ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০ নং হাজীপুর ইনিয়ন প্রবাসী পরিষদের জন্ম হয় মাত্র কিছুদিন পূর্বে — রুহুল কুদ্দুছ চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০
  • / ৭০৫ টাইম ভিউ

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত হাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত রয়েছে একই জেলাধীন কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার সাথে।

এই ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া গুণীজনেরা সেই বৃটিশ আমল থেকেই সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন দায়িত্ব অত্যন্ত সুনামের সাথে পালন করে আসছেন বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। যাহারা যুগ যুগ ধরে অবহেলিত এই ইউনিয়নের নাম উজ্জ্বল করে রেখেছেন দেশ জুড়ে। কৃষি প্রধান এই ইউনিয়নে যেমন রয়েছেন সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, চাকুরীজীবী ও ব্যাবসায়ি তেমনই বিদেশের মাটিতে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন একদল রেমিটেন্স যোদ্ধা।

গত মার্চ মাসের শেষের দিকে কুয়েত প্রবাসী শেখ নিজামুর রহমান টিপু এবং দুবাই প্রবাসী ইলিয়াস আমির আলী প্রবাসে বসবাসরত হাজীপুর ইউনিয়নের সকল প্রবাসীদের সাথে নিয়ে একটি সংগঠন করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেন। উদ্দেশ্য একটাই, প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধন প্রতিষ্ঠা করা।

তাদের আহবানে সাড়া দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী হাজীপুর ইউনিয়নবাসী। তাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন কানাডা প্রবাসী অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী আমেরিকা প্রবাসী আহমেদুর রহমান নোমান , দুবাই প্রবাসী সাহেদ নুর , বাহরাইন প্রবাসী সাহেদুর রহমান ও আবুল কালাম সহ আরও অনেকেই।

কুয়েত প্রবাসী গাজী ফয়সাল কে সভাপতি এবং দুবাই প্রবাসী ইলিয়াছ আমির আলীকে সাধারন সম্পাদক করে গঠিত হয় একটি আংশিক কমিটি। নবগঠিত এই কমিটিকে গতিশীল করতে এবং সর্বোপরি হাজীপুর ইউনিয়নের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন কানাডা প্রবাসী সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি রুহুল কুদ্দুছ চৌধুরী,দুবাই প্রবাসী জাহানঙ্গীর আলম সোহেল ,কাতার প্রবাসী আমির আলী খাঁন , দুবাই প্রবাসী ইছমত আলী, লন্ডন প্রবাসী এমডি আসাদুর রহমান চৌধুরী , ওমান প্রবাসী মোনতাকিম চৌধুরী পাবলু, লন্ডন প্রবাসী পায়েল আহমেদ, লন্ডন প্রবাসী এ এস এম রায়হান বক্স , ওমান প্রবাসী লুৎফুর রহমান, দুবাই প্রবাসী কামরুল ইসলাম. ওমান প্রবাসী সিরাজ মিয়া, আব্দুল মুহিত ও বাহরাইন প্রবাসী দুলাল আহমেদ সহ বিদেশে অবস্থানরত হাজীপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সকল প্রবাসীবৃন্দ। খোলা হয় একটি হোয়াট্সআপ গ্রুপ যার সদস্য সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

কভিড-১৯ বা নোভেল করোনাভাইরাসের কালো ছোঁয়ায় বিশ্ববাসী যখন গৃহবন্দি ঠিক তখনই দরজায় এসে কড়া নাড়ে পবিত্র মাস রামাদ্বান। আর এই কঠিন সময়ে আর্তমানবতার সেবায় হাজীপুর ইউনিয়নবাসীর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেয় নবগঠিত এই সংগঠনটি। ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের প্রবাসীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনে হোয়াট্সআপ গ্রুপের মাধ্যমে শুরু হয় অনুদান সংগ্রহ, গ্রুপকে সজীব রাখতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন কাশেম খাঁন, কামরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, সামসুর রহমান রোজেল সহ শতাধীক নিঃস্বার্থ প্রবাসী হাজীপুরবাসী।

