ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে…

বাড়ি ফেরা হলো না তাদের, গ্রামের বাড়ীতে শোকের মাতম

দেশদিগন্ত :
  • আপডেটের সময় : ১২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭
  • / ১৬২৫ টাইম ভিউ

মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতের হাওয়ালি জেলার সালমিয়া এলাকায় শহরে একটি আবাসিক ভবনের তিন তলার বসবাসরত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামের জুনাইদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ পাঁচজনের মর্মান্তিকভাবে মারা যাওয়ার ঘটনায় গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় জুনাইদের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও এবং নিহত রোকেয়া বেগমের বাপের বাড়ি মৌলভীবাজারের গুজারাই গ্রামে খবর পৌছামাত্র শুরু হয় কান্নার রোল। ছেলের বউ ও নাতি-নাতনির একসাথে অকাল মৃত্যুর ঘটনায় বৃদ্ধ মা মরিয়ম বেগম (৭০), জুনাইদের বড় বোন মুসলিমা বেগম (৩৮), বড়মামা খিজির আহমদ খাঁন, পাশের বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল আজিদসহ স্বজনরা অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শোকাহত পরিবারটিকে শান্তনা দিতে ছুটে যান জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার শত শত গ্রামবাসী। গৃহকর্তা জুনাইদ আহমদ বাসার বাইরে থাকায় বেঁচে যান। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় কুয়েত শহরের সালমিয়াত এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে কান্দিগাঁও গ্রামে গেলে জুনাইদ আহমেদের মামা খিজির আহমদ জানান, তার ভাগ্নে জুনাইদ আহমদ স্ত্রী সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কুয়েতে বসবাস করছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জুনাইদ স্বপরিবারে দেশে এসে আবার ২ ফেব্রুয়ারি কুয়েত ফিরে যান। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বপরিবারে বাংলাদেশ আসার কথা ছিল। কিন্তু আর জীবিত ফিরতে পারলেন না পরিবারের লোকজন। সোমবার বিকালে জুনাইদ আহমদ বাসার বাইরে থাকাকালে আকস্মিকভাবে এ ভবনের ৫ তলার একটি বাসায় এসির কম্প্রেসার বিষ্ফোরণ ঘটে ভবনে আগুন লেগে যায়। ভয়ে ৪ তলা থেকে নিচে নামতে গিয়ে ৩ তলার বাসিন্দা জুনাইদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩২), মেয়ে জামিলা আহমদ (১৫), ছেলে ইমাদ আহমদ (১২), মেয়ে নাবিলা আহমদ (৯) ও ছেলে ফাহাদ আহমদ (৫) ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ভবনের ভিতরেই মারা যান।

নিহতের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামে একমাত্র বৃদ্ধা মা মরিয়ম বিবি (৭০) ছাড়া আর কেউ নেই। ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার রাতেই জুনাইদের বড় বোন মুসলিমা বেগম (৪৮) স্বামীর বাড়ি থেকে এসে মায়ের পাশের এসে অবস্থান করছেন। নিহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের বাবার বাড়ী মৌলভীবাজার জেলা শহরের গোজারাই গ্রামে। সেখানেও শোকের মাতম চলছে। পরিবারে আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠে।

জুনাইদ আহমদ এর স্ত্রী রোকেয়ার বড় ভাই জাকারিয়া আহমেদ জানান, ২০০০ সালে জুনেদের সাথে তার ছোট বোন রোকেয়ার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের ৬ মাস পর তার বোনকে নিয়ে জুনাইদ কুয়েতে চলে যায়। তার ভাগিনা/ভাগিনি সবারই জন্ম হয়েছে কুয়েতে। আর জীবিত দেখার সুযোগ হলো না। তিনি জানান, কুয়েত থেকে লাশ দেশে আনার জন্য জুনাইদ আহমেদ চেষ্টা করছেন। কয়েক দিনের মধ্য দেশে লাশ আনা হতে পারে। এদিকে কান্দিগাঁও গ্রামে শোকে কাতর জুনাইদের বৃদ্ধা মা ময়িরম বেগম বাকচাপরিয়ে কান্নাকাটি করছেন। তিনি বাকরুদ্ধ অবস্থায় বলেন, আমার নাতি/নাতনিরা ইদানিং প্রায়ই ফোন করে দেশে আসার কথা বলতো, কিন্তু তারা দেশে আসতে পারল না, এই শোক আমি কেমন করে সইবো? আর কথা বলতে পারলেন না, বাকরুদ্ধ হয়ে যান। ভাতিজা খালেদ মাসুদ (২০) জানান, দুর্ঘটনার ৩০ মিনিট আগেও তিনি ফোন করে বাড়ি ঘরের খোঁজখবর নেন।

