ঢাকা , শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বহু গুণে গুণান্বিত মন্ট্রিয়ল এর জননন্দিত কুলাউড়ার অনুপ চৌধুরী মিটু

নিজামুর রহমান টিপু
  • আপডেটের সময় : ০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ১১১১ টাইম ভিউ

বহু গুণে গুনান্বিত মন্ট্রিয়ল এর জননন্দিত কুলাউড়ার অনুপ চৌধুরী মিটু

মৌলভীবাজার জেলার প্রাচীন একটি জনপদের নাম কুলাউড়া। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, শিল্প সাহিত্য,ক্রীড়া, সংস্কৃতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শহরের অনুপ চৌধুরী মিটু জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি একজন বহুমাত্রিক ও বহু গুণে গুণান্বিত মানুষ। কোনো একক পরিচয়ে তাঁকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
নিজ জন্মভূমির সংস্কৃতি তুলে জনসচেতনার সৃষ্টির লক্ষ্যে কানাডার মন্ট্রিয়ল এ গঠন করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রয়েছে তার অকৃত্রিম পথচলা।
সর্বস্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছেন মন্ট্রিয়ল এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে।
দেশের গন্ডি পেরিয়ে কানাডা’র মন্ট্রিয়ল এর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে সু-সংগঠিত করেছেন।দেশদিগন্ত এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে কানাডার মন্ট্রিয়ল এর বিশিষ্ট সংগঠক অনুপ চৌধুরী মিটু বলেন কালের পরিক্রমায় ও সময়ের বিবর্তনে হাজারো স্মৃতিবিজড়িত কুলাউড়া উনার কাছে জলছবি হয়ে আছে ।

দেশদিগন্ত টিপু: সংগীতের প্রতি আপনার অনুরাগ সৃষ্টি হলো কিভাবে ?

অনুপ চৌধুরী মিটু : আমি যখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়ি, রাজনৈতিক মামলায় পলাতক হয়ে আমার বড় মামা তখন আমাদের বাসায় থাকতেন। মামা খুব ভালো গান করতেন। কিছুদিনের মধ্যেই সিলেট অঞ্চলের সংগীত মহলের অনেকের সাথে মামার পরিচয় হলো। আমাদের বাসায় দিনরাত গানের আসর চলতেই থাকতো। তখন থেকেই সংগীতের প্রতি ধীরে ধীরে ভালোলাগা শুরু হয়।

দেশদিগন্ত টিপু : সংগঠন করার উৎসাহ কিভাবে পেলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু : ক্লাস সিক্স এ আমি সিলেট চলে যাই। চাকুরী সূত্রে বাবা তখন সিলেটে। সিলেটে তখন পাড়াভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব ছিল। মূলত খেলাধুলা, সামাজিক ছোট খাটো অনুষ্ঠান ছিল এই সব ক্লাবের কাজ।
আমি যে পাড়াতে থাকতাম, সেখানে “শাপলা সংঘ” নামের ক্লাবটির সাথে আমি জড়িত হয়ে যাই।

দেশদিগন্ত টিপু:  বাংলদেশে আপনার সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কথা যদি আমাদের একটু বলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু : ক্লাস ৮ এর শেষের দিকে কুলাউড়া ফিরে আসি। দক্ষিণ মাগুরায় তখন আমরা কয়েকজন মিলে”শাপলা সংঘ” গড়ে তুলি। আমি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। বিভিন্ন খেলার আয়োজন, বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন এবং সাঁতার প্রতিযোগিতা, কুলাউড়া ফুটবল লিগে অংশগ্রহণ সহ সামাজিক কাজ হিসাবে রাস্তা সংস্কার করে আমরা প্রশংসা পেয়েছিলাম।
আহসান ভাইয়ের নেতৃত্বে একসময় খেলাঘর একটি শক্তিশালী সংগঠন ছিল। উনার অসুস্থতা জনিত অনুপস্থিতির কারণে আমি কিছুদিন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে খেলাঘরের দায়িত্ব পালন করি।
খেলাঘরের দায়িত্ব ছাড়ার সাথে সাথেই লেদু স্যারকে সভাপতি এবং আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে উদীচীর নতুন কমিটি ঘোষণা হয়।
উদীচীর উদ্যোগে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আমরা অসংখ্য অনুষ্ঠান করেছিলাম কয়েক বছর দায়িত্ব পালনকালে।
একপর্যায়ে আমি ঢাকা চলে যাই। ঢাকায় অবস্থানকালে “ঢাকা পদাতিক” থিয়েটার গ্রূপের সাথে জড়িয়ে যাই। প্রায় ৪ বছরে সেই সময় গাইড হাউস মিলনায়তন, মহিলা সমিতি মঞ্চ, জাতীয় জাদুঘর মঞ্চ, বাংলা একাডেমি, চারুকলা, টিএসসি চত্বর সহ ঢাকার বাইরেও কয়েকটি শো সহ বেশ কয়েকটি নাটকের প্রায় পঞ্চাশ অধিক মঞ্চায়নে অংশ নেই।
একই সময় সালাউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের উদ্যোগে কুলাউড়ায়, “চৌকষ নাট্য সম্প্রদায়” গড়ে উঠে।
আমিও তাদের সাথে ছিলাম।
বিভিন্ন সময়ে ঢাকা এবং কুলাউড়ায় অনুষ্ঠান এবং নাটক নিয়ে আসা যাওয়া করেছি।

দেশদিগন্ত টিপু: কুলাউড়ায় আপনাকে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে দেখেছি। সেই সময়টা কি এখন মিস করেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: তরুণ সংঘের হয়ে বিভিন্ন সময় খেলায় অংশ নিয়েছি, যদিও খেলায় আমি কোনো সময়ই তত ভালো ছিলাম না।
বিশেষ করে মাগুরায় বড়-ছোট সবাই মিলে বিকালে আমরা ফুটবল খেলতাম। নিজাম ভাই, শামীম ভাই, আশীষ দা, বেলাল ভাই, নামীম ভাই, ডাবলু এবং লাভলু ভাই, জসিম ভাই, আশরাফ, জাকারিয়া , নুরুল, কয়েস, শামীম সহ আরো অনেকে এই খেলায় নিয়মিত অংশ নিতো।
তুমি, মাসুম সহ ছোটরাও তখন আমাদের সাথে খেলতে আসতে। আমরা বড়দের যেমন সম্মান করতাম, বড়রাও আমাদের স্নেহ করতেন। সুন্দর একটা পরিবেশ ছিল।
দেশদিগন্ত টিপু: ঢাকায় কুলাউড়ার ছাত্রদের সংগঠনে আপনি মনে হয় একবার নির্বাচন করেছিলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: অনেকের অনুরোধে আমি ঢাকাস্থ কুলাউড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। আমাদের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক ছিল সিপার উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান মেয়র, কুলাউড়া পৌরসভা।
নির্বাচনের পূর্বে কানাডার ভিসা পেয়ে যাওয়ায় তখন আমি প্রার্থিতা উইথড্র করি, কিছুদিন পরেই কানাডা চলে আসি।

আমার বাবা আগে থেকেই কানাডা ছিলেন। আমরা ৩ ভাই, একবোন এবং মা একসাথে কানাডা আসি।
দেশদিগন্ত টিপু:  দেশ ছেড়ে কানাডায় এসে কেমন