ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

সৈকতে মৃত ডলফিন,তিমিসহ সামুদ্রিক মাছ ভেসে আসছে কেনো

অনলাইন ডেস্ক:
  • আপডেটের সময় : ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২০
  • / ৫০৩ টাইম ভিউ

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের উপকূলে একের পর এক ডলফিন, তিমিসহ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশবাদী এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের জন্য। ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) হিসাবে, ২০০৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুইশর মত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর রেকর্ড আছে বাংলাদেশের জলসীমায়, যার বেশিরভাগই ডলফিন। আর কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন সেইভ দ্য নেচার ফাউন্ডেশেনের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসাইন জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, ইনানী এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত মিলিয়ে গত দশ মাসে (গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জুন) ১৫টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে।
পরিবেশ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা মোটা দাগে ডলফিনের মৃত্যুর যে কারণ বলছেন, সেটি হল মাছ ধরার জাল আর জেলেদের অসচেতনতা। সাগরে জালে আটকে আঘাত পেয়েই বেশিরভাগ ডলফিন মারা যাচ্ছে বলে মৎস্যশিকারীদের সচেতন করার কথা বলছেন তারা। অন্যদিকে তিমির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতে ময়নাতদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডলফিন-তিমির বৈচিত্র্য : সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের নদী এবং সাগরের জলসীমায় সাত প্রজাতির ডলফিন আছে। ডব্লিউসিএসের প্রথম জরিপ অনুযায়ী চট্টগ্রামের হালদা ও কর্ণফুলী নদী, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিন ছিল ৩০০ এবং সারা দেশের নদীর হিসাব যোগ করলে প্রায় এক হাজারের মত। ইরাবতী ডলফিন ছিল ছয় হাজার। বোতল নাক ডলফিন ছিল ২২০০ থেকে ২,৪০০ এর মত। অন্যান্য প্রজাতির ডলফিনের হিসাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ফিনলেস পরপয়েস ছিল ১,৪০০ এর মত।
ডব্লিউসিএসর তথ্য মতে, বঙ্গপোসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় তিন জাতের তিমি দেখা যায়। এগুলো হল- ফলস কিলার হোয়েল, ব্রিডস, স্পার্ম হোয়েল। সবচেয়ে বেশি আছে ব্রিডিস হোয়েল।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন :
পরিবেশবাদীরা বলছেন, সমুদ্র সৈকত এবং সংলগ্ন সাগর এলাকা লকডাউনের সময় কোলাহলহীন থাকায় ডলফিন, পরপয়েসের মত প্রাণী সৈকতের কাছাকাছি বিচরণ করছে। তাদের অধিকাংশের মৃত্যু ঘটছে মাছ ধরার জালে, জেলেদের অসচেতনতার কারণে। মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ প্রজননের জন্য সরকার ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে মৎস্য আহরণ বন্ধ নিষিদ্ধ করলেও অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।
সেইভ দ্য নেচার ফাউন্ডেশেনের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘জেলেরা ডলফিনকে অনেক সময় টার্গেট করে। কারণ ডলফিন যেখানে থাকে সেখানে মাছ থাকে। তারা সমুদ্রের সেই অঞ্চলে জাল ফেলে, তখন ডলফিনও জালে আটকা পরে। তখন তারা বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে পাখনায় আঘাত পায়। আবার অনেক সময় জেলেরা তাদের জাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময় লগির আঘাত ডলফিনদের মাথায় লাগে। ডলফিন খুবই স্পর্শকাতর প্রাণী। আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা তাদের খুব কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা মারা যায়।’ তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে জেলেদের সচেতন করতে হবে। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ১২টি সামুদ্রিক প্রাণী দেখভালের দায়িত্ব বন বিভাগের। কিন্তু তাদের এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের দোষ দিয়েও তো লাভ নেই। তাদের অবকাঠামো কই, জনবল কই? এজন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আলাদা কাঠামোর অধীনে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন জরুরি।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার মাঝেও অনেকে কিন্তু গোপনে জাল নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। ডলফিনের মৃত্যুর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে জালে আটকে পরার ঘটনাই দায়ী।’
একই ধরনের মতামত দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান। তিনি বলেন, ‘প্রধানত ডলফিন মারা যায় জালে আটকে। তাই জেলেদের ব্যাপকভাবে সচেতন করা ছাড়া বিকল্প নেই। আইন অনুযায়ী সাগরের প্রটেক্টেড এরিয়াগুলো দেখভালের দায়িত্ব বন বিভাগের। কিন্তু সেগুলো দেখভালের মতো লোকবল এবং অবকাঠামো তো নেই, ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা আছে। তাই শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষায়ও উদ্যোগী হতে হবে।’ অন্যদিকে তিমির মৃত্যুর কারণ জানতে ময়না তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী। তার মতে, অন্তত মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করা গেলে একদিকে যেমন রেকর্ড থেকে যাবে, তেমনি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা সহজ হবে।
ডব্লিউসিএসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যেহেতু বন বিভাগের লোকবল এবং অন্যান্য লজিস্টিকের সঙ্কট আছে তাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য বিভাগ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। আরও বেশি মেরিন প্রটেক্টেড অঞ্চল গড়ে তোলা প্রয়োজন, বিশেষ করে সোনাদিয়া এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে।’ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী তিমি বা ডলফিন হত্যার দায়ে কেউ অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদ- অথবা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- হতে পারে। তিমি বা ডলফিনের দেহাবশেষ সংগ্রহ করলে তার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- হতে পারে।

