রাজধানীর আবাসিক হোটেলে

বুধবার, ৩১ মে ২০১৭ | ৩:৪৩ অপরাহ্ণ | 774 বার

রাজধানীর আবাসিক হোটেলে

রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোর অধিকাংশই অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খুুন, ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি ও পতিতাবৃত্তিসহ ঘটছে নানা লোমহর্ষক ঘটনা। কোনো কোনো হোটেল রীতিমতোকিলিংজোনে পরিণত হয়েছে। হোটেল পরিচালনায় বেঁধে দেয়া নিয়ম-কানুনের কিছুই মানছে না কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও মস্তানদের মাসোয়ারা দিয়ে অনেকেই নিজেদের ইচ্ছামতোপরিচালনা করছেন। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ১০ বছরে রাজধানীর আবাসিক হোটেলে ৩ শতাধিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। আর ধর্ষণের ঘটনার পরিসংখ্যান নেই কারও কাছে। কখনওভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে, কখনও নাম-ঠিকানা রেজিস্টারে না লিখেই অপরাধীরা রুম ভাড়া নিচ্ছে। এরপর টার্গেট করা ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর নির্বিঘেœ পালিয়ে যাচ্ছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির অভাবে আবাসিক হোটেলগুলো অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে। ফকিরাপুলে আবাসিকহোটেল আল শাহিন থেকে ২১ মে রাতে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পাশ থেকে ২০ দিন বয়সী এক মেয়ে শিশুকেও উদ্ধার করা হয়। শিশুটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজহাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে চিকিৎসাধীন। ওই তরুণী এবং শিশুকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওইদিন ভোরে রুম ভাড়া নিয়েছিল ঘাতক। হোটেল কর্তৃপক্ষ রেজিস্টারে তাদের নাম-ঠিকানাওলেখেনি। ফলে এ হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন এবং ঘাতককে ধরতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। মহাখালীতে আবাসিক হোটেল জাকারিয়ায় এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২২ মে বনানীথানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ওই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া বনানীর আবাসিক হোটেল দ্য রেইনট্রিতে দুই তরুণীকে আটকেরাতভর ধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এর আগে ১৮ এপ্রিল আবদুল্লাহপুরের নীলা আবাসিক হোটেলে পুষ্প রানী নামে এক নারীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠেন এক ব্যক্তি।এরপর পুষ্প রানীকে হত্যা করে তার নাতনি শিশু মনিষাকে নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক। পরে পুলিশ ওই ঘাতককে গ্রেফতার এবং শিশু মনিষাকে উদ্ধার করে। রাজধানীর অনেক আবাসিকহোটেলে অহরহ ঘটছে এ ধরনের অপরাধ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালের মার্চ থেকে আবাসিক হোটেলের বোর্ডারদের নাম,ঠিকানা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে নির্দেশনা দেয়া আছে। হোটেলে সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিংসহ বোর্ডারদের ছবিও তুলে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।বর্ডারের দেয়া মোবাইল নম্বর সঠিক কি না তাও যাচাই করতে বলা হয়েছে। পূরণ করা তথ্য ফরমের ফটোকপি প্রতিদিন স্থানীয় থানায় পাঠানোর নির্দেশনাও রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়,এসব নির্দেশনার কিছুই পালন করছেন না বেশির ভাগ আবাসিক হোটেলের মালিক। ফলে খুন, ধর্ষণের পাশাপাশি প্রতারণার মাধ্যমে নগ্ন ছবি ধারণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জুয়ারআসরসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। এসব হোটেল থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট মাহাবুবুর রহমান বলেন,আবাসিক হোটেলগুলোতে সিসিটিভি মনিটরিং না করায় অপরাধীরা অপরাধ করে পার পাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক হোটেলে সিসিটিভি থাকলেও তা নিম্নমানের হওয়ায় প্রয়োজনীয় ফুটেজপর্যালোচনায় সংশ্লিষ্টরা বিপাকে পড়েন। মতিঝিল থানার ওসি তদন্ত গোলাম রাব্বানী বলেন, মতিঝিল থানার অধীনে থাকা আবাসিক হোটেলগুলোতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। তিনিবলেন, নির্দেশনা না মানায় হোটেল আল শাহীন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পল্টন থানার ওসি রফিকুল ইসলাম এবং তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলামও জানান, তাদেরএলাকার হোটেলগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ফকিরাপুল, মতিঝিল, গুলিস্তান, নবাবপুরসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজারের সঙ্গেকথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ আবাসিক হোটেলেই সিসিটিভি নেই। বোর্ডারদের ছবি তোলা হয় না। জাতীয় পরিচয়পত্র না দেখেই রেজিস্টারে নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া মোবাইলনম্বর সঠিক কি না তাও যাচাই করা হয় না। একজন হোটেল ম্যানেজার জানান, নিয়মিত চাঁদা দিয়েই তারা ব্যবসা চালাচ্ছেন। এ কারণে তারা এসব নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করেন না।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

১৬টি বছর খুব সুন্দর ছিলো’ চিরকুটে আত্মহননকারী কলেজ ছাত্রী

deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : TAP.Com