজ্ঞেস করা হলো কিন্তু আমার আড়ালে।’
স্ট্যাটাসে তিনি আরো উল্লেখ করেন, ‘নাস্তা না করেই গাড়িতে উঠলাম। আমার সাহেব আমার সঙ্গে একটা কথাও বলে না। ১২টা বাজে তাও কথা বলে না। আমি বারবার ওরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি কাজ হয়নি। দুপুরে খাবার বিরতি দিলো। নামলাম খাওয়ার জন্য। ওরে বললাম দেখো আমার সঙ্গে কথা বলছো না কেন? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমার সঙ্গে এমনটা করো না। তখন দেখি ওর চোখ ভিজে গেছে। ও বলতাছে জানো আমাকে কি জিজ্ঞেস করেছে? আমাকে বলতাছে কত টাকায় ভাড়া করে নিয়ে আসছেন? আমার সাহেব তখন বললো দেখুন আমার বউটা খুবই ভালো পরিবারের মেয়ে আর আমিও ওরে খুবই যত্ন আর সম্মানে রাখি, আমাকে যা খুশি বলেন আমার বউটাকে নিয়ে কিছু বলবেন না। আমি ঘুরতে পছন্দ করি। আমার ছেলে ইন্টারে পড়ে। এখন আমাকে কাবিননামা নিয়ে ঘুরতে হবে। আমি আর কি লিখবো? তবে মরে গেলেও সিলেট কোনোদিনই আর যাবো না।’