ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

হতাশ না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / ৪৯৩ টাইম ভিউ

জামিন আবেদন শুনানিতে কী আদেশ আসছে, সে খবর আগেই জেনেছিলেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া। বোন সেলিমা ইসলামসহ তার (খালেদা) স্বজনরা যেদিন সাক্ষাৎ করেছেন সেদিন এমন তথ্য জানিয়েছেন। বোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেদিন শুধু ক্ষোভটাই প্রকাশ করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই হতাশ না হয়, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিজয় দিবসে গত সোমবার তিনটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার স্বজনরা।

সাক্ষাৎকারী এই পাঁচ সদস্যের মধ্যে ছিলেন- বোন সেলিমা ইসলাম ও তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং শামীম ইস্কান্দারের ছেলে অভিক ইস্কান্দার। এক মাসের বেশি সময় পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাৎ হয়। ১৪ ডিসেম্বর দেখা করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়।

খালেদার সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেরিয়ে এসে বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সেলিমা ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওনার (খালেদা) শরীর খুবই খারাপ। হাঁটাচলা করতে পারছেন না, খেতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। সুগার কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণ) আসছে না। এ অবস্থায় তার তো উন্নত চিকিৎসা দরকার। আদালত তো জামিন দিলেন না। পেটে ব্যথা হচ্ছে, ডাক্তার ওষুধ দিচ্ছে না, চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না। এখানে কীভাবে সে বাঁচবে।

কারাবন্দি খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানান তার বোন। খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না জানিয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, তার সুগার লেভেল এখন ১৪।

গত ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হয়। সেদিন আদালত তার মেডিকেল রিপোর্ট দেখেন। তবে সেদিনও তার জামিন হয়নি। এ বিষয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘ওনার বয়স, অসুস্থতা বিবেচনা করে তো জামিন দেওয়া উচিত ছিল। জামিন মানে তো ছেড়ে দেওয়া না। জামিন তো দিতেই পারত।’

তিনি আরো বলেন, আদালতে দেওয়া মেডিকেল প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না।

এদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া কি বার্তা দিয়েছেন তা জানার চেষ্টা করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। স্বজনরা জানিয়েছেন, জামিন আবেদনের শুনানিতে কি আদেশ আসছে সে খবর খালেদা জিয়া আগেই জেনেছেন। এমন কথা স্বজনদের জানিয়েছেন কারান্তরীণ খালেদা জিয়া।

তিনি বলেছেন, তার দলের নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই হতাশ না হয়। আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নেতারা যেন আন্দোলনে নামে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ প্রতিবেদককে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা) দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে ও থাকতে বলেছেন। ইতোমধ্যে এই বার্তা পেয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারাও।

সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর সেলিমা ইসলামসহ স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণ করেন খালেদা জিয়া। গত ১ এপ্রিল থেকে অসুস্থ হয়ে তিনি বিএসএমএমইউর ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পোস্ট শেয়ার করুন

হতাশ না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান খালেদা জিয়ার

আপডেটের সময় : ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯

জামিন আবেদন শুনানিতে কী আদেশ আসছে, সে খবর আগেই জেনেছিলেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া। বোন সেলিমা ইসলামসহ তার (খালেদা) স্বজনরা যেদিন সাক্ষাৎ করেছেন সেদিন এমন তথ্য জানিয়েছেন। বোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেদিন শুধু ক্ষোভটাই প্রকাশ করেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই হতাশ না হয়, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনে নামার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিজয় দিবসে গত সোমবার তিনটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে তার স্বজনরা।

সাক্ষাৎকারী এই পাঁচ সদস্যের মধ্যে ছিলেন- বোন সেলিমা ইসলাম ও তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং শামীম ইস্কান্দারের ছেলে অভিক ইস্কান্দার। এক মাসের বেশি সময় পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনদের সাক্ষাৎ হয়। ১৪ ডিসেম্বর দেখা করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়।

খালেদার সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেরিয়ে এসে বাইরে অপেক্ষারত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সেলিমা ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওনার (খালেদা) শরীর খুবই খারাপ। হাঁটাচলা করতে পারছেন না, খেতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। সুগার কন্ট্রোলে (নিয়ন্ত্রণ) আসছে না। এ অবস্থায় তার তো উন্নত চিকিৎসা দরকার। আদালত তো জামিন দিলেন না। পেটে ব্যথা হচ্ছে, ডাক্তার ওষুধ দিচ্ছে না, চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না। এখানে কীভাবে সে বাঁচবে।

কারাবন্দি খালেদা জিয়া দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানান তার বোন। খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না জানিয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, তার সুগার লেভেল এখন ১৪।

গত ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি হয়। সেদিন আদালত তার মেডিকেল রিপোর্ট দেখেন। তবে সেদিনও তার জামিন হয়নি। এ বিষয়ে সেলিমা ইসলাম বলেন, ‘ওনার বয়স, অসুস্থতা বিবেচনা করে তো জামিন দেওয়া উচিত ছিল। জামিন মানে তো ছেড়ে দেওয়া না। জামিন তো দিতেই পারত।’

তিনি আরো বলেন, আদালতে দেওয়া মেডিকেল প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না।

এদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া কি বার্তা দিয়েছেন তা জানার চেষ্টা করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। স্বজনরা জানিয়েছেন, জামিন আবেদনের শুনানিতে কি আদেশ আসছে সে খবর খালেদা জিয়া আগেই জেনেছেন। এমন কথা স্বজনদের জানিয়েছেন কারান্তরীণ খালেদা জিয়া।

তিনি বলেছেন, তার দলের নেতাকর্মীরা যেন কোনোভাবেই হতাশ না হয়। আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নেতারা যেন আন্দোলনে নামে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ প্রতিবেদককে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা) দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে ও থাকতে বলেছেন। ইতোমধ্যে এই বার্তা পেয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারাও।

সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর সেলিমা ইসলামসহ স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণ করেন খালেদা জিয়া। গত ১ এপ্রিল থেকে অসুস্থ হয়ে তিনি বিএসএমএমইউর ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছে।