ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে…

সুলতান মনসুর ৫ বাঁধার কারণে যেতে পারছেন না সংসদে

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
  • আপডেটের সময় : ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • / ২০৪৫ টাইম ভিউ

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ রাজনীতিতে এখন আলোচিত চরিত্র সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।  গণফোরাম থেকে ধানের শীষ প্রতীকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন।  এরইমধ্যে জোট ও দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম।
জোট ও দলীয় এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে-পরে গণমাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এই রাজনীতিকের এমন আগ্রহের কারণেই প্রশ্ন উঠেছে-দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে গেলে তার সদস্য পদ থাকবে কি না।
প্রসঙ্গত, এরআগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক  ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সামনে পাঁচটি বাধা রয়েছে।  তবে এসব বিষয়ে বির্তকের সৃষ্টি হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।  এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি থেকে ৬ জন ও গণফোরাম থেকে ২ জন নির্বাচিত হন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কী করতে হবে, সংবিধানেই তার দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  সংবিধানেরই ৭০ ও ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।  ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সমাধান না হলে ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুলতান মনসুরের শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৫টি বাধার কারণে যেতে পারছেন না সংসদে।
প্রথমটি হচ্ছে- সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন।  গণফোরামের সদস্য হিসেবেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন।
দ্বিতীয়ত ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক সভাপতি ছিলেন না।  সুতরাং তাকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে কোনো মনেনায়নপত্রে সই দেওয়ার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
তৃতীয়ত সুলতান মনসুর গণফোরামের সদস্য।  এখন তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কথা বললেও তা হালে পানি পাবে না। আদালতে এটা সহজে প্রমাণ করা যাবে, তিনি গণফোরামের সদস্য ছিলেন।  তার ব্যালট পেপারই তার সাক্ষ্য দেবে।  কারণ সেখানে ঐক্যফ্রন্ট নয়, গণফোরাম আছে।
চতুর্থততিনি নির্বাচন করেছেন ধানের শীষ প্রতীকে।  যা আরও বড় বাধা তার জন্য।  এছাড়া তার মনোনয়নপত্রে সই করেছেন মির্জা ফখরুল।
পঞ্চমতআইন মহাসচিবকে সুযোগ দিয়েছে যে, সুলতান মনসুর দলত্যাগ করে শপথ নিতে যাচ্ছেন এই মর্মে ইসিকে চিঠি দিতে পারবেন।  এই চিঠি দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী সুলতান মনসুর আর শপথ নিতে পারবেন না।
এই প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
তবে, বিষয়টি নিয়ে কোনো বির্তক হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।  এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।’
এছাড়া, সংসদ সদস্য হওয়ার বা সদস্য পদ হারানো সম্পর্কিত অযোগ্যতার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারায় বলা আছে, যদি সংশ্লিষ্ট কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত না হন বা একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।
বিশ্লেষকরা জানান, শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতান মনসুরের ক্ষেত্রে সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে।  সুবিধার দিক হচ্ছে, তিনি গণফোরামের সদস্যপদ গ্রহণ করেননি।  অসুবিধা হচ্ছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা প্রত্যায়নেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।  ফলে মির্জা ফখরুল ইসলামের ভূমিকাও বড় হবে তার সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়ে।  তারা বলছেন, ড. কামাল হোসেন শুধু রাজনৈতিক নন, আইনগত দিকও বিবেচনায় নিয়ে থাকবেন।  কারণ দলের নির্দেশ না মেনে শপথ নিলে গণফোরাম তাকে বহিষ্কার করবে।  আর যদি নাও করে তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সামনে ইসিকে চিঠি লেখা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘গণফোরামের মনোনয়ন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।  ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ শপথ নিতে চাইলে তার সদস্য পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে।  সংবিধান ও আরপিওতে সদস্য হওয়ার যোগ্যতায় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা জোট কিংবা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের সুযোগ আছে।  ভিন্ন কোনো পথ নেই।  তাই দল, জোট বা ফ্রন্ট যদি তাকে বহিষ্কার করে তবে তার সদস্য পদ আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
মো. শাহনেওয়াজ আরও বলেন, ‘এই ধরনের পরিস্থিতিতে যতক্ষণ স্পিকার নির্বাচন কমিশনের নোটিশে বিষয়টি না আনবেন, ততক্ষণ কমিশনের কিছু করার নেই।সূত্রঃ (শ্যামল সিলেট)