জুনাইদ আহমদের মা বৃদ্ধা মরিয়ম বিবি জানান দুর্ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগেও রোকেয়া বেগম শাশুরির সাথে মোবালে ফোনে কথা বলেছেন।  গত ফেব্রুয়ারী মাসে রোকেয়া বেগম সন্তানাদি নিয়ে দেশে আসেন। এবং গ্রামের অনেক মহিলাকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ান। আগুন লাগার আধাঘন্টা আগে পাশের কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও তাদের পাশের বাড়ির দেবর পুত্র খালেদের সাথে কথা বলেন বলে জানান খালেদ। এদিকে তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু সংবাদ পেয়ে  দেশের বাড়িতে অবস্থানরত জুনাইদের মা ও স্বজনরা বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন।

বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুয়েত প্রবাসী কমলগঞ্জের বাসিন্দা একই পরিবারের পাঁচ জনের মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোর থেকে কান্দিগাঁও গ্রামে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। শুরু হয় শোকের মাতম। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহামম্মদ মাহমুদুল হকসহ জনপ্রতিনিধিসহ সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ বাড়িতে এসে সমবেদনা জানান।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক সাথে মাসহ বাকী ৪ সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। সমবেদনা জানাতে এসি তিনি নিজেও বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।

পোস্ট শেয়ার করুন

বাড়ি ফেরা হলো না তাদের, গ্রামের বাড়ীতে শোকের মাতম

আপডেটের সময় : ১২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৭

মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতের হাওয়ালি জেলার সালমিয়া এলাকায় শহরে একটি আবাসিক ভবনের তিন তলার বসবাসরত মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামের জুনাইদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ পাঁচজনের মর্মান্তিকভাবে মারা যাওয়ার ঘটনায় গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টায় জুনাইদের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও এবং নিহত রোকেয়া বেগমের বাপের বাড়ি মৌলভীবাজারের গুজারাই গ্রামে খবর পৌছামাত্র শুরু হয় কান্নার রোল। ছেলের বউ ও নাতি-নাতনির একসাথে অকাল মৃত্যুর ঘটনায় বৃদ্ধ মা মরিয়ম বেগম (৭০), জুনাইদের বড় বোন মুসলিমা বেগম (৩৮), বড়মামা খিজির আহমদ খাঁন, পাশের বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল আজিদসহ স্বজনরা অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শোকাহত পরিবারটিকে শান্তনা দিতে ছুটে যান জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার শত শত গ্রামবাসী। গৃহকর্তা জুনাইদ আহমদ বাসার বাইরে থাকায় বেঁচে যান। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় কুয়েত শহরের সালমিয়াত এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে কান্দিগাঁও গ্রামে গেলে জুনাইদ আহমেদের মামা খিজির আহমদ জানান, তার ভাগ্নে জুনাইদ আহমদ স্ত্রী সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে কুয়েতে বসবাস করছেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জুনাইদ স্বপরিবারে দেশে এসে আবার ২ ফেব্রুয়ারি কুয়েত ফিরে যান। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বপরিবারে বাংলাদেশ আসার কথা ছিল। কিন্তু আর জীবিত ফিরতে পারলেন না পরিবারের লোকজন। সোমবার বিকালে জুনাইদ আহমদ বাসার বাইরে থাকাকালে আকস্মিকভাবে এ ভবনের ৫ তলার একটি বাসায় এসির কম্প্রেসার বিষ্ফোরণ ঘটে ভবনে আগুন লেগে যায়। ভয়ে ৪ তলা থেকে নিচে নামতে গিয়ে ৩ তলার বাসিন্দা জুনাইদ আহমদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩২), মেয়ে জামিলা আহমদ (১৫), ছেলে ইমাদ আহমদ (১২), মেয়ে নাবিলা আহমদ (৯) ও ছেলে ফাহাদ আহমদ (৫) ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ভবনের ভিতরেই মারা যান।

