ঢাকা , রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

শনিবার থেকে সিলেটে কঠোর লকডাউন চায় সিসিক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২০
  • / ৩৩৪ টাইম ভিউ

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটে করোনা যেন লাল চোখ দেখাচ্ছে। সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ ইতিমধ্যে অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। এছাড়া সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কোন দিকে যাচ্ছে সিলেটের প্রশাসন। এমন প্রশ্নের মাঝে একটি সিদ্ধান্ত জানা গেলো কাল বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের ১৯টি ওয়াড কঠোর লকডাউনের আওতায় আসছে। অথচ অবাক করা বিষয়, এমন সিদ্ধান্ত আবার বদলে যাওয়ার ইংগিত মিললো কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। সিটি করপোরেশনের প্রস্তাব, নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় দু’দিন পিছিয়ে শনিবার থেকে এই কঠোর লকডাউন কাযকর করা হোক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে প্রশাসনের কাছে লিখিত আকারে এই প্রস্তাব প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। আজ বুধবার লিখিতভাবে এমন প্রস্তাবনা প্রদান করা হবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক কাজী এম. এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের এক সভায় সিলেটের রেডজোন চিহ্নিত হওয়া এলাকাগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। সিলেট নগরীর ৩টি বাদে বাকী ২৪ ওয়ার্ডকেই রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যাালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, লকডাউন দু’দিন পেছানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আজকের বৈঠকে নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কাউন্সিলররা এই প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এবারের লকডাউন খুব কঠোর হবে। অনেকটা কারফিউর মতো হবে। তাই লকডাউন শুরুর আগে নাগরিকদের জরুরী কাজ সেরে নেওয়ার জন্য দুদিন সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি। তিনি বলেন, সভায় সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবারের বদলে শনিবার থেকে লকডাউন করার প্রস্তাব করা হয়। কারণ বুধবার আর পরদিনই যদি লকডাউন হয় তাহলে মানুষ বাজার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবে না। এছাড়া বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ব্যাংক, অফিস, আদালত খোলার সুবিধা নিয়ে মানুষ নিজেদের কাজ সেরে নিতে পারবে। সেজন্য আমরা শনিবার লকডাউন করার জন্য একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেই।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র মরহুম বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। মেয়রের সভাপতিত্বে এই সভায় সিসিকের প্রায় সকল কাউন্সিলর ও সব বিভাগের প্রধানরা অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল, কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, শাহপরান থানার সহকারী কমিশনার মো. মইনুল আবছার, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মো. আজাদুর রহমান আজাদ, রেজওয়ান আহমদ, আফতাব হোসেন খান, রাশেদ আহমদ, এবিএম জিল্লুর রহমান, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ইলিয়াছুর রহমান, মো. ছয়ফুল আমিন (বাকের), মোহাম্মদ তৌফিক বকস, এস এম শওকত আমিন তৌহিদ, তারেক উদ্দিন তাজ, শান্তনু দত্ত (সনতু), অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, এ কে এ লায়েক, মোস্তাক আহমদ, মো. সিকন্দর আলম, শাহানারা বেগম, রেবেকা আক্তার লাকী, অ্যাডভোকেট কুলসুমা বেগম পপি।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেছিলেন, আমরা রেডজোন চিহ্নিত হওয়া এলাকাকে লকডাউন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে মানুষজনকে একদিনের সময় দিতে চাই। তাই বৃহস্পতিবার থেকে এটি কার্যকর হবে। নগরীর ভেতরে যেহেতু রোগী বেশি তাই নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়ই রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন ঘোষণা করা হবে। নগরীর উত্তর সুরমায় থাকা ১ থেকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাগুলোতে করোনা রোগী সবচেয়ে বেশি। তাই এখানকার সবগুলো ওয়ার্ডই লকডাউন করা হতে পারে।

