ঢাকা , শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লিভিং ঈগল সাইফুলের মৃত্যুতে মুসলিম দেশসমূহের শীর্ষ কূটনীতিকদের শোক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০
  • / ২৮১ টাইম ভিউ

গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে কর্মরত সকল মুসলিম দেশসমূহের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং হেড অফ মিশনবৃন্দ। সাইফুল আজমের স্ত্রী বেগম নিশাত আরা আজমের কাছে ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্যাডে পাঠানো এক শোকবার্তায় একথা জানানো হয়।

শোকবার্তায় মুসলিম দেশসমূহের কূটনীতিকরা বলেন, ‘গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম মুসলিম উম্মাহ’র পক্ষে তার মেধাবী সেবা প্রদানের জন্য এক সুপরিচিত নাম। বিশেষত ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে তার বীরত্বের জন্য যখন তিনি ৪টি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিলেন। মহান আল্লাহ্ তার বিদেহী আত্মাকে শান্তি দিন। তিনি যেন আপনার পরিবারকে সাহস এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠবার মনোবল দান করেন। সাইফুল আজম তার আত্মত্যাগ এবং আন্তরিকতার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই গ্রুপ ক্যাপ্টেন ৮০ বছর বয়সে গত ১৪ জুন দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পঞ্চম সংসদে তিনি পৈত্রিক এলাকা পাবনা-৩ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

সাইফুল আজম ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বেবিচকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সাইফুল আজম ১৯৬০ সালে পাকিস্তান এয়ারফোর্সে কমিশন পেয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে তিনি ১৯৭৭ সালে উইং কমান্ডার পদে উন্নীত হন। ১৯৭৯ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নেন তিনি।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম একমাত্র সামরিক পাইলট, যার চারটি বিমান বাহিনীর (বাংলাদেশ, জর্ডান, ইরাক ও পাকিস্তান) হয়ে কাজ করার কৃতিত্ব রয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘টপ গান’ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ মিলিটারি অ্যাওয়ার্ড ‘সিতারা-ই-জুরাত’ উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়াও গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (অব.) জর্ডান এবং ইরাকের Wassam-al-Istiqlal এবং Nawt-al Shuja উপাধিতে ভূষিত হন।

তিনি তিনটি দেশের সামরিক খেতাবে ভূষিত হন, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

পরে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘লিভিং ঈগল’ উপাধিতে ভূষিত করার মাধ্যমে সম্মানিত করে। তিনি ছিলেন বিশ্বের ২২ জন এই অনন্য উপাধি অর্জনকারীর মধ্যে একজন।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম বিশেষ করে ১৯৬৫ পাকিস্তান-ভারত এবং ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের নায়ক। যাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনী বিশ্বের সেরা ২২ জন বিমানবাহিনীর যোদ্ধা পাইলটদের (কমব্যাট ফাইটার) একজন জীবিত ঈগল ( লিভিং ঈগল) বলে উল্লেখ করেছে এবং তেমনিভাবেই ইতিহাসে রচিত থাকবে।

সাইফুল আজম ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের আগে পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে জর্ডান সরকারের অনুরোধে পাকিস্তান কয়েকজন ফাইটার পাইলটকে জর্ডান বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টা হিসেবে পাঠানো হয়, যাঁদের মধ্যে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সাইফুল আজম ছিলেন অন্যতম। জর্ডান পৌঁছাবার বছরখানেকের মাথায় ৬ জুন ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল অতর্কিতে আক্রমণ করে সম্মিলিত আরব বাহিনীকে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী অতর্কিতে আক্রমণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিসরের সম্পূর্ণ বিমানবাহিনীকে ধ্বংস ও পর্যদুস্ত করে। রানওয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মিসর বিমানবাহিনী তা ব্যবহারই করতে পারেনি। ফলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কোনো প্রতিরোধের মুখেই পড়েনি।
মিসরের বিমানবাহিনীর শক্তি ধ্বংস করার পর ইসরায়েলিরা জর্ডানের তুলনামূলকভাবে দুর্বল বিমানবাহিনীকে ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয় করতে জর্ডানের প্রধান বিমানঘাঁটি মাফরাক আক্রমণে উদ্যোগী হয়। এ সময় জর্ডান সরকারের অনুরোধে সাইফুল আজম এবং তাঁর অন্য সঙ্গীসহ জর্ডানের বিমানবাহিনীর কম গতিশীল হকার হান্টার নিয়ে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান ডেসল্ট সুপার মিস্টায়ারের মোকাবিলা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে একক আকাশ যুদ্ধে একটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন, অপরটিকে ধ্বংস করেন। উভয় জঙ্গিবিমানের ইসরায়েলি পাইলট ক্যাপলাম গোলান এবং গোডিয়ন ডিয়ন জর্ডানের হাতে যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরা পড়েন। ইসরায়েলিরা এমন প্রতিরোধ আশা করতে পারেনি। এই সফলতা ছাড়া জর্ডান আর কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি।

