ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মানববন্ধনের প্রতিবাদে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
  • আপডেটের সময় : ১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯
  • / ৪৬৫ টাইম ভিউ

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ভবন সম্প্রসারণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বড়ির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু।

তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেন এবং ভবনের কাজে যে অনিয়ম হয়েছে সেটার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। আজ ৯ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়ার রেস্ট হাউজে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ভূকশিমইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের একটি ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। এই ভবনের ২য় ও ৩য় তলার ছাদ ঢালাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীগণ সরেজমিনে অবস্থান করে কাজ তদারকি করেন। গত ১ অক্টোবর টয়লেট ব্লকের নীচ তলার ছাঁদ ঢালাইয়ের কাজ করা হয় যা উপসহকারি প্রকৌশলী আবু সাঈদ মুহাম্মদ রাহী নিজে উপস্থিত থেকে দেখাশুনা করেন। এদিন সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের ২য় তলায় মোজাইক মিস্ত্রি সবার অগোচরে অত্যন্ত নিম্নমানের প্যাটেন্ট স্টোন ঢালাই করে এবং পরদিন রাত পোহাবার পূর্বে কাজ করতে শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. আজমল আলী বাঁধা দেয় এবং গভর্ণিং বডির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে গভর্নিং বডির সদস্য পংকি মিয়া, এলাইচ মিয়া, মো. আমিন উদ্দিনসহ মুরব্বিগণ সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল মনছুর সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জুবের আহমদ ও উপপ্রকৌশলী আবু সাঈদ মুহাম্মদ রাহীকে অবহিত করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর আমি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপসহকারী প্রকৌশলী ও গভর্ণিং বডির সদস্যরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নিম্নমানের প্যাটেন্ট স্টোন অপসাধারণ করে সংশ্লিষ্ট উপপ্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নতুন করে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার সে মোতাবেক কাজ করতে সম্মত হন।

গভর্নিং বডির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন- ভূকশিমইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজে যে অনিয়ম হয়েছিলো আমরা তা অবগত হওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে এর সমাধানও করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মীমাংসিত একটি বিষয় নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরবর্তীতে এলাকার মানববন্ধনের নামে মাইক বেঁধে আমার ও আমার দলের বিরুদ্ধে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে তাদের মনগড়া, অসত্য, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে।

রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন- উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির শুধুমাত্র দলীয় হীনমন্যতা থেকে এইসব অপকর্মের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার বিরোধীতা এমন অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। মানববন্ধনে আমার বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে তারা আমার সম্মানহানির জন্য এর আয়োজন করেছিলো এবং এর মাধ্যমে সুকৌশলে আমার দল আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদির তোফায়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গৌরা দে, আ’লীগ নেতা কামাল হাসান, ভাটেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, ভাটেরা ইউনিয়ন আ. লীগ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকি নানু, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সবুজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এহসান আহমদ টিপু, ছাত্রলীগ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল প্রমুখ।

পোস্ট শেয়ার করুন

মানববন্ধনের প্রতিবাদে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটের সময় : ১২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের ভবন সম্প্রসারণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে গত ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বড়ির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু।

তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেন এবং ভবনের কাজে যে অনিয়ম হয়েছে সেটার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের। আজ ৯ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুলাউড়ার রেস্ট হাউজে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, ভূকশিমইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের একটি ভবনের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। এই ভবনের ২য় ও ৩য় তলার ছাদ ঢালাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীগণ সরেজমিনে অবস্থান করে কাজ তদারকি করেন। গত ১ অক্টোবর টয়লেট ব্লকের নীচ তলার ছাঁদ ঢালাইয়ের কাজ করা হয় যা উপসহকারি প্রকৌশলী আবু সাঈদ মুহাম্মদ রাহী নিজে উপস্থিত থেকে দেখাশুনা করেন। এদিন সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের ২য় তলায় মোজাইক মিস্ত্রি সবার অগোচরে অত্যন্ত নিম্নমানের প্যাটেন্ট স্টোন ঢালাই করে এবং পরদিন রাত পোহাবার পূর্বে কাজ করতে শুরু করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. আজমল আলী বাঁধা দেয় এবং গভর্ণিং বডির সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে গভর্নিং বডির সদস্য পংকি মিয়া, এলাইচ মিয়া, মো. আমিন উদ্দিনসহ মুরব্বিগণ সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল মনছুর সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার জুবের আহমদ ও উপপ্রকৌশলী আবু সাঈদ মুহাম্মদ রাহীকে অবহিত করা হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর আমি এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপসহকারী প্রকৌশলী ও গভর্ণিং বডির সদস্যরা সরেজমিনে উপস্থিত থেকে নিম্নমানের প্যাটেন্ট স্টোন অপসাধারণ করে সংশ্লিষ্ট উপপ্রকৌশলীর উপস্থিতিতে নতুন করে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ঠিকাদার সে মোতাবেক কাজ করতে সম্মত হন।

গভর্নিং বডির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন- ভূকশিমইল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজে যে অনিয়ম হয়েছিলো আমরা তা অবগত হওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে এর সমাধানও করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, মীমাংসিত একটি বিষয় নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরবর্তীতে এলাকার মানববন্ধনের নামে মাইক বেঁধে আমার ও আমার দলের বিরুদ্ধে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে তাদের মনগড়া, অসত্য, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে।

রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন- উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির শুধুমাত্র দলীয় হীনমন্যতা থেকে এইসব অপকর্মের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে সরকার বিরোধীতা এমন অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। মানববন্ধনে আমার বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে তারা আমার সম্মানহানির জন্য এর আয়োজন করেছিলো এবং এর মাধ্যমে সুকৌশলে আমার দল আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল মতিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোক্তাদির তোফায়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গৌরা দে, আ’লীগ নেতা কামাল হাসান, ভাটেরা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, ভাটেরা ইউনিয়ন আ. লীগ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকি নানু, উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সবুজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা এহসান আহমদ টিপু, ছাত্রলীগ সম্পাদক আবু সায়হাম রুমেল প্রমুখ।