ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে…

স্কুল শিক্ষিকা কে নির্যাতনের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪
  • / ১৮৫ টাইম ভিউ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে ২৪ মার্চ রোববার মাদকাসক্ত স্বামী অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা সুজিত কুমার দে (৫৫) কে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এঘটনায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেব কুলাউড়া থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নং (১৯) দায়ের করেন।
থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের চুনঘরের বাসিন্দা সুনিল চন্দ্র দে’র পুত্র অগ্রণী ব্যাংক কুলাউড়ার কর্মকর্তা সুজিত কুমার দে’র সাথে পৌরশহরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেবের বিয়ে হয়। তাদের ২ কন্যা সন্তানও রয়েছে। সুজিত কুমার দে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বলেও জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে স্কুল শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেব উল্লেখ করেন, ৭-৮ বছর আগে থেকে বেতন ভাতার সম্পুর্ণ টাকা তুলে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। না দিলে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। ২০২০ সালের ৯ মার্চ ব্যাংকে জামানো এফডিআর থেকে ৫ লাখ টাকা তুলে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। সেই টাকা না দেয়ায় লাঠিপেটা করে রক্তাক্ত জখম করে। সেসময় কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। মাস শেষ হওয়ার আগে বেতনের চেক দিয়ে দিতে হয়। এরপর একাধিকবার নির্যাতন চালায় সুজিত কুমার দে। অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি ২ সন্তানসহ বাবার বাসায় চলে আসেন। সেসময় ৩ জন আইনজীবির সমন্বয়ে স্থানী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থায় পৃথকভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত হয়। এবং ২ সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করার অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়। ২ সন্তানের কথা বিবেচনা করে তিনি ফিরে যান বাড়িতে। সম্প্রতি সুজিত কুমার দে তার বড় ভাইয়ের প্ররোচনায় ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কথা বলে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। সেই টাকার জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বটিদা দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় সঞ্চিতা রানী দে’র হাতে রক্তাক্ত জখম ছাড়া শারিরীকভাবে গুরুতর আহতবস্থায় ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতের জখম গুরুতর হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ২৩ মার্চ শনিবার কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানার এসআই দেবাশীষ শহর থেকে সুজিত কুমার দে’কে আটক করেন।
কুলাউড়া থানার এসআই দেবাশীষ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পোস্ট শেয়ার করুন

স্কুল শিক্ষিকা কে নির্যাতনের অভিযোগে ব্যাংক কর্মকর্তা স্বামী গ্রেফতার

আপডেটের সময় : ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে ২৪ মার্চ রোববার মাদকাসক্ত স্বামী অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা সুজিত কুমার দে (৫৫) কে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এঘটনায় ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেব কুলাউড়া থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নং (১৯) দায়ের করেন।
থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের চুনঘরের বাসিন্দা সুনিল চন্দ্র দে’র পুত্র অগ্রণী ব্যাংক কুলাউড়ার কর্মকর্তা সুজিত কুমার দে’র সাথে পৌরশহরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেবের বিয়ে হয়। তাদের ২ কন্যা সন্তানও রয়েছে। সুজিত কুমার দে একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি বলেও জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে স্কুল শিক্ষিকা সঞ্চিতা রানী দেব উল্লেখ করেন, ৭-৮ বছর আগে থেকে বেতন ভাতার সম্পুর্ণ টাকা তুলে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। না দিলে শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। ২০২০ সালের ৯ মার্চ ব্যাংকে জামানো এফডিআর থেকে ৫ লাখ টাকা তুলে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। সেই টাকা না দেয়ায় লাঠিপেটা করে রক্তাক্ত জখম করে। সেসময় কুলাউড়া হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। মাস শেষ হওয়ার আগে বেতনের চেক দিয়ে দিতে হয়। এরপর একাধিকবার নির্যাতন চালায় সুজিত কুমার দে। অত্যাচার নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি ২ সন্তানসহ বাবার বাসায় চলে আসেন। সেসময় ৩ জন আইনজীবির সমন্বয়ে স্থানী গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থায় পৃথকভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত হয়। এবং ২ সন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করার অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়। ২ সন্তানের কথা বিবেচনা করে তিনি ফিরে যান বাড়িতে। সম্প্রতি সুজিত কুমার দে তার বড় ভাইয়ের প্ররোচনায় ব্যাংক ঋণ পরিশোধের কথা বলে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে। সেই টাকার জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বটিদা দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় সঞ্চিতা রানী দে’র হাতে রক্তাক্ত জখম ছাড়া শারিরীকভাবে গুরুতর আহতবস্থায় ৯৯৯ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতের জখম গুরুতর হওয়ায় তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চিকিৎসা গ্রহণ শেষে ২৩ মার্চ শনিবার কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুলাউড়া থানার এসআই দেবাশীষ শহর থেকে সুজিত কুমার দে’কে আটক করেন।
কুলাউড়া থানার এসআই দেবাশীষ আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।