ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সিলেটে বন্যার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, আরেক দুর্যোগের পদধ্বনি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০
  • / ৩৭৩ টাইম ভিউ

মহামারি করোনার দুর্যোগের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে সিলেট। প্রতিদিন এই ভয়ঙ্কর দুর্যোগ শক্তি বাড়িয়ে আঘাত হানছে সিলেটের মানুষের ওপর। এবার আরেক দুর্যোগের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে সিলেটে।
দায়িত্বশীলরা বলছেন, সিলেটে বন্যার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। করোনাকালে যদি বন্যা হয়, তবে দুর্যোগের ঘনঘটায় চোখে অন্ধকার দেখবেন সিলেটের মানুষ।

জানা গেছে, সিলেটে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সারা দিনই বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির গতিবেগও ছিল বেশি। অব্যাহত বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে সিলেটের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। সুরমা ও সারি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা জেঁকে বসেছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন নদীর পানির উচ্চতার তথ্য দিয়েছে পাউবো। তাতে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে, সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে একই সময়ে বিপৎসীমার ০.১১ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টেও বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.৭০ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ১০.১১ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়।
বেড়েছে কুশিয়ারা নদীর পানিও। গতকাল আমলশিদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ছিল ১৪.০৩ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে হয়েছে ১৩.৪৩ সেন্টিমিটার।
কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে শেওলা পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার যেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১১.৩১ সেন্টিমিটার, আজ সেখানে পানি বেড়ে হয়েছে ১১.৭০ সেন্টিমিটার। আর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা কাল ছিল ৯.০৭ সেন্টিমিটার, আজ সন্ধ্যা ৬টায় হয়েছে ৯.১২ সেন্টিমিটার।
এদিকে, কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যা ৬টার চেয়ে আজ সন্ধ্যায় ১.০৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল ছিল ১৩.৭৮ সেন্টিমিটার। আজ হয়েছে ১৪.৮২ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেরে জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হচ্ছে।

জানতে চাইলে সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি আছে। যদি জরুরি প্রয়োজন হয়, আমরা সাড়া দিতে পারবো।’

পোস্ট শেয়ার করুন

সিলেটে বন্যার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, আরেক দুর্যোগের পদধ্বনি

আপডেটের সময় : ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

মহামারি করোনার দুর্যোগের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে সিলেট। প্রতিদিন এই ভয়ঙ্কর দুর্যোগ শক্তি বাড়িয়ে আঘাত হানছে সিলেটের মানুষের ওপর। এবার আরেক দুর্যোগের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে সিলেটে।
দায়িত্বশীলরা বলছেন, সিলেটে বন্যার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। করোনাকালে যদি বন্যা হয়, তবে দুর্যোগের ঘনঘটায় চোখে অন্ধকার দেখবেন সিলেটের মানুষ।

জানা গেছে, সিলেটে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার সারা দিনই বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির গতিবেগও ছিল বেশি। অব্যাহত বৃষ্টিতে বেড়ে গেছে সিলেটের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। সুরমা ও সারি নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের দায়িত্বশীলরা জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ফলে সিলেটে বন্যার আশঙ্কা জেঁকে বসেছে।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিভিন্ন নদীর পানির উচ্চতার তথ্য দিয়েছে পাউবো। তাতে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে, সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে একই সময়ে বিপৎসীমার ০.১১ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টেও বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.৭০ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ১০.১১ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়।
বেড়েছে কুশিয়ারা নদীর পানিও। গতকাল আমলশিদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ছিল ১৪.০৩ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে হয়েছে ১৩.৪৩ সেন্টিমিটার।
কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে শেওলা পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার যেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১১.৩১ সেন্টিমিটার, আজ সেখানে পানি বেড়ে হয়েছে ১১.৭০ সেন্টিমিটার। আর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা কাল ছিল ৯.০৭ সেন্টিমিটার, আজ সন্ধ্যা ৬টায় হয়েছে ৯.১২ সেন্টিমিটার।
এদিকে, কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যা ৬টার চেয়ে আজ সন্ধ্যায় ১.০৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল ছিল ১৩.৭৮ সেন্টিমিটার। আজ হয়েছে ১৪.৮২ সেন্টিমিটার।
জানা গেছে, নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেরে জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হচ্ছে।

জানতে চাইলে সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাটে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি আছে। যদি জরুরি প্রয়োজন হয়, আমরা সাড়া দিতে পারবো।’