পোস্ট শেয়ার করুন

সৈকতে মৃত ডলফিন,তিমিসহ সামুদ্রিক মাছ ভেসে আসছে কেনো

আপডেটের সময় : ০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজারের উপকূলে একের পর এক ডলফিন, তিমিসহ সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশবাদী এবং বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের জন্য। ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) হিসাবে, ২০০৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দুইশর মত সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর মৃত্যুর রেকর্ড আছে বাংলাদেশের জলসীমায়, যার বেশিরভাগই ডলফিন। আর কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন সেইভ দ্য নেচার ফাউন্ডেশেনের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসাইন জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ, ইনানী এবং কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত মিলিয়ে গত দশ মাসে (গতবছরের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের জুন) ১৫টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে।
পরিবেশ ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা মোটা দাগে ডলফিনের মৃত্যুর যে কারণ বলছেন, সেটি হল মাছ ধরার জাল আর জেলেদের অসচেতনতা। সাগরে জালে আটকে আঘাত পেয়েই বেশিরভাগ ডলফিন মারা যাচ্ছে বলে মৎস্যশিকারীদের সচেতন করার কথা বলছেন তারা। অন্যদিকে তিমির মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতে ময়নাতদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডলফিন-তিমির বৈচিত্র্য : সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের নদী এবং সাগরের জলসীমায় সাত প্রজাতির ডলফিন আছে। ডব্লিউসিএসের প্রথম জরিপ অনুযায়ী চট্টগ্রামের হালদা ও কর্ণফুলী নদী, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় শুশুক বা গাঙ্গেয় ডলফিন ছিল ৩০০ এবং সারা দেশের নদীর হিসাব যোগ করলে প্রায় এক হাজারের মত। ইরাবতী ডলফিন ছিল ছয় হাজার। বোতল নাক ডলফিন ছিল ২২০০ থেকে ২,৪০০ এর মত। অন্যান্য প্রজাতির ডলফিনের হিসাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ফিনলেস পরপয়েস ছিল ১,৪০০ এর মত।
ডব্লিউসিএসর তথ্য মতে, বঙ্গপোসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় তিন জাতের তিমি দেখা যায়। এগুলো হল- ফলস কিলার হোয়েল, ব্রিডস, স্পার্ম হোয়েল। সবচেয়ে বেশি আছে ব্রিডিস হোয়েল।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন :
পরিবেশবাদীরা বলছেন, সমুদ্র সৈকত এবং সংলগ্ন সাগর এলাকা লকডাউনের সময় কোলাহলহীন থাকায় ডলফিন, পরপয়েসের মত প্রাণী সৈকতের কাছাকাছি বিচরণ করছে। তাদের অধিকাংশের মৃত্যু ঘটছে মাছ ধরার জালে, জেলেদের অসচেতনতার কারণে। মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি এবং নিরাপদ প্রজননের জন্য সরকার ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে মৎস্য আহরণ বন্ধ নিষিদ্ধ করলেও অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।
সেইভ দ্য নেচার ফাউন্ডেশেনের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, ‘জেলেরা ডলফিনকে অনেক সময় টার্গেট করে। কারণ ডলফিন যেখানে থাকে সেখানে মাছ থাকে। তারা সমুদ্রের সেই অঞ্চলে জাল ফেলে, তখন ডলফিনও জালে আটকা পরে। তখন তারা বের হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে গিয়ে পাখনায় আঘাত পায়। আবার অনেক সময় জেলেরা তাদের জাল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময় লগির আঘাত ডলফিনদের মাথায় লাগে। ডলফিন খুবই স্পর্শকাতর প্রাণী। আঘাত সহ্য করার ক্ষমতা তাদের খুব কম। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা মারা যায়।’ তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে জেলেদের সচেতন করতে হবে। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ১২টি সামুদ্রিক প্রাণী দেখভালের দায়িত্ব বন বিভাগের। কিন্তু তাদের এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের দোষ দিয়েও তো লাভ নেই। তাদের অবকাঠামো কই, জনবল কই? এজন্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আলাদা কাঠামোর অধীনে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন জরুরি।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ পরিচালক শেখ নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার মাঝেও অনেকে কিন্তু গোপনে জাল নিয়ে মাছ ধরতে যাচ্ছেন। ডলফিনের মৃত্যুর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে জালে আটকে পরার ঘটনাই দায়ী।’
একই ধরনের মতামত দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান। তিনি বলেন, ‘প্রধানত ডলফিন মারা যায় জালে আটকে। তাই জেলেদের ব্যাপকভাবে সচেতন করা ছাড়া বিকল্প নেই। আইন অনুযায়ী সাগরের প্রটেক্টেড এরিয়াগুলো দেখভালের দায়িত্ব বন বিভাগের। কিন্তু সেগুলো দেখভালের মতো লোকবল এবং অবকাঠামো তো নেই, ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা আছে। তাই শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষায়ও উদ্যোগী হতে হবে।’ অন্যদিকে তিমির মৃত্যুর কারণ জানতে ময়না তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সাইদুর রহমান চৌধুরী। তার মতে, অন্তত মৃত্যুর কারণ চিহ্নিত করা গেলে একদিকে যেমন রেকর্ড থেকে যাবে, তেমনি ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা সহজ হবে।
ডব্লিউসিএসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যেহেতু বন বিভাগের লোকবল এবং অন্যান্য লজিস্টিকের সঙ্কট আছে তাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য বিভাগ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া উচিৎ। আরও বেশি মেরিন প্রটেক্টেড অঞ্চল গড়ে তোলা প্রয়োজন, বিশেষ করে সোনাদিয়া এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলে।’ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী তিমি বা ডলফিন হত্যার দায়ে কেউ অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদ- অথবা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- হতে পারে। তিমি বা ডলফিনের দেহাবশেষ সংগ্রহ করলে তার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- হতে পারে।