ঢাকা , রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

মাগুরা লকডাউনে কিন্ত চলছে অবাধ যাতায়াত- প্রশাসন নিরব

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২০
  • / ৭৪৭ টাইম ভিউ

রেড জোন, ইয়েলো জোন, লকডাউন। দেশে বেশ কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, কথাগুলো।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়ায় করোনায় আক্রান্ত সংখ্যাও একেবারে কম না, এর মধ্যে মাগুড়াতে তুলনামূলকভাবে হয়তো বেশী, আর না হয় মাগুড়া ছাড়া শহরের কোথাও লকডাউন করা হয়নি কেনো ?
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ৩ টি রেডজোন এলাকাকে চিহ্নিত করা হয় ।
এলাকাগুলো হচ্ছে পৌরসভার মাগুরা ও কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর এবং বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর গ্রাম। তা নিশ্চিত করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ।
তবে লকডাউনকৃত এলাকায় বিধি-নিষেধ পুরোপুরি মানছেন না পার্শবর্তী বাসিন্দাদের অনেকেই ,এমন গুরুতর অভিযোগও করেছেন স্হানীয় বাসিন্দারা।তা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় লিখালিখি হলেও কর্নপাত করছেন না কেউ ।
পৌর শহরের মাগুড়া আবাসিক এলাকা কয়েক যুগ থেকে টিচার এলাকা বলেও নাম ডাক আছে অনেক, কেনো না কুলাউড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর দুই – তৃতীয়াংশ টিচার রা মাগুড়াতে বসবাস করেন, এমন কি কুলাউড়ার যে কয়টি সংঙ্গীত একাডেমি আছে সবকটি এই মাগুড়ায় ।তাই এই এলাকাকে নিরাপত্তা বিবেচনায় একটু বেশীই প্রয়োজন মনে করেন সবাই ।
এই এলাকাকে লকডাউন করা হয়েছে সত্য, কিন্তু তা সবই শুধু কাগজে- কলমে ।
লকডাউন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোর বিভিন্ন চলাচলের রাস্তায় বাঁশ বেঁধে লকডাউন লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হলেও তার ফাঁক গলিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে, সাথে বাইসাইকেল নিয়ে আসা-যাওয়া করছে অনেকই এমন চিত্রও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসমান ।
স্হানীয় বাসিন্দারা বলেন মাঝে মধ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘোরা ফেরা করলে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে চলে আসতো ।এসব এলাকার জনগণকে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হলে তা তারা মানলেও,বাহিরে লোকেরা যেনো তা জানেই না ।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শান্তির ব্যাবস্থা করলে ,জনসাধারনের মধ্যে ভয় কাজ করতো ।
যেহেতু সড়কটি কাদিপুর হয়ে ভূকশীমইল থেকে সকালের বাজারে মানুষের আসা-যাওয়ার মূল ফটক,।দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উপজেলার সকালের বাজার(দক্ষিন বাজার) প্রবেশ পথ হলো মাগুড়ার এই রাস্তা, দেশদিগন্ত প্রতিনিধি বাজার ঘুরে দেখেছে, মানুষের অবাধেই যাতায়াত করছেন, শহরের বাজারগুলোতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়,সামাজিক দূরত্ব বজায় না মেনে তারা বাজারে কেনাকাটা করছেন এবং ঐ রাস্তা দিয়ে লকডাউনের তোয়াক্কা না করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষেরা ।
কিন্তু চোখে  পড়ার মতো কোন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেক ।মাগুড়ার একজন সাবেক সরকারী কর্মকর্তা দেশদিগন্ত কে বলেন আমার ছেলে মেয়ে প্রবাসে থাকে, আমরা বয়স্ক দুইজন বাসায় থাকি নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উৎকন্ঠায় ও উদ্বিগ্ন । ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের একজন সাবেক কর্মচারী বলেন দিনে একেবার খেলে আবার খেতে পারি না, বৃদ্ধ বয়সে তাও মাগুরার বাহিরে যাই না ভয়ে, কিন্তু বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন মাগুরার ভিতর দিয়ে বাশের বেড়ার নিচে দিয়ে যাতায়াত করছে, তাহলে মাগুড়াবাসী নিরাপদ কোথায় ।
মাগুরায় বসবাসরত শিক্ষকরা বলেন আমরা নিরাপত্তার জন্য প্রাইভেট পড়তে আসা নিষেধ করে দিয়েছি ছাত্র-ছাত্রীদের, কিন্তু আমাদের সহ এলাকার নিরাপত্তা থাকছে কোথায়, লকডাউন করার পর মাগুড়ায় বসবাসরতরা তা মানলেও, মানছে না পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকেরা ।
মাগুড়ার প্রবাসীরা তাদের পরিবার নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন, তার বহি:প্রকাশ করছেন ছবি সহ সোস্যাল মিডিয়াতে লিখে প্রশাসনের দৃষ্টিও আর্কষন করছেন ।
একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন মাটে থাকার কথা থাকলেও, এসবে প্রশাসন যেনো নিরব দর্শক ।
স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিয়মিত চলাচল করছেন মানুষ। উপজেলা প্রশাসনও এ ব্যাপারে অনেকটা দায়সারাভাবে কাজ করছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানুষ অবাধে চলাচল করছে এসব এলাকায়।
পৌরসভা নির্বাচন খুব সন্নিকটে থাকায় জনপ্রতিনিধিরা হিসাব কষে এগুচ্ছেন, কাউন্সিলার গণ দেখেও, না দেখার বান করে চলছেন । করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে হলে লকডাউন এলাকার সকল প্রবেশের পথে চেকপোস্ট বসিয়ে তা কার্যকর করতে পারবে প্রশাসন ।