পোস্ট শেয়ার করুন

সুলতান মনসুর ৫ বাঁধার কারণে যেতে পারছেন না সংসদে

আপডেটের সময় : ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ রাজনীতিতে এখন আলোচিত চরিত্র সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।  গণফোরাম থেকে ধানের শীষ প্রতীকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হন।  এরইমধ্যে জোট ও দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম।
জোট ও দলীয় এই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগে-পরে গণমাধ্যমে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এই রাজনীতিকের এমন আগ্রহের কারণেই প্রশ্ন উঠেছে-দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে গেলে তার সদস্য পদ থাকবে কি না।
প্রসঙ্গত, এরআগে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক  ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের সামনে পাঁচটি বাধা রয়েছে।  তবে এসব বিষয়ে বির্তকের সৃষ্টি হলে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে মোট ৮ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।  এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি থেকে ৬ জন ও গণফোরাম থেকে ২ জন নির্বাচিত হন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কী করতে হবে, সংবিধানেই তার দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  সংবিধানেরই ৭০ ও ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।  ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সমাধান না হলে ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুলতান মনসুরের শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে ৫টি বাধার কারণে যেতে পারছেন না সংসদে।
প্রথমটি হচ্ছে- সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন।  গণফোরামের সদস্য হিসেবেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন।
দ্বিতীয়ত ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক সভাপতি ছিলেন না।  সুতরাং তাকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে কোনো মনেনায়নপত্রে সই দেওয়ার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
তৃতীয়ত সুলতান মনসুর গণফোরামের সদস্য।  এখন তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কথা বললেও তা হালে পানি পাবে না। আদালতে এটা সহজে প্রমাণ করা যাবে, তিনি গণফোরামের সদস্য ছিলেন।  তার ব্যালট পেপারই তার সাক্ষ্য দেবে।  কারণ সেখানে ঐক্যফ্রন্ট নয়, গণফোরাম আছে।
চতুর্থততিনি নির্বাচন করেছেন ধানের শীষ প্রতীকে।  যা আরও বড় বাধা তার জন্য।  এছাড়া তার মনোনয়নপত্রে সই করেছেন মির্জা ফখরুল।
পঞ্চমতআইন মহাসচিবকে সুযোগ দিয়েছে যে, সুলতান মনসুর দলত্যাগ করে শপথ নিতে যাচ্ছেন এই মর্মে ইসিকে চিঠি দিতে পারবেন।  এই চিঠি দেওয়া হলে আইন অনুযায়ী সুলতান মনসুর আর শপথ নিতে পারবেন না।
এই প্রসঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনও ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনও নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
তবে, বিষয়টি নিয়ে কোনো বির্তক হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।  এ বিষয়ে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হইবে কি না, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি নির্বাচন কমিশনের নিকট প্রেরিত হইবে এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।’
এছাড়া, সংসদ সদস্য হওয়ার বা সদস্য পদ হারানো সম্পর্কিত অযোগ্যতার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) ধারায় বলা আছে, যদি সংশ্লিষ্ট কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত না হন বা একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী না হন।
বিশ্লেষকরা জানান, শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুলতান মনসুরের ক্ষেত্রে সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে।  সুবিধার দিক হচ্ছে, তিনি গণফোরামের সদস্যপদ গ্রহণ করেননি।  অসুবিধা হচ্ছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা প্রত্যায়নেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।  ফলে মির্জা ফখরুল ইসলামের ভূমিকাও বড় হবে তার সদস্য পদ থাকা না থাকার বিষয়ে।  তারা বলছেন, ড. কামাল হোসেন শুধু রাজনৈতিক নন, আইনগত দিকও বিবেচনায় নিয়ে থাকবেন।  কারণ দলের নির্দেশ না মেনে শপথ নিলে গণফোরাম তাকে বহিষ্কার করবে।  আর যদি নাও করে তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সামনে ইসিকে চিঠি লেখা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘গণফোরামের মনোনয়ন নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট থেকে সুলতান মনসুর ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।  ঐক্যফ্রন্ট সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ শপথ নিতে চাইলে তার সদস্য পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে।  সংবিধান ও আরপিওতে সদস্য হওয়ার যোগ্যতায় নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বা জোট কিংবা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের সুযোগ আছে।  ভিন্ন কোনো পথ নেই।  তাই দল, জোট বা ফ্রন্ট যদি তাকে বহিষ্কার করে তবে তার সদস্য পদ আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
মো. শাহনেওয়াজ আরও বলেন, ‘এই ধরনের পরিস্থিতিতে যতক্ষণ স্পিকার নির্বাচন কমিশনের নোটিশে বিষয়টি না আনবেন, ততক্ষণ কমিশনের কিছু করার নেই।সূত্রঃ (শ্যামল সিলেট)