পরদিন অর্থাৎ ৭ জুন ১৯৬৭ জর্ডানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধ করার মতো অবস্থা না থাকলে সাইফুল আজমকে ইরাকে পাঠানো হয়। ইরাকে তিনি পুনরায় আকাশযুদ্ধে ইসরায়েলের ভেটোর বোম্বারের চারটি এবং যার পাহারায় ছিল সিরাজ-৩ সি, আক্রমণ করেন। ওই আক্রমণে তিনি একটি বোম্বার এবং সিরাজ-৩ সি ভূপাতিত করেন। এটাই ছিল আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের ইতিহাসে একজন পাইলটের দ্বারা ইসরায়েল বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষতি। সাইফুল আজমের এই কৃতিত্ব বিশ্বের বিমানযুদ্ধের একটি মাইলফলক। এই অনন্য ইতিহাসের কারণে তাঁকে লিভিং ইগল বা জীবন্ত ইগলের ২২ জনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সামরিক ইতিহাসে জায়গা করে নেন।

পোস্ট শেয়ার করুন

লিভিং ঈগল সাইফুলের মৃত্যুতে মুসলিম দেশসমূহের শীর্ষ কূটনীতিকদের শোক

আপডেটের সময় : ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২০

গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে কর্মরত সকল মুসলিম দেশসমূহের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং হেড অফ মিশনবৃন্দ। সাইফুল আজমের স্ত্রী বেগম নিশাত আরা আজমের কাছে ফিলিস্তিন দূতাবাসের প্যাডে পাঠানো এক শোকবার্তায় একথা জানানো হয়।

শোকবার্তায় মুসলিম দেশসমূহের কূটনীতিকরা বলেন, ‘গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অবঃ) সাইফুল আজম মুসলিম উম্মাহ’র পক্ষে তার মেধাবী সেবা প্রদানের জন্য এক সুপরিচিত নাম। বিশেষত ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধে তার বীরত্বের জন্য যখন তিনি ৪টি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিলেন। মহান আল্লাহ্ তার বিদেহী আত্মাকে শান্তি দিন। তিনি যেন আপনার পরিবারকে সাহস এবং এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠবার মনোবল দান করেন। সাইফুল আজম তার আত্মত্যাগ এবং আন্তরিকতার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।’

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এই গ্রুপ ক্যাপ্টেন ৮০ বছর বয়সে গত ১৪ জুন দুপুরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পঞ্চম সংসদে তিনি পৈত্রিক এলাকা পাবনা-৩ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

সাইফুল আজম ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ এবং ১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত বেবিচকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

সাইফুল আজম ১৯৬০ সালে পাকিস্তান এয়ারফোর্সে কমিশন পেয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে তিনি ১৯৭৭ সালে উইং কমান্ডার পদে উন্নীত হন। ১৯৭৯ সালে গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে অবসর নেন তিনি।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম একমাত্র সামরিক পাইলট, যার চারটি বিমান বাহিনীর (বাংলাদেশ, জর্ডান, ইরাক ও পাকিস্তান) হয়ে কাজ করার কৃতিত্ব রয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ‘টপ গান’ এবং ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ মিলিটারি অ্যাওয়ার্ড ‘সিতারা-ই-জুরাত’ উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়াও গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (অব.) জর্ডান এবং ইরাকের Wassam-al-Istiqlal এবং Nawt-al Shuja উপাধিতে ভূষিত হন।