পোস্ট শেয়ার করুন

মাগুরা লকডাউনে কিন্ত চলছে অবাধ যাতায়াত- প্রশাসন নিরব

আপডেটের সময় : ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

রেড জোন, ইয়েলো জোন, লকডাউন। দেশে বেশ কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, কথাগুলো।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়ায় করোনায় আক্রান্ত সংখ্যাও একেবারে কম না, এর মধ্যে মাগুড়াতে তুলনামূলকভাবে হয়তো বেশী, আর না হয় মাগুড়া ছাড়া শহরের কোথাও লকডাউন করা হয়নি কেনো ?
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় ৩ টি রেডজোন এলাকাকে চিহ্নিত করা হয় ।
এলাকাগুলো হচ্ছে পৌরসভার মাগুরা ও কাদিপুর ইউনিয়নের মনসুর এবং বরমচাল ইউনিয়নের নন্দনগর গ্রাম। তা নিশ্চিত করেছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ।
তবে লকডাউনকৃত এলাকায় বিধি-নিষেধ পুরোপুরি মানছেন না পার্শবর্তী বাসিন্দাদের অনেকেই ,এমন গুরুতর অভিযোগও করেছেন স্হানীয় বাসিন্দারা।তা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় লিখালিখি হলেও কর্নপাত করছেন না কেউ ।
পৌর শহরের মাগুড়া আবাসিক এলাকা কয়েক যুগ থেকে টিচার এলাকা বলেও নাম ডাক আছে অনেক, কেনো না কুলাউড়ার প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এর দুই – তৃতীয়াংশ টিচার রা মাগুড়াতে বসবাস করেন, এমন কি কুলাউড়ার যে কয়টি সংঙ্গীত একাডেমি আছে সবকটি এই মাগুড়ায় ।তাই এই এলাকাকে নিরাপত্তা বিবেচনায় একটু বেশীই প্রয়োজন মনে করেন সবাই ।
এই এলাকাকে লকডাউন করা হয়েছে সত্য, কিন্তু তা সবই শুধু কাগজে- কলমে ।
লকডাউন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোর বিভিন্ন চলাচলের রাস্তায় বাঁশ বেঁধে লকডাউন লেখা ব্যানার টাঙিয়ে দেয়া হলেও তার ফাঁক গলিয়ে মানুষের অবাধ যাতায়াত অব্যাহত রয়েছে, সাথে বাইসাইকেল নিয়ে আসা-যাওয়া করছে অনেকই এমন চিত্রও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাসমান ।
স্হানীয় বাসিন্দারা বলেন মাঝে মধ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘোরা ফেরা করলে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে চলে আসতো ।এসব এলাকার জনগণকে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হলে তা তারা মানলেও,বাহিরে লোকেরা যেনো তা জানেই না ।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শান্তির ব্যাবস্থা করলে ,জনসাধারনের মধ্যে ভয় কাজ করতো ।
