ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

সংসদ বাতিল করে ফের নির্বাচনের দাবি বিএনপির

দেশদিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ
  • আপডেটের সময় : ০১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৯
  • / ১০৪১ টাইম ভিউ

দেশদিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনে এই সংসদকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত ‘ভুয়াভোটের সংসদের প্রতিবাদ’ উপলক্ষে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে তারা এ আহ্বান জানান। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করবার জন্য দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংসদকে বাতিল করে নতুন নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, অবিলম্বে এ নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। আর জনগণ যাতে তাদের রায় দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য বেগম জিয়াসহ সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যে সংসদ বসছে, এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ ৩০ তারিখ যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা একটি ভোট ডাকাতি ও ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। শুধু মাত্র সরকার ও ইসি আইশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগের দখলদারিত্ব সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এদেশের জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার সমস্ত ষড়যন্ত্র তারা পাকাপোক্ত করেছে। ১৯৭৫ সালে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ঠিক একইভাবে আজকে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার জন্য দখলদারিত্ব সংসদ প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৩০ তারিখে কোন নির্বাচন হয়নি। কারণ ৩০ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করেছে। সরকার ও ইসি ষড়যন্ত্র করে তথাকথিত এমপি ও সংসদ ঘোষণা করেছে। তাই এটা অবৈধ, তথাকথিত ও ডাকাতির সংসদ। তাই এই সংসদ ও সরকার মানি না। তাই আমরা পুনরায় একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন চাই। এর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে।

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আজকে যে সংসদ বসছে, এটা জনগণের সংসদ নয়। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। বিবরণী যদি দিতে চাই। এটা আমরা দেবো। তথ্যসহ শ্বেতপত্র বের করা হবে।

তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশে আরেকটি নতুন নির্বাচন হতে হবে। আর এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। এটা করার জন্য সারাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তাই বর্তমান সরকারের পাশাপাশি সংসদ বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য নতুন করে আন্দোলনের আহ্বান জানান মওদুদ।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আজকে একটি কলঙ্ক দিন। কারণ বর্তমান সংসদে যারা আছেন, তারা জনগণের প্রতিনিধি নয়, তারা ভুয়াভোটের প্রতিনিধি। কারণ ৩০ তারিখে কোন নির্বাচন হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ১০ টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে নেতাকর্মীদেরর আসতে দেখা গেছে। বিএনপির মানববন্ধর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাব ও এর আশ-পাশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়া, তারেক- রহমান, লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে হবে, মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলেন নেতাকর্মীরা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

পোস্ট শেয়ার করুন

সংসদ বাতিল করে ফের নির্বাচনের দাবি বিএনপির

আপডেটের সময় : ০১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জানুয়ারী ২০১৯

দেশদিগন্ত নিউজ ডেক্সঃ একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনে এই সংসদকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির নেতারা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত ‘ভুয়াভোটের সংসদের প্রতিবাদ’ উপলক্ষে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে তারা এ আহ্বান জানান। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ও বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করবার জন্য দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সংসদকে বাতিল করে নতুন নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, অবিলম্বে এ নির্বাচন বাতিল করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ও সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে। আর জনগণ যাতে তাদের রায় দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য বেগম জিয়াসহ সকল বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যে সংসদ বসছে, এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। কারণ ৩০ তারিখ যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা একটি ভোট ডাকাতি ও ভুয়া নির্বাচন হয়েছে। শুধু মাত্র সরকার ও ইসি আইশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার হরণ করে আওয়ামী লীগের দখলদারিত্ব সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এদেশের জনগণের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার সমস্ত ষড়যন্ত্র তারা পাকাপোক্ত করেছে। ১৯৭৫ সালে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ঠিক একইভাবে আজকে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসীর মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার জন্য দখলদারিত্ব সংসদ প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ৩০ তারিখে কোন নির্বাচন হয়নি। কারণ ৩০ তারিখ রাতে ভোট ডাকাতি করেছে। সরকার ও ইসি ষড়যন্ত্র করে তথাকথিত এমপি ও সংসদ ঘোষণা করেছে। তাই এটা অবৈধ, তথাকথিত ও ডাকাতির সংসদ। তাই এই সংসদ ও সরকার মানি না। তাই আমরা পুনরায় একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন চাই। এর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে।

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আজকে যে সংসদ বসছে, এটা জনগণের সংসদ নয়। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। বিবরণী যদি দিতে চাই। এটা আমরা দেবো। তথ্যসহ শ্বেতপত্র বের করা হবে।

তিনি বলেন, অবিলম্বে বাংলাদেশে আরেকটি নতুন নির্বাচন হতে হবে। আর এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতে হবে। এটা করার জন্য সারাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তাই বর্তমান সরকারের পাশাপাশি সংসদ বাতিল করার দাবি জানাচ্ছি। ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য নতুন করে আন্দোলনের আহ্বান জানান মওদুদ।

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আজকে একটি কলঙ্ক দিন। কারণ বর্তমান সংসদে যারা আছেন, তারা জনগণের প্রতিনিধি নয়, তারা ভুয়াভোটের প্রতিনিধি। কারণ ৩০ তারিখে কোন নির্বাচন হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এর আগে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল ১০ টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে নেতাকর্মীদেরর আসতে দেখা গেছে। বিএনপির মানববন্ধর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রেসক্লাব ও এর আশ-পাশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদদের মোতায়েন করা হয়েছে।

কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়া, তারেক- রহমান, লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে হবে, মুক্তি মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তুলেন নেতাকর্মীরা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।