তিনি তিনটি দেশের সামরিক খেতাবে ভূষিত হন, যা একটি বিশ্ব রেকর্ড। স্বাধীনতার পর তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।

পরে ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘লিভিং ঈগল’ উপাধিতে ভূষিত করার মাধ্যমে সম্মানিত করে। তিনি ছিলেন বিশ্বের ২২ জন এই অনন্য উপাধি অর্জনকারীর মধ্যে একজন।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম বিশেষ করে ১৯৬৫ পাকিস্তান-ভারত এবং ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের নায়ক। যাকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনী বিশ্বের সেরা ২২ জন বিমানবাহিনীর যোদ্ধা পাইলটদের (কমব্যাট ফাইটার) একজন জীবিত ঈগল ( লিভিং ঈগল) বলে উল্লেখ করেছে এবং তেমনিভাবেই ইতিহাসে রচিত থাকবে।

সাইফুল আজম ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের আগে পাকিস্তান বিমানবাহিনী একাডেমিতে প্রশিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে জর্ডান সরকারের অনুরোধে পাকিস্তান কয়েকজন ফাইটার পাইলটকে জর্ডান বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টা হিসেবে পাঠানো হয়, যাঁদের মধ্যে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সাইফুল আজম ছিলেন অন্যতম। জর্ডান পৌঁছাবার বছরখানেকের মাথায় ৬ জুন ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল অতর্কিতে আক্রমণ করে সম্মিলিত আরব বাহিনীকে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী অতর্কিতে আক্রমণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিসরের সম্পূর্ণ বিমানবাহিনীকে ধ্বংস ও পর্যদুস্ত করে। রানওয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মিসর বিমানবাহিনী তা ব্যবহারই করতে পারেনি। ফলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী কোনো প্রতিরোধের মুখেই পড়েনি।
মিসরের বিমানবাহিনীর শক্তি ধ্বংস করার পর ইসরায়েলিরা জর্ডানের তুলনামূলকভাবে দুর্বল বিমানবাহিনীকে ধ্বংস ও নিষ্ক্রিয় করতে জর্ডানের প্রধান বিমানঘাঁটি মাফরাক আক্রমণে উদ্যোগী হয়। এ সময় জর্ডান সরকারের অনুরোধে সাইফুল আজম এবং তাঁর অন্য সঙ্গীসহ জর্ডানের বিমানবাহিনীর কম গতিশীল হকার হান্টার নিয়ে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক জঙ্গিবিমান ডেসল্ট সুপার মিস্টায়ারের মোকাবিলা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে একক আকাশ যুদ্ধে একটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেন, অপরটিকে ধ্বংস করেন। উভয় জঙ্গিবিমানের ইসরায়েলি পাইলট ক্যাপলাম গোলান এবং গোডিয়ন ডিয়ন জর্ডানের হাতে যুদ্ধবন্দী হিসেবে ধরা পড়েন। ইসরায়েলিরা এমন প্রতিরোধ আশা করতে পারেনি। এই সফলতা ছাড়া জর্ডান আর কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি।

পরদিন অর্থাৎ ৭ জুন ১৯৬৭ জর্ডানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধ করার মতো অবস্থা না থাকলে সাইফুল আজমকে ইরাকে পাঠানো হয়। ইরাকে তিনি পুনরায় আকাশযুদ্ধে ইসরায়েলের ভেটোর বোম্বারের চারটি এবং যার পাহারায় ছিল সিরাজ-৩ সি, আক্রমণ করেন। ওই আক্রমণে তিনি একটি বোম্বার এবং সিরাজ-৩ সি ভূপাতিত করেন। এটাই ছিল আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধের ইতিহাসে একজন পাইলটের দ্বারা ইসরায়েল বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ ক্ষতি। সাইফুল আজমের এই কৃতিত্ব বিশ্বের বিমানযুদ্ধের একটি মাইলফলক। এই অনন্য ইতিহাসের কারণে তাঁকে লিভিং ইগল বা জীবন্ত ইগলের ২২ জনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে সামরিক ইতিহাসে জায়গা করে নেন।