যেহেতু সড়কটি কাদিপুর হয়ে ভূকশীমইল থেকে সকালের বাজারে মানুষের আসা-যাওয়ার মূল ফটক,।দুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে উপজেলার সকালের বাজার(দক্ষিন বাজার) প্রবেশ পথ হলো মাগুড়ার এই রাস্তা, দেশদিগন্ত প্রতিনিধি বাজার ঘুরে দেখেছে, মানুষের অবাধেই যাতায়াত করছেন, শহরের বাজারগুলোতে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড়,সামাজিক দূরত্ব বজায় না মেনে তারা বাজারে কেনাকাটা করছেন এবং ঐ রাস্তা দিয়ে লকডাউনের তোয়াক্কা না করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষেরা ।
কিন্তু চোখে  পড়ার মতো কোন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনের পক্ষ থেক ।মাগুড়ার একজন সাবেক সরকারী কর্মকর্তা দেশদিগন্ত কে বলেন আমার ছেলে মেয়ে প্রবাসে থাকে, আমরা বয়স্ক দুইজন বাসায় থাকি নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উৎকন্ঠায় ও উদ্বিগ্ন । ইলেকট্রিক সাপ্লাইয়ের একজন সাবেক কর্মচারী বলেন দিনে একেবার খেলে আবার খেতে পারি না, বৃদ্ধ বয়সে তাও মাগুরার বাহিরে যাই না ভয়ে, কিন্তু বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন মাগুরার ভিতর দিয়ে বাশের বেড়ার নিচে দিয়ে যাতায়াত করছে, তাহলে মাগুড়াবাসী নিরাপদ কোথায় ।
মাগুরায় বসবাসরত শিক্ষকরা বলেন আমরা নিরাপত্তার জন্য প্রাইভেট পড়তে আসা নিষেধ করে দিয়েছি ছাত্র-ছাত্রীদের, কিন্তু আমাদের সহ এলাকার নিরাপত্তা থাকছে কোথায়, লকডাউন করার পর মাগুড়ায় বসবাসরতরা তা মানলেও, মানছে না পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকেরা ।
মাগুড়ার প্রবাসীরা তাদের পরিবার নিয়ে উৎকন্ঠায় আছেন, তার বহি:প্রকাশ করছেন ছবি সহ সোস্যাল মিডিয়াতে লিখে প্রশাসনের দৃষ্টিও আর্কষন করছেন ।
একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন লকডাউন কার্যকর করতে প্রশাসন মাটে থাকার কথা থাকলেও, এসবে প্রশাসন যেনো নিরব দর্শক ।
স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিয়মিত চলাচল করছেন মানুষ। উপজেলা প্রশাসনও এ ব্যাপারে অনেকটা দায়সারাভাবে কাজ করছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মানুষ অবাধে চলাচল করছে এসব এলাকায়।
পৌরসভা নির্বাচন খুব সন্নিকটে থাকায় জনপ্রতিনিধিরা হিসাব কষে এগুচ্ছেন, কাউন্সিলার গণ দেখেও, না দেখার বান করে চলছেন । করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে হলে লকডাউন এলাকার সকল প্রবেশের পথে চেকপোস্ট বসিয়ে তা কার্যকর করতে পারবে প্রশাসন ।