খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল ঐক্যফ্রন্ট

- আপডেটের সময় : ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৯
- / ৪৪৮ টাইম ভিউ
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে দেশে যে পরিস্থিতি হবে তার জন্য সরকারকে সতর্ক করেছে ঐক্যফ্রন্ট।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে এমন হুঁশিয়ারির কথা জানান নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, যদি কোনো কারণে এবার খালেদা জিয়ার প্রতি সুবিচার না করা হয়, অবিচার করা হয়, জামিন দেয়া না হয়, মুক্তি দেয়া না হয়, তাহলে যে পরিস্থিতি হতে পারে তার জন্য এই সরকার সর্বতভাবে দায়ী থাকবে। এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে সতর্ক দিচ্ছি।
মান্না আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৬৬৪ দিন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যে মামলাতে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা তার আশু মুক্তি দাবি করছি। আমাদের সভার আজ প্রধান দাবি এটাই। আমরা মনে করি এই দাবি মানবিক। তিনি জামিন পাওয়ার অধিকার রাখেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের দেখা করার কথা ছিল কিন্তু তা এখনও হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা ২২ তারিখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করি, উনি অত্যন্ত সরল মনে আমাদের বললেন, উনার ( খালেদা জিয়ার) আত্মীয়-স্বজন পরিবারের সবাই দেখা করছে, আপনারা কেন পারবেন না। আপনারা অবশ্যই দেখা করবেন। নীতিগতভাবে উনি আমাদের দেখা করার অনুমতি দিয়েই দিলেন। এখন শুধু আইজি প্রিজনের কাছে দায়িত্বটা দিচ্ছি। যাতে অফিসিয়াল ফরমালিটিটা মেনটেইন করা হয়। এই পর্যন্ত আইজি প্রিজন সাহেব আমাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ থেকে আমরা বুঝতে পারছি তারা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ দিচ্ছে না।
খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, কমনসেন্স থেকে একটা কথাই বলতে চাই, আমরা যেটা দেখি এবং আমাদের যে অভিজ্ঞতা, এ ধরনের সহস্র সহস্র মামলায় জামিন দেয়া হয় আইনের ইতিহাসে। এ ধরনের মামলায় জামিন পেতে ৫ মিনিটের বেশি লাগে না।
বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান কী থাকবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী ৫ তারিখের পরিস্থিতি অবলোকন করবো। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত জানাবো।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জামিনের ব্যাপারে একটা তথ্য দিতে চাই। খুনের আসামি, নিম্ন আদালতে ফাঁসি হয়েছে। হাইকোর্টে ফাঁসি হয়েছে, কনফারমেশন…তাতে প্রায় দুই থেকে তিনমাস সময় লাগে। সেই মামলায় ফুলবেঞ্চ আসামিকে জামিন দিয়েছে। যতদিন পর্যন্ত জামিন না হয় ততদিন পর্যন্ত তিনি পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন। এ জাতীয় অসংখ্য উদাহরণ আইনে আছে। সেই তুলনায় খালেদা জিয়ার মামলা, এটা রাজনৈতিক। তাকে জামিন না দেয়ার কোনো কারণ নেই। এটা আমরা বলেছি, মানবিক কারণে এবং নৈতিক কারণে ,সংবিধানগত অধিকারের দিক থেকে তাকে জামিন দেয়া উচিত।
খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না সাংবাদিকদের প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার সুযোগ অবশ্যই আছে। এতদিনেও কেন তার জামিন হচ্ছে না আমি জানি না। খালেদা জিয়ার জামিন না হলে বিচার ব্যবস্থা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমাদের আজকে আলোচনার বিষয় ছিল না।