ঢাকা , রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০০ দিন অতিক্রম করলো – শনাক্ত ৯০ হাজার ছাড়ালো

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০
  • / ৩৪৫ টাইম ভিউ

 

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ১০০তম দিন অতিক্রম করেছে। মহামারি করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও এর প্রভাব অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে করোনার থাবা। বাড়ছে মৃত্যু। মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষক থেকে শুরু করে বাদ পড়েনি কৃষকও। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা এখন রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত। সংক্রমণের ধারা ঊর্ধ্বমুখী।
এরই মধ্যে শনাক্তের দিক দিয়ে আঠারোতম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০ হাজার ৬১৯ জন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০৯ জনে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সাতদিনে গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের দেহে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। প্রাণঘাতী করোনা বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্তের কথা জানিয়েছিল আইইডিসিআর। আর সংক্রমণের ১০০তম দিনে ৩০৯৯ জন শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন। ১৮ই মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ১০০তম দিনে মৃত্যু হয় ৩৮ জনের। এর আগে সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬শে মার্চ থেকে টানা ২ মাস কার্যত লকডাউন থাকলেও তার ফলাফল তেমন কাজে আসেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, টানা ৬০ দিন সাধারণ ছুটির পর খুলে দেয়া হয় পোশাক কারখানা। শিথিল করা হয় লকডাউন। এতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী হয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। অনেকেই ঢাকার বাইরে যান। ফলে সংক্রমণ আরো বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হু হু করে বাড়তে থাকে করোনার বিস্তার। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণের স্থানে অবস্থান করছে এখন বাংলাদেশ। যা এই সময়ে অন্যান্য দেশের চাইতে বেশি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১০০তম দিনে মোট শনাক্ত হয় ৫৯ হাজার ৬৬২ জন। আর পাকিস্তানে শনাক্ত হয় ৮৫ হাজার ২৬৪ জন।
গত ৩১শে মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিস চলছে। সোমবার শেষ হচ্ছে সরকারের সেই নির্দেশনা। এদিকে করোনা মোকাবিলার নতুন পরিকল্পনার দিকে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনার অত্যধিক সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা লাল (রেড) ও হলুদ (ইয়োলো) জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া গ্রিন জোনে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকবে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি নয় দফা বাড়িয়ে ৬ই আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে এ ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডমিটারে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ লাখ ৭ হাজার ৮০৪ জনে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫৫ জনের। বিশ্বে একক দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ৬২ হাজার ২২৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৮ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৮৯ জনের।
সুত্র – মানবজমিন

পোস্ট শেয়ার করুন

১০০ দিন অতিক্রম করলো – শনাক্ত ৯০ হাজার ছাড়ালো

আপডেটের সময় : ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২০

 

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ১০০তম দিন অতিক্রম করেছে। মহামারি করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও এর প্রভাব অনেক বেশি। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে করোনার থাবা। বাড়ছে মৃত্যু। মন্ত্রী, এমপি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষক থেকে শুরু করে বাদ পড়েনি কৃষকও। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা এখন রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত। সংক্রমণের ধারা ঊর্ধ্বমুখী।
এরই মধ্যে শনাক্তের দিক দিয়ে আঠারোতম স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯০ হাজার ৬১৯ জন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০৯ জনে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত সাতদিনে গড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের দেহে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। প্রাণঘাতী করোনা বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয় ৮ই মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্তের কথা জানিয়েছিল আইইডিসিআর। আর সংক্রমণের ১০০তম দিনে ৩০৯৯ জন শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিন। ১৮ই মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ১০০তম দিনে মৃত্যু হয় ৩৮ জনের। এর আগে সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৬শে মার্চ থেকে টানা ২ মাস কার্যত লকডাউন থাকলেও তার ফলাফল তেমন কাজে আসেনি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, টানা ৬০ দিন সাধারণ ছুটির পর খুলে দেয়া হয় পোশাক কারখানা। শিথিল করা হয় লকডাউন। এতেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী হয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। অনেকেই ঢাকার বাইরে যান। ফলে সংক্রমণ আরো বেশি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হু হু করে বাড়তে থাকে করোনার বিস্তার। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণের স্থানে অবস্থান করছে এখন বাংলাদেশ। যা এই সময়ে অন্যান্য দেশের চাইতে বেশি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১০০তম দিনে মোট শনাক্ত হয় ৫৯ হাজার ৬৬২ জন। আর পাকিস্তানে শনাক্ত হয় ৮৫ হাজার ২৬৪ জন।
গত ৩১শে মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে অফিস চলছে। সোমবার শেষ হচ্ছে সরকারের সেই নির্দেশনা। এদিকে করোনা মোকাবিলার নতুন পরিকল্পনার দিকে যাচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন এলাকা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাণঘাতী করোনার অত্যধিক সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা লাল (রেড) ও হলুদ (ইয়োলো) জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এছাড়া গ্রিন জোনে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকবে। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি নয় দফা বাড়িয়ে ৬ই আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে এ ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডমিটারে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ লাখ ৭ হাজার ৮০৪ জনে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫৫ জনের। বিশ্বে একক দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে। সকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ৬২ হাজার ২২৮ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৮ জনের। যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় বিবেচনায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৮৯ জনের।
সুত্র – মানবজমিন