ঢাকা , সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
  • / ১৪৪ টাইম ভিউ

রাজবাড়ীতে লটারিতে শাশুড়ি মা’র জেতা মোটরসাইকেল না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হামেদা বেগম (৩৬) বর্তমানে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বড় ভবানীপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর মেয়ে।

হামেদা বেগমের স্বামী আব্দুল শেখ (৪০) সুলতানপুর ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের লালচাঁন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন নরসুন্দর। হামেদা-আব্দুল দম্পতির তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

হামেদার চাচা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৩ মে রাজবাড়ী শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারিতে একটি মোটরসাইকেল পান হামেদার মা জবেদা বেগম। লটারির টিকিটটি তিনি কেনেন ছোট মেয়ে হামেদা বেগমের ছেলে আমির হামজার নামে। ছেলের নামে কেনা টিকিটে মোটরসাইকেল পাওয়ায় মোটরসাইকেলটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান হামেদার স্বামী আব্দুল শেখ। তবে হামেদার ভাই ও অন্য দুই বোন মায়ের জেতা মোটরসাইকেলে নিজেদের অংশ আছে দাবি করে মোটরসাইকেলটি আব্দুলের কাছ থেকে ফেরৎ নিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার (১৭ মে) সকালে স্ত্রী হামেদাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আব্দুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে হামেদার মা জবেদা বেগম মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছেন। তিনি আজ (শনিবার) দুপুরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও চালিয়েছেন। পরে বিকেলে আমি আব্দুলকে ফোন করে আমার ভাতিজি হামেদাকে বাড়ি নিয়ে যেতে অনুরোধ করি। তবে আব্দুল আমাকে জানায় যত যা কিছুই হোক সে আর হামেদাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেবে না। প্রয়োজনে সে জেলের ভাত খাবে, তারপরও সে হামেদাকে তালাক দেবে।’

হামেদার বড় বোন জরিনা বেগম বলেন, ‘লটারিতে আমার মা মোটরসাইকেল পেয়েছে। ওই মোটরসাইকেলে আমাদের চার ভাই-বোনেরই অংশ আছে। কিন্তু আমার ছোটবোনের স্বামী আব্দুল মোটরসাইকেলটি একাই নিতে চায়। মোটরসাইকেলটি জেতার পর সে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। আমরা সেটি ফেরৎ নিয়ে আসায় সে আমার বোনকে মারধর করে বাড়ি থেকে তারিয়ে দিয়েছে। আমরা চার ভাই-বোন ও মা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মোটরসাইকেল বিক্রি করে টাকা সমানভাবে পাঁচজন ভাগ করে নেব।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হামেদার স্বামী আব্দুল শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হামেদাকে আমি আর বাড়ি আনবো না। ওকে আমি তালাক দেব।’

গত ২৩ এপ্রিল থেকে রাজবাড়ী শহরের মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে শুরু হয় এক মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। মেলা শুরু থেকেই অবৈধ র‍্যাফেল ড্রয়ের নামে চলছে লটারি বাণিজ্য। এটি এখন মেলার মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। লোভনীয় বিভিন্ন অফারের লোভে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন লটারির টিকিট কিনছেন। মেলার আয়োজক ও র‍্যাফেল ড্র-সংশ্লিষ্টরা লটারি বিক্রি করে প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

পোস্ট শেয়ার করুন

লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের

আপডেটের সময় : ০৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

রাজবাড়ীতে লটারিতে শাশুড়ি মা’র জেতা মোটরসাইকেল না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হামেদা বেগম (৩৬) বর্তমানে সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বড় ভবানীপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত শুকুর আলীর মেয়ে।

হামেদা বেগমের স্বামী আব্দুল শেখ (৪০) সুলতানপুর ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের লালচাঁন শেখের ছেলে। তিনি পেশায় একজন নরসুন্দর। হামেদা-আব্দুল দম্পতির তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

হামেদার চাচা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৩ মে রাজবাড়ী শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় লটারিতে একটি মোটরসাইকেল পান হামেদার মা জবেদা বেগম। লটারির টিকিটটি তিনি কেনেন ছোট মেয়ে হামেদা বেগমের ছেলে আমির হামজার নামে। ছেলের নামে কেনা টিকিটে মোটরসাইকেল পাওয়ায় মোটরসাইকেলটি নিজের বাড়িতে নিয়ে যান হামেদার স্বামী আব্দুল শেখ। তবে হামেদার ভাই ও অন্য দুই বোন মায়ের জেতা মোটরসাইকেলে নিজেদের অংশ আছে দাবি করে মোটরসাইকেলটি আব্দুলের কাছ থেকে ফেরৎ নিয়ে আসেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার (১৭ মে) সকালে স্ত্রী হামেদাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আব্দুল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে হামেদার মা জবেদা বেগম মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছেন। তিনি আজ (শনিবার) দুপুরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাও চালিয়েছেন। পরে বিকেলে আমি আব্দুলকে ফোন করে আমার ভাতিজি হামেদাকে বাড়ি নিয়ে যেতে অনুরোধ করি। তবে আব্দুল আমাকে জানায় যত যা কিছুই হোক সে আর হামেদাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেবে না। প্রয়োজনে সে জেলের ভাত খাবে, তারপরও সে হামেদাকে তালাক দেবে।’

হামেদার বড় বোন জরিনা বেগম বলেন, ‘লটারিতে আমার মা মোটরসাইকেল পেয়েছে। ওই মোটরসাইকেলে আমাদের চার ভাই-বোনেরই অংশ আছে। কিন্তু আমার ছোটবোনের স্বামী আব্দুল মোটরসাইকেলটি একাই নিতে চায়। মোটরসাইকেলটি জেতার পর সে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। আমরা সেটি ফেরৎ নিয়ে আসায় সে আমার বোনকে মারধর করে বাড়ি থেকে তারিয়ে দিয়েছে। আমরা চার ভাই-বোন ও মা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মোটরসাইকেল বিক্রি করে টাকা সমানভাবে পাঁচজন ভাগ করে নেব।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হামেদার স্বামী আব্দুল শেখের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হামেদাকে আমি আর বাড়ি আনবো না। ওকে আমি তালাক দেব।’

গত ২৩ এপ্রিল থেকে রাজবাড়ী শহরের মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে শুরু হয় এক মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা। মেলা শুরু থেকেই অবৈধ র‍্যাফেল ড্রয়ের নামে চলছে লটারি বাণিজ্য। এটি এখন মেলার মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। লোভনীয় বিভিন্ন অফারের লোভে সাধারণ মানুষ প্রতিদিন লটারির টিকিট কিনছেন। মেলার আয়োজক ও র‍্যাফেল ড্র-সংশ্লিষ্টরা লটারি বিক্রি করে প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।