শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা আমার ঠিকানা: সুলতান মনসুর

বৃহস্পতিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১:১৯ অপরাহ্ণ | 506 বার

শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা আমার ঠিকানা: সুলতান মনসুর

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ   মৌলভীবাজার, ৩১ জানুয়ারি- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনকি সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি, মৌলভীবাজার-২ আসনের বর্তমান সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেছেন- শেখ হাসিনা আমার নেত্রী, বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা আমার ঠিকানা। এখানে কোনো আপস নেই। আর আমি আওয়ামী লীগ ছাড়িনি। আওয়ামী লীগ আমাকে বহিষ্কারও করেনি। নানা বিষয় নিয়ে আলাপকালে সুলতান মনসুর এসব কথা বলেন।

শপথের ব্যাপারে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর  আরও জানান- যেহেতু জনগণের জন্য রাজনীতি করি সেহেতু জনগণের মতামতকে মূল্য দিতে হবে।সারাদেশের অনেক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। এই সময়ে আমি একজন মানুষও পাইনি যে, শপথের বিপক্ষে।

শপথ না নিলে নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজার-২ আসনের ভোটারদের অসম্মান করা হবে বলেও মনে করেন সুলতান মনসুর।

সুলতান মনসুর বলেন- এর বাইরে অন্যরা কে কী বলেছে, তা আমি জানি না। সময় তো আছে, তাড়াহুড়ার কিছু নেই। ৯০ দিনের মধ্যে শপথ নিলেই হবে। জনগণ শত প্রতিকূলতা মাঝে অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের নির্বাচিত করেছে। আমি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছি। তবে সরাসরি বিএনপি থেকে নির্বাচন করিনি। ধানের শীষ ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক। যেহেতু নির্বাচন করব, তাই এই প্রতীক নিয়েছিলাম।

তিনি বলেন- আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে কেউ বের করে দেয়নি। আর আমি কোনো দলে যোগদানও করিনি। আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। গণফোরাম থেকে নির্বাচনে গেছি। কারণ গণফোরামে বঙ্গবন্ধুর চিন্তার মিল আছে।

আ’লীগে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন- আওয়ামী লীগ যদি আমাকে ডাকে তাহলে চিন্তা করতে পারি। কারণ আমাকে তো আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। বিএনপি তাদের সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে তো সবাই আলাদা দল। আমাদের সিদ্ধান্ত ‘অবশ্যই পজিটিভ’ হবে।

সুলতান মনসুর বলেন- আমিও নেত্রী সম্পর্কে কোনো দিন কোনো কটু কথা বলিনি, নেত্রীও আমার নাম উচ্চারণ করে আমার সম্পর্কে কোনো দিন কটু কিছু বলেননি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দাওয়াতের প্রসঙ্গে সুলতান মনসুর বলেন- প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াত গ্রহণ করে গণভবনে যাওয়া উচিত।

এক প্রশ্নের জবাবে মনসুর বলেন- ঐক্যফ্রন্ট সিদ্ধান্ত নিলেও সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের স্বাধীন চিন্তার অধিকার আছে। আমার এলাকার ভোটারদের কথা ভাবতে হবে। তারা কেন আমাকে নির্বাচিত করেছে। ধানের শীষ প্রতীকে আপনি নির্বাচিত হয়েছেন।

বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিলে আইনি কোনো সমস্যা হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘না, এটা কোনো সমস্যা হবে না। বিএনপি যদি সংসদে যেত, আর আমি যদি তাদের বিরুদ্ধে সংসদে ভোট দিতাম, সেক্ষেত্রে সমস্যা হতো। এখন যেহেতু বিএনপি সংসদে যাচ্ছে না। তাই আমার শপথে কোনো সমস্যা হবে না। আমি তো গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। আমার এলাকার জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে সংসদে কথা বলার জন্য। তাদের জন্য কাজ করতেই আমাকে সংসদে যেতে হবে।

এদিকে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সংসদে না যাওয়ার জন্য জোটের অন্যতম বৃহৎ শরিক দল বিএনপি চাপাচাপি করছে। একইভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ জানুয়ারি শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগে গণফোরামের নির্বাচিত দুই এমপি সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানকে শপথ নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে ঐক্যফ্রন্ট। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে প্রয়োজনে সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন তারা।

নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার কারণে একদিকে যেমন সংসদে না যেতে চাপ দিচ্ছে বিএনপি, অন্যদিকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য গণফোরামের নেতাকর্মীরা চাপ দিচ্ছে। বিএনপি সংসদে না যাওয়াকে আন্দোলনের অংশ মনে করছে। সংসদে গিয়ে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন বলছে গণফোরাম।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করায় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সুলতান মনসুর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে বিএনপি তার সদস্য পদ বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিলে তার সদস্য পদ থাকবে না।

তবে এ বিষয়ে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীর মন্তব্য হল- সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা এখনও অটল। সুলতান মনসুর আহমেদ গণফোরামের প্রেসিডিয়ামের সদস্য, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। সেভাবেই নির্বাচন হয়েছে। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের সমর্থনে নির্বাচন করেছেন। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে সংসদে না যাওয়ার, শপথ না নেওয়ার।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ২০০৯ সালের সম্মেলনে বাদ পড়েন দলীয় পদ থেকে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অনেকেই মনে করেছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখানেই শেষ। তাই অনেক নেতাই সে সময় ভিন্ন পথ ধরেছিলেন। কিন্তু সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এ কারণে জীবনের বড় একটা সময় কাটাতে হয়ছে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ে আত্মগোপনে।

৭৫-এর পর প্রথম ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে ডাকসুর ভিপি হয়ে তিনি পাদপ্রদীপে এসেছিলেন। ১৯৬৮ সাল থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন তা আজও আছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারবিরোধী ঐক্যন্টে যোগ দিলেও লাখো সরকারবিরোধী কর্মীর সামনে আঙুল উঁচিয়ে বলেছেন-‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। বারবার জনসভায় উচ্চারণ করেছেন – ‘আজন্ম বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে নিয়েই চলব।

সৎ, পরিচ্ছন্ন ও সুনীতির ব্যক্তি সুলতান মনসুর মেধাবী, আদর্শবান ও পরীক্ষিত ছাত্রনেতা হিসেবে আশির দশকে সারা বাংলাদেশ কাঁপিয়েছিলেন। নেতৃত্বগুণে শেখ হাসিনার কাছের মানুষ হতেও তার সময় লাগেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। এর প্রমাণও দিয়েছিলেন সে সময়। দায়িত্ব গ্রহণ করে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে তার সক্রিয় রাজনীতি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কিন্তু নেত্রীয় আস্থাভাজন হয়েও ১/১১-এর পর সংস্কারপন্থী হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করা হয়। সে সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে আখ্যায়িত তোফায়েল আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অনেকেই দলে ফিরে আসেন। কিন্তু ফিরে আসতে পারেননি ‘৭৫ পরবর্তী পরিস্থিতিতে অস্ত্রহাতে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধের ডাক দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং আশির দশকের কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিকে সক্রিয় ও সুসংগঠিত করার কারিগর সুলতান মনসুর।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

১৬টি বছর খুব সুন্দর ছিলো’ চিরকুটে আত্মহননকারী কলেজ ছাত্রী

deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : TAP.Com