নিহতের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও গ্রামে একমাত্র বৃদ্ধা মা মরিয়ম বিবি (৭০) ছাড়া আর কেউ নেই। ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার রাতেই জুনাইদের বড় বোন মুসলিমা বেগম (৪৮) স্বামীর বাড়ি থেকে এসে মায়ের পাশের এসে অবস্থান করছেন। নিহত গৃহবধূ রোকেয়া বেগমের বাবার বাড়ী মৌলভীবাজার জেলা শহরের গোজারাই গ্রামে। সেখানেও শোকের মাতম চলছে। পরিবারে আত্মীয়স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ ভারী হয়ে উঠে।

জুনাইদ আহমদ এর স্ত্রী রোকেয়ার বড় ভাই জাকারিয়া আহমেদ জানান, ২০০০ সালে জুনেদের সাথে তার ছোট বোন রোকেয়ার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের ৬ মাস পর তার বোনকে নিয়ে জুনাইদ কুয়েতে চলে যায়। তার ভাগিনা/ভাগিনি সবারই জন্ম হয়েছে কুয়েতে। আর জীবিত দেখার সুযোগ হলো না। তিনি জানান, কুয়েত থেকে লাশ দেশে আনার জন্য জুনাইদ আহমেদ চেষ্টা করছেন। কয়েক দিনের মধ্য দেশে লাশ আনা হতে পারে। এদিকে কান্দিগাঁও গ্রামে শোকে কাতর জুনাইদের বৃদ্ধা মা ময়িরম বেগম বাকচাপরিয়ে কান্নাকাটি করছেন। তিনি বাকরুদ্ধ অবস্থায় বলেন, আমার নাতি/নাতনিরা ইদানিং প্রায়ই ফোন করে দেশে আসার কথা বলতো, কিন্তু তারা দেশে আসতে পারল না, এই শোক আমি কেমন করে সইবো? আর কথা বলতে পারলেন না, বাকরুদ্ধ হয়ে যান। ভাতিজা খালেদ মাসুদ (২০) জানান, দুর্ঘটনার ৩০ মিনিট আগেও তিনি ফোন করে বাড়ি ঘরের খোঁজখবর নেন।

জুনাইদ আহমদের মা বৃদ্ধা মরিয়ম বিবি জানান দুর্ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগেও রোকেয়া বেগম শাশুরির সাথে মোবালে ফোনে কথা বলেছেন।  গত ফেব্রুয়ারী মাসে রোকেয়া বেগম সন্তানাদি নিয়ে দেশে আসেন। এবং গ্রামের অনেক মহিলাকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ান। আগুন লাগার আধাঘন্টা আগে পাশের কমলগঞ্জের কান্দিগাঁও তাদের পাশের বাড়ির দেবর পুত্র খালেদের সাথে কথা বলেন বলে জানান খালেদ। এদিকে তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু সংবাদ পেয়ে  দেশের বাড়িতে অবস্থানরত জুনাইদের মা ও স্বজনরা বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন।

বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুয়েত প্রবাসী কমলগঞ্জের বাসিন্দা একই পরিবারের পাঁচ জনের মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোর থেকে কান্দিগাঁও গ্রামে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। শুরু হয় শোকের মাতম। ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহামম্মদ মাহমুদুল হকসহ জনপ্রতিনিধিসহ সামাজিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ বাড়িতে এসে সমবেদনা জানান।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক সাথে মাসহ বাকী ৪ সন্তান মৃত্যুবরণ করেছে। সমবেদনা জানাতে এসি তিনি নিজেও বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।