পোস্ট শেয়ার করুন

শনিবার থেকে সিলেটে কঠোর লকডাউন চায় সিসিক

আপডেটের সময় : ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২০

সিলেট প্রতিনিধি :
সিলেটে করোনা যেন লাল চোখ দেখাচ্ছে। সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ ইতিমধ্যে অনেকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। এছাড়া সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে কোন দিকে যাচ্ছে সিলেটের প্রশাসন। এমন প্রশ্নের মাঝে একটি সিদ্ধান্ত জানা গেলো কাল বৃহস্পতিবার থেকে সিলেটের ১৯টি ওয়াড কঠোর লকডাউনের আওতায় আসছে। অথচ অবাক করা বিষয়, এমন সিদ্ধান্ত আবার বদলে যাওয়ার ইংগিত মিললো কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। সিটি করপোরেশনের প্রস্তাব, নাগরিক সুবিধা বিবেচনায় দু’দিন পিছিয়ে শনিবার থেকে এই কঠোর লকডাউন কাযকর করা হোক।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে প্রশাসনের কাছে লিখিত আকারে এই প্রস্তাব প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। আজ বুধবার লিখিতভাবে এমন প্রস্তাবনা প্রদান করা হবে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক কাজী এম. এমদাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের এক সভায় সিলেটের রেডজোন চিহ্নিত হওয়া এলাকাগুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে লকডাউন কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়। সিলেট নগরীর ৩টি বাদে বাকী ২৪ ওয়ার্ডকেই রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সিলেট সিভিল সার্জন কার্যাালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, লকডাউন দু’দিন পেছানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আজকের বৈঠকে নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কাউন্সিলররা এই প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এবারের লকডাউন খুব কঠোর হবে। অনেকটা কারফিউর মতো হবে। তাই লকডাউন শুরুর আগে নাগরিকদের জরুরী কাজ সেরে নেওয়ার জন্য দুদিন সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছি। তিনি বলেন, সভায় সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবারের বদলে শনিবার থেকে লকডাউন করার প্রস্তাব করা হয়। কারণ বুধবার আর পরদিনই যদি লকডাউন হয় তাহলে মানুষ বাজার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবে না। এছাড়া বুধবার ও বৃহস্পতিবারের ব্যাংক, অফিস, আদালত খোলার সুবিধা নিয়ে মানুষ নিজেদের কাজ সেরে নিতে পারবে। সেজন্য আমরা শনিবার লকডাউন করার জন্য একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করার সিদ্ধান্ত নেই।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র মরহুম বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে বৈঠকের কার্যক্রম শুরু হয়। মেয়রের সভাপতিত্বে এই সভায় সিসিকের প্রায় সকল কাউন্সিলর ও সব বিভাগের প্রধানরা অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল, কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, শাহপরান থানার সহকারী কমিশনার মো. মইনুল আবছার, কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মো. আজাদুর রহমান আজাদ, রেজওয়ান আহমদ, আফতাব হোসেন খান, রাশেদ আহমদ, এবিএম জিল্লুর রহমান, ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ইলিয়াছুর রহমান, মো. ছয়ফুল আমিন (বাকের), মোহাম্মদ তৌফিক বকস, এস এম শওকত আমিন তৌহিদ, তারেক উদ্দিন তাজ, শান্তনু দত্ত (সনতু), অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম, সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, এ কে এ লায়েক, মোস্তাক আহমদ, মো. সিকন্দর আলম, শাহানারা বেগম, রেবেকা আক্তার লাকী, অ্যাডভোকেট কুলসুমা বেগম পপি।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেছিলেন, আমরা রেডজোন চিহ্নিত হওয়া এলাকাকে লকডাউন করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে মানুষজনকে একদিনের সময় দিতে চাই। তাই বৃহস্পতিবার থেকে এটি কার্যকর হবে। নগরীর ভেতরে যেহেতু রোগী বেশি তাই নগরীর বেশিরভাগ এলাকায়ই রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত করে লকডাউন ঘোষণা করা হবে। নগরীর উত্তর সুরমায় থাকা ১ থেকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকাগুলোতে করোনা রোগী সবচেয়ে বেশি। তাই এখানকার সবগুলো ওয়ার্ডই লকডাউন করা হতে পারে।