ঢাকা , শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
লিসবনে আত্মপ্রকাশ হয় সামাজিক সংগঠন “গোলাপগঞ্জ কমিউনিটি কেয়ারর্স পর্তুগাল “ উচ্ছ্বাস আর আনন্দে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের উদযাপন করেছে পর্তুগাল যথাযথ গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পরিবেশে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালন করেছে ভেনিস প্রবাসীরা ভেনিসে বৃহত্তর সিলেট সমিতির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এক অসুস্থ প্রজন্ম কে সাথি করে এগুচ্ছি আমরা রিডানডেন্ট ক্লোথিং আর মজুর মামার ‘বিশ্বকাপ’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঈদের কাপড় কিনার জন্য মা’য়ের উপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা লিসবনে বন্ধু মহলের আয়োজনে বিশাল ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে বিড়াল বেডে রোগী ফ্লোরে

ছয়ফুল আলম সাইফুলঃ
  • আপডেটের সময় : ১০:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯
  • / ১০৩৪ টাইম ভিউ

ছয়ফুল আলম সাইফুলঃ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় নৈরাজ্য নিয়মে পরিণত হয়েছে। সিলেট বিভাগের মানুষের শেষ ভরসাস্থল ওসমানী হাসপাতালে আশানুরূপ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাসপাতালের নিচতলা থেকে উপরে উঠতে বা ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে লাগে টাকা। রোগী ভর্তির পর টাকা না দিলে বেডের পরিবর্তে মিলে ফ্লোরে জায়গা। অথচ দিনের পর দিন বেড খালি পরে থাকে। আর সেই খালি বেডে ঘুমায় বিড়ালের দল। সম্প্রতি হাসপাতাল ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বেশী আসেন অসহায়, গরীব রোগী। আর রেফার্ড নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসেন সচ্ছল রোগীরা। মূলত সচ্ছল রোগীদের টার্গেট করে চিকিৎসা বানিজ্য রমরমা। সরকারী এ হাসপাতালে পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শুধু কমিশনের লোভে দেয়া হয় ব্যয়বহুল টেস্ট। অর্ধেকের বেশি রোগীকে টেস্টের জন্য পপুলার, মাউন্ট এডোরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ নানা স্থানে পাঠানো হয়। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, দারোয়ান, ক্লিনারদের সাথে অনেক ডাক্তার নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অতিরিক্ত রোজগারে পেছনে ছুটছেন। অভিযোগ রয়েছে দিনে অধিকাংশ ডাক্তার-নার্সরা রোগীর চেয়ে মোবাইলে সময় বেশি ব্যয় করেন। আর রাত ঘুমিয়ে কাটান। অনেকসময় রোগীর পাশে থাকা আত্মীয়স্বজন রোগীর ছটফট দেখে কর্তব্যরত নার্স বা ডাক্তারকে ডাকলে তারা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলেও শোনা যায়। এদিকে, টাকা দিয়ে কেবিনে অবস্থান করা রোগীর খোঁজখবর কোনো ডাক্তার বা নার্স নেন না বলে প্রায় শোনা যায়। বারবার বলার পর তাদের ইচ্ছে মত সময়ে তারা রোগী দেখে কেবিনে যে রোগী আছে তা পুনরায় ভুলে যান। চিকিৎসা নিতে আসা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে টাকা ছাঁড়া ঔষধ, বেড কোনটাই মিলেনা। দামি দামি যন্ত্রপাতি থাকার পরও শুধু কমিশনের লোভে হাসপাতালের বাহিরে ডাক্তারের পছন্দমত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরিক্ষা করাতে বাধ্য করা হয়। একদিকে যেমন হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে তেমনি অর্থকষ্টে পরতে হচ্ছে রোগীদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীদের দাবি, সিলেটের কোটি মানুষের ভরসাস্থল এই হাসপাতাল দুর্নীতিমুক্ত করার।

পোস্ট শেয়ার করুন

সিলেট ওসমানী হাসপাতালে বিড়াল বেডে রোগী ফ্লোরে

আপডেটের সময় : ১০:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

ছয়ফুল আলম সাইফুলঃ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় নৈরাজ্য নিয়মে পরিণত হয়েছে। সিলেট বিভাগের মানুষের শেষ ভরসাস্থল ওসমানী হাসপাতালে আশানুরূপ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। হাসপাতালের নিচতলা থেকে উপরে উঠতে বা ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে লাগে টাকা। রোগী ভর্তির পর টাকা না দিলে বেডের পরিবর্তে মিলে ফ্লোরে জায়গা। অথচ দিনের পর দিন বেড খালি পরে থাকে। আর সেই খালি বেডে ঘুমায় বিড়ালের দল। সম্প্রতি হাসপাতাল ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বেশী আসেন অসহায়, গরীব রোগী। আর রেফার্ড নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আসেন সচ্ছল রোগীরা। মূলত সচ্ছল রোগীদের টার্গেট করে চিকিৎসা বানিজ্য রমরমা। সরকারী এ হাসপাতালে পরিক্ষা-নিরিক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনে ও অপ্রয়োজনে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে শুধু কমিশনের লোভে দেয়া হয় ব্যয়বহুল টেস্ট। অর্ধেকের বেশি রোগীকে টেস্টের জন্য পপুলার, মাউন্ট এডোরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ নানা স্থানে পাঠানো হয়। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, দারোয়ান, ক্লিনারদের সাথে অনেক ডাক্তার নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অতিরিক্ত রোজগারে পেছনে ছুটছেন। অভিযোগ রয়েছে দিনে অধিকাংশ ডাক্তার-নার্সরা রোগীর চেয়ে মোবাইলে সময় বেশি ব্যয় করেন। আর রাত ঘুমিয়ে কাটান। অনেকসময় রোগীর পাশে থাকা আত্মীয়স্বজন রোগীর ছটফট দেখে কর্তব্যরত নার্স বা ডাক্তারকে ডাকলে তারা ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলেও শোনা যায়। এদিকে, টাকা দিয়ে কেবিনে অবস্থান করা রোগীর খোঁজখবর কোনো ডাক্তার বা নার্স নেন না বলে প্রায় শোনা যায়। বারবার বলার পর তাদের ইচ্ছে মত সময়ে তারা রোগী দেখে কেবিনে যে রোগী আছে তা পুনরায় ভুলে যান। চিকিৎসা নিতে আসা অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে টাকা ছাঁড়া ঔষধ, বেড কোনটাই মিলেনা। দামি দামি যন্ত্রপাতি থাকার পরও শুধু কমিশনের লোভে হাসপাতালের বাহিরে ডাক্তারের পছন্দমত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরিক্ষা করাতে বাধ্য করা হয়। একদিকে যেমন হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করায় নষ্ট হচ্ছে তেমনি অর্থকষ্টে পরতে হচ্ছে রোগীদের। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগীদের দাবি, সিলেটের কোটি মানুষের ভরসাস্থল এই হাসপাতাল দুর্নীতিমুক্ত করার।