ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনে হত্যার প্রতিবাদে পর্তুগালে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশী প্রবাসীরা প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর

বিএনপি থেকে আরো হেবিওয়েট নেতাদের পদত্যাগের গুঞ্জন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৯
  • / ৩২৫ টাইম ভিউ

মোশের্দ খান, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের পর বিএনপির আরো কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে তারেক জিয়ার আধিপত্য, অবিবেচক সিদ্ধান্ত এবং ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই বিএনপিতে পদত্যাগের মিছিল শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের পর থেকেই পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছিল। দলের সিনিয়র নেতারা তাদের অনুরোধ করে থামালেও সাম্প্রতিক সময় আবার নতুন করে পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

বিশেষ করে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের পর বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই পদত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। যারা এই পদত্যাগের মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবি খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ আরো কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে। যারা দলের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তাদের অসন্তোষের কথা তারা ইতিমধ্যেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল তাদের অনুরোধ করেছেন যে, এখন তারা পদত্যাগ করলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো আলাপ আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলতে হবে।

কিন্তু বিএনপিতে অসন্তুষ্ট নেতারা বলছেন যে, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে থাকলে বিএনপির কোনো ভবিষ্যত নেই। তারেক জিয়ার একক সিদ্ধান্তে যদি দল চলে, তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার কোনোটাই সম্ভব হবে না। তাই তারা এরকম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, বিএনপিতে মান অভিমান থাকতে পারে, আন্দোলনের ব্যর্থতা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে পদত্যাগের মতো বড় রকমের কোনো সিদ্ধান্ত কেউ নেবেন বলে তিনি মনে করেন না।

বিএনপির অন্য একজন নেতা অবশ্য বলছেন, যখন বিএনপি নতুন করে আন্দোলন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, তখন সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এরকম পদত্যাগের আওয়াজ উঠছে। কারণ সরকার চাইছে না যে বিএনপি খালেদার মুক্তি এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সংঘবদ্ধ আন্দোলন করুক।

যেসব নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগের চিন্তা করছেন, তাদের সঙ্গে তারেক ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দলের মহাসচিব এবং একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন যে, তারেক যোগাযোগ করলে ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে, পদত্যাগ আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। বরং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসের মতো নেতারাই তাদের বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত তাদেরকে বুঝিয়ে কতটুকু নমনীয় করা যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

পোস্ট শেয়ার করুন

বিএনপি থেকে আরো হেবিওয়েট নেতাদের পদত্যাগের গুঞ্জন

আপডেটের সময় : ০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৯

মোশের্দ খান, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের পর বিএনপির আরো কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে তারেক জিয়ার আধিপত্য, অবিবেচক সিদ্ধান্ত এবং ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণেই বিএনপিতে পদত্যাগের মিছিল শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের পর থেকেই পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছিল। দলের সিনিয়র নেতারা তাদের অনুরোধ করে থামালেও সাম্প্রতিক সময় আবার নতুন করে পদত্যাগের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

বিশেষ করে লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের পর বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাই পদত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। যারা এই পদত্যাগের মিছিলে যোগ দিতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, বেগম খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবি খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ আরো কয়েকজন হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে। যারা দলের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে পদত্যাগ করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তাদের অসন্তোষের কথা তারা ইতিমধ্যেই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জানিয়েছেন। মির্জা ফখরুল তাদের অনুরোধ করেছেন যে, এখন তারা পদত্যাগ করলে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো আলাপ আলোচনা করে মিটিয়ে ফেলতে হবে।

কিন্তু বিএনপিতে অসন্তুষ্ট নেতারা বলছেন যে, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে থাকলে বিএনপির কোনো ভবিষ্যত নেই। তারেক জিয়ার একক সিদ্ধান্তে যদি দল চলে, তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার কোনোটাই সম্ভব হবে না। তাই তারা এরকম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, বিএনপিতে মান অভিমান থাকতে পারে, আন্দোলনের ব্যর্থতা নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ থাকতেই পারে। তবে পদত্যাগের মতো বড় রকমের কোনো সিদ্ধান্ত কেউ নেবেন বলে তিনি মনে করেন না।

বিএনপির অন্য একজন নেতা অবশ্য বলছেন, যখন বিএনপি নতুন করে আন্দোলন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, তখন সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এরকম পদত্যাগের আওয়াজ উঠছে। কারণ সরকার চাইছে না যে বিএনপি খালেদার মুক্তি এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সংঘবদ্ধ আন্দোলন করুক।

যেসব নেতারা অসন্তোষ প্রকাশ করে পদত্যাগের চিন্তা করছেন, তাদের সঙ্গে তারেক ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দলের মহাসচিব এবং একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন যে, তারেক যোগাযোগ করলে ফলাফল হিতে বিপরীত হতে পারে, পদত্যাগ আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। বরং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগমীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসের মতো নেতারাই তাদের বোঝানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত তাদেরকে বুঝিয়ে কতটুকু নমনীয় করা যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।