ঢাকা , শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
যথাযথ গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পরিবেশে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালন করেছে ভেনিস প্রবাসীরা ভেনিসে বৃহত্তর সিলেট সমিতির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এক অসুস্থ প্রজন্ম কে সাথি করে এগুচ্ছি আমরা রিডানডেন্ট ক্লোথিং আর মজুর মামার ‘বিশ্বকাপ’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঈদের কাপড় কিনার জন্য মা’য়ের উপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা লিসবনে বন্ধু মহলের আয়োজনে বিশাল ইফতার ও দোয়া মাহফিল মান অভিমান ভুলে সবাই একই প্লাটফর্মে,সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগাল বিএনপির নবগঠিত আহবায়ক কমিটি ইতালির ভিসেন্সায় সিলেট ডায়নামিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠিত

মৌলভীবাজারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১১ জন চিকিৎসাধীন

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
  • আপডেটের সময় : ০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯
  • / ৩৬৮ টাইম ভিউ

মৌলভীবাজারেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। গেল ২ সপ্তাহ আগে ১ থেকে ২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত থাকলেও এখন এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। প্রথম দিকে আক্রান্ত যে দু’একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তারা ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা ঢাকা ও এখানকার বাসিন্দা তবে তারা ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। এ-পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সর্বমোট ১১ জন রোগী। এদের মধ্যে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধিন আছেন মোট দুইজন। অন্য দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এরা বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ছাড়াও শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া চারজনের মধ্যে দুইজন রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকৎিসার জন্য সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চতুর্থতলায় আলাদা ডেঙ্গু কর্ণার চালু করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে ফিরেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধিন আছেন মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রহমান আলী খান ও সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকার হেলু মিয়ার পুত্র মারাজ মিয়া (৩৫)।মৌলভীবাজার পলিট্যাকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রহমান আলী খান জানান, “তার পাশের একজন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে হোস্টেলে ফেরার পরপরই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত চারদিন যাবত হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠছেন”। এদিকে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ২৫টি রেপিড টেস্ট হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: পার্থ সারতী পাল কাননগো’র কক্ষে সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরীর হাতে এসব ডিভাইস হস্তান্ত করেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান। ঢাকা থেকে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ ডিভাইস রেপিড টেস্ট গুলো সংগ্রহ করা হয়। শুধু মাত্র মৌলভীবাজার হাসাপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া রোগী এই মেশিন ব্যবহার করে টেস্ট করতে পারবেন।

২৯ জুলাই রোববার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরী। শনিবার রাতে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ফজলুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরী সহ অন্যান্যরা হাসপাতালে ভর্তি থাকা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দেখতে যান। জানা যায় মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত দের মধ্যে দুইজন ছাড়া অন্যরা ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এসেছেন।

তবে দুইজন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সদর হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এর তথ্যমতে জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। এদের মধ্যে ২ জন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে, ২ জন মৌলভী পলি ক্লিনিকে এবং ২ জন সিলেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ২ জন সদর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এছাড়া শনিবার আরও নতুন দুইজনের ও রবিবারে একজনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। তবে তাদের শারিক অবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে মৌলভীবাজার পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মৌলভীবাজার-৩ সদর-রাজনগর আসনের সদস্য সদস্য নেছার আহমদ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবির চৌধুরী জানান ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ উপ-জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র গুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।

পোস্ট শেয়ার করুন

মৌলভীবাজারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ১১ জন চিকিৎসাধীন

আপডেটের সময় : ০৮:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯

মৌলভীবাজারেও ধীরে ধীরে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। গেল ২ সপ্তাহ আগে ১ থেকে ২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত থাকলেও এখন এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে। প্রথম দিকে আক্রান্ত যে দু’একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তারা ছিলেন ঢাকার বাসিন্দা। এখন যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা ঢাকা ও এখানকার বাসিন্দা তবে তারা ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। এ-পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন সর্বমোট ১১ জন রোগী। এদের মধ্যে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধিন আছেন মোট দুইজন। অন্য দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এরা বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ছাড়াও শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া চারজনের মধ্যে দুইজন রোগী ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকৎিসার জন্য সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চতুর্থতলায় আলাদা ডেঙ্গু কর্ণার চালু করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে ফিরেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধিন আছেন মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রহমান আলী খান ও সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকার হেলু মিয়ার পুত্র মারাজ মিয়া (৩৫)।মৌলভীবাজার পলিট্যাকনিক ইন্সটিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রহমান আলী খান জানান, “তার পাশের একজন শিক্ষার্থী ঢাকা থেকে হোস্টেলে ফেরার পরপরই তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত চারদিন যাবত হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠছেন”। এদিকে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ২৫টি রেপিড টেস্ট হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: পার্থ সারতী পাল কাননগো’র কক্ষে সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরীর হাতে এসব ডিভাইস হস্তান্ত করেন মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মো. ফজলুর রহমান। ঢাকা থেকে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ ডিভাইস রেপিড টেস্ট গুলো সংগ্রহ করা হয়। শুধু মাত্র মৌলভীবাজার হাসাপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া রোগী এই মেশিন ব্যবহার করে টেস্ট করতে পারবেন।

২৯ জুলাই রোববার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরী। শনিবার রাতে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ ও মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: ফজলুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা: শাহজাহান কবির চৌধুরী সহ অন্যান্যরা হাসপাতালে ভর্তি থাকা চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দেখতে যান। জানা যায় মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত দের মধ্যে দুইজন ছাড়া অন্যরা ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এসেছেন।

তবে দুইজন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকেরা। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সদর হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এর তথ্যমতে জেলায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১১ জন। এদের মধ্যে ২ জন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে, ২ জন মৌলভী পলি ক্লিনিকে এবং ২ জন সিলেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ২ জন সদর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে নিশ্চিত করেছে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এছাড়া শনিবার আরও নতুন দুইজনের ও রবিবারে একজনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। তবে তাদের শারিক অবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে মৌলভীবাজার পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মৌলভীবাজার-৩ সদর-রাজনগর আসনের সদস্য সদস্য নেছার আহমদ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবির চৌধুরী জানান ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ উপ-জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র গুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।