এরই প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে হাজীপুর ইউনিয়নে জনাব জাদিদ চৌধুরী কে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি সমন্বয়ক কমিটি ও নয়টি ওয়ার্ড থেকে নয়জনকে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬৫ জন নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরনের জন্য নামের তালিকা তৈরিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে অনুদান সংগ্রহনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে রামাদ্বানের প্রথমার্ধেই সকলের হাতে অনুদানে টাকা তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। হাজীপুরবাসীর এই দূর্দিনে সকল প্রবাসী ভাইদের স্বতঃস্ফুর্ত এই আর্থিক অনুদান প্রদান এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে সকলের বিশ্বাস।

হাজীপুর ইউনিয়নের সকল প্রবাসীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থকে এই সংগঠন থেকে দূরে রেখে ধর্ম, বর্ণ, দল, মতের উর্ধ্বে উঠে সকল প্রবাসীদের পক্ষে হাজীপুর ইউনিয়নের সেবা ও উন্নয়নে একতাবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাবেন তারা।

অত্র লিখনিতে অনেকেরই নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি যারা নিভৃতে সাহায্য করেই যাচ্ছেন এই সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে। আমরা সকলেই জানি প্রবাসীরা নাম, খ্যাতি কিংবা নিজেদের স্বার্থকে কখনই বড় করে দেখেন না। প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে চালু রাখতে চান। তারা চান আমাদের সকলের মায়ের, ভাইয়ের, আত্মীয় সজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের মুখে হাসি ফুঁটুক।

হাজীপুর ইউনিয়নকে বাংলাদেশের বুকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে দেখতে চান ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন প্রবাসী পরিষদের সকল সদস্যরা।

পোস্ট শেয়ার করুন

১০ নং হাজীপুর ইনিয়ন প্রবাসী পরিষদের জন্ম হয় মাত্র কিছুদিন পূর্বে — রুহুল কুদ্দুছ চৌধুরী

আপডেটের সময় : ০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় অবস্থিত হাজীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত রয়েছে একই জেলাধীন কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার সাথে।

এই ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া গুণীজনেরা সেই বৃটিশ আমল থেকেই সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন দায়িত্ব অত্যন্ত সুনামের সাথে পালন করে আসছেন বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। যাহারা যুগ যুগ ধরে অবহেলিত এই ইউনিয়নের নাম উজ্জ্বল করে রেখেছেন দেশ জুড়ে। কৃষি প্রধান এই ইউনিয়নে যেমন রয়েছেন সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা, রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, চাকুরীজীবী ও ব্যাবসায়ি তেমনই বিদেশের মাটিতে দেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন একদল রেমিটেন্স যোদ্ধা।

গত মার্চ মাসের শেষের দিকে কুয়েত প্রবাসী শেখ নিজামুর রহমান টিপু এবং দুবাই প্রবাসী ইলিয়াস আমির আলী প্রবাসে বসবাসরত হাজীপুর ইউনিয়নের সকল প্রবাসীদের সাথে নিয়ে একটি সংগঠন করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেন। উদ্দেশ্য একটাই, প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধন প্রতিষ্ঠা করা।

তাদের আহবানে সাড়া দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী হাজীপুর ইউনিয়নবাসী। তাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন কানাডা প্রবাসী অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী আমেরিকা প্রবাসী আহমেদুর রহমান নোমান , দুবাই প্রবাসী সাহেদ নুর , বাহরাইন প্রবাসী সাহেদুর রহমান ও আবুল কালাম সহ আরও অনেকেই।

কুয়েত প্রবাসী গাজী ফয়সাল কে সভাপতি এবং দুবাই প্রবাসী ইলিয়াছ আমির আলীকে সাধারন সম্পাদক করে গঠিত হয় একটি আংশিক কমিটি। নবগঠিত এই কমিটিকে গতিশীল করতে এবং সর্বোপরি হাজীপুর ইউনিয়নের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে আসেন কানাডা প্রবাসী সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি রুহুল কুদ্দুছ চৌধুরী,দুবাই প্রবাসী জাহানঙ্গীর আলম সোহেল ,কাতার প্রবাসী আমির আলী খাঁন , দুবাই প্রবাসী ইছমত আলী, লন্ডন প্রবাসী এমডি আসাদুর রহমান চৌধুরী , ওমান প্রবাসী মোনতাকিম চৌধুরী পাবলু, লন্ডন প্রবাসী পায়েল আহমেদ, লন্ডন প্রবাসী এ এস এম রায়হান বক্স , ওমান প্রবাসী লুৎফুর রহমান, দুবাই প্রবাসী কামরুল ইসলাম. ওমান প্রবাসী সিরাজ মিয়া, আব্দুল মুহিত ও বাহরাইন প্রবাসী দুলাল আহমেদ সহ বিদেশে অবস্থানরত হাজীপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সকল প্রবাসীবৃন্দ। খোলা হয় একটি হোয়াট্সআপ গ্রুপ যার সদস্য সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

কভিড-১৯ বা নোভেল করোনাভাইরাসের কালো ছোঁয়ায় বিশ্ববাসী যখন গৃহবন্দি ঠিক তখনই দরজায় এসে কড়া নাড়ে পবিত্র মাস রামাদ্বান। আর এই কঠিন সময়ে আর্তমানবতার সেবায় হাজীপুর ইউনিয়নবাসীর পাশে দাঁড়ানোর ঘোষনা দেয় নবগঠিত এই সংগঠনটি। ১ থেকে ৯ নং ওয়ার্ডের প্রবাসীদের স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহনে হোয়াট্সআপ গ্রুপের মাধ্যমে শুরু হয় অনুদান সংগ্রহ, গ্রুপকে সজীব রাখতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন কাশেম খাঁন, কামরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান, সামসুর রহমান রোজেল সহ শতাধীক নিঃস্বার্থ প্রবাসী হাজীপুরবাসী।

এরই প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে হাজীপুর ইউনিয়নে জনাব জাদিদ চৌধুরী কে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি সমন্বয়ক কমিটি ও নয়টি ওয়ার্ড থেকে নয়জনকে নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬৫ জন নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরনের জন্য নামের তালিকা তৈরিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে অনুদান সংগ্রহনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করা যাচ্ছে রামাদ্বানের প্রথমার্ধেই সকলের হাতে অনুদানে টাকা তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। হাজীপুরবাসীর এই দূর্দিনে সকল প্রবাসী ভাইদের স্বতঃস্ফুর্ত এই আর্থিক অনুদান প্রদান এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে সকলের বিশ্বাস।

হাজীপুর ইউনিয়নের সকল প্রবাসীরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে, কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থকে এই সংগঠন থেকে দূরে রেখে ধর্ম, বর্ণ, দল, মতের উর্ধ্বে উঠে সকল প্রবাসীদের পক্ষে হাজীপুর ইউনিয়নের সেবা ও উন্নয়নে একতাবদ্ধ হয়ে সামনে এগিয়ে যাবেন তারা।

অত্র লিখনিতে অনেকেরই নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি যারা নিভৃতে সাহায্য করেই যাচ্ছেন এই সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে। আমরা সকলেই জানি প্রবাসীরা নাম, খ্যাতি কিংবা নিজেদের স্বার্থকে কখনই বড় করে দেখেন না। প্রবাসীরা শুধু দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে চালু রাখতে চান। তারা চান আমাদের সকলের মায়ের, ভাইয়ের, আত্মীয় সজন ও পাড়া প্রতিবেশীদের মুখে হাসি ফুঁটুক।

হাজীপুর ইউনিয়নকে বাংলাদেশের বুকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে দেখতে চান ১০ নং হাজীপুর ইউনিয়ন প্রবাসী পরিষদের সকল সদস্যরা।