আপডেট

x


বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক, মোরশেদ খানের অফিসে আলতাফ-কামাল ইউসুফ ও নাসের রহমান

বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | ৭:২৪ অপরাহ্ণ | 146 বার

বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক, মোরশেদ খানের অফিসে আলতাফ-কামাল ইউসুফ ও নাসের রহমান

মোরশেদ খানের পর এবার পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। নিজের হাতে লেখা পদত্যাগপত্র দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে দিয়েছেন সাবেক এই সেনাপ্রধান। তবে সেই চিঠি মহাসচিব এখনো প্রকাশ করেননি বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি বিএনপির রাজনীতি থেকে পদত্যাগ করেছি। মাস দুয়েক আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। দলের মহাসচিবকেই চিঠি দিয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বিএনপির মহাসচিবকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, লন্ডনে এক সভায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার বাবা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ‘জাতির পিতা’ আখ্যা দিয়ে এর সমর্থনে নেতা-কর্মীদের কাছে প্রস্তাব রেখেছিলেন। এ সময় সভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানের প্রস্তাবকে কণ্ঠভোটে সমর্থন করেন। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে এলে এ বিষয়ে দ্বিমত প্রকাশ করে দেশের একটি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন মাহবুবুর রহমান। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে চারজন নেতা মাহবুবুর রহমানের দ্বিমত পোষণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ নিয়ে ওই বৈঠকে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়, মাহবুবুর রহমান যেন তার দ্বিমতের বক্তব্যের বিষয়ে লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। দুই দিন পর এ বিষয়ে জানতে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য মাহবুবুর রহমানের বাসায় গেলে তিনি তার দ্বিমত পোষণের বক্তব্যে অনড় থাকার কথা জানিয়ে দেন। এরপরই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।



অবশ্য গত রাতে মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী নাগিনা মাহবুব জানান, তার স্বামীর পদত্যাগের বিষয়টি সঠিক নয়। দীর্ঘদিন থেকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে নেই। দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। পদত্যাগের বিষয়টি গুজব।

জানা যায়, যথাযথ সম্মান না পাওয়া, অবজ্ঞা করা, দলের ভিতরে গণতন্ত্র না থাকা, রাজনীতিতে কোণঠাসা অবস্থান, বার্ধক্যজনিত কারণ, মামলা-হামলার চাপসহ নানা কারণেই বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা পদত্যাগের চিন্তা করছেন। এর মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য পদত্যাগ করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন। স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বেশ কয়েকবার পদত্যাগের চিঠি পাঠান। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ড বিশেষ করে স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যরা দলের এই দুঃসময়ে বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে পদত্যাগ না করার অনুরোধ করেন। এরপর পদত্যাগ করা থেকে সরে আসেন তারা।

বিএনপির কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে গুলশান অফিসে গিয়েও ফেরত আসেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপির দুই সিনিয়র নেতার পদত্যাগের পর দলের ভিতরে-বাইরে তুমুল ঝড় বইতে শুরু করেছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোরশেদ খান ও মাহবুবুর রহমানের পথ ধরে বিএনপির সিনিয়র আরও কিছু নেতা এখন দল ছাড়ার চিন্তাভাবনা করছেন।

এ নিয়ে দলের ভিতরে-বাইরে নানা গুঞ্জন চলছে। স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান ও সম্পাদকীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার মধ্যেই এমন মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। আবার কেউ কেউ এমনটাও বলছেন, ‘বেগম জিয়া যতদিন জীবিত থাকবেন ততদিনই তারা বিএনপি করবেন। এরপর রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন।’

মোরশেদ খানের পদত্যাগের পর দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মোরশেদ খানের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ দলের দুঃসময়ে এটা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। তবে অনেকেই তাকে ফোনে সমবেদনা জানাচ্ছেন। মোরশেদ খানের মহাখালীর অফিসে গতকাল বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকে দেখা গেছে।

এর মধ্যে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, নাসের রহমান প্রমুখ। এ ছাড়া আরও অনেক নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ করেন। কেউ কেউ টেলিফোনে মোরশেদ খানের সঙ্গে কথা বলে তাকে সমবেদনা জানান। প্রতিকূল পরিবেশে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান বিএনপির একাধিক নেতা। মোরশেদ খানকে সমবেদনা জানিয়ে এসে বিএনপির এক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিনি এখন যে কাজটি করেছেন তা তার আরও এক বছর আগে করা উচিত ছিল। তাছাড়া মোরশেদ খানকে যেভাবে অপমানিত করা হয়েছে, তাতে তার পদত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের পদত্যাগে ‘আহত’ হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। মোরশেদ খানকে নিজের ‘বন্ধু’ আখ্যা দিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘মোরশেদ খানের পদত্যাগের ঘোষণা গণমাধ্যমে দেখলাম। তবে এটা খুবই দুঃখজনক।’ স্থায়ী কমিটির আরও দু-একজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে দলের অভ্যন্তরে নানা ইস্যুতে স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমানের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের আস্থাহীনতাও তৈরি হয়েছে। স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এমপিদের শপথ গ্রহণের আগে তারা কিছুই জানতেন না। এ ছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর কমিটি গঠনেও সিনিয়র নেতারা কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সবকিছুই হচ্ছে লন্ডন থেকে। স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আক্ষেপ করে বলেন, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করার মজাই ছিল আলাদা। বেগম জিয়ার সঙ্গেও রাজনীতি করা যায়।
এরপর বিএনপির রাজনীতি তাদের জন্য বেমানান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধও সিনিয়র নেতারা।

এর আগে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু, চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র মনজুর আলম, আলোচিত বিএনপি নেতা ইকোনো কামাল ও আলী আসগর লবি। এর মধ্যে ইনাম আহমেদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন আর শমসের মবিন চৌধুরী বিকল্প ধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য হন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments


ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাওয়ার্ড পেল কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়

deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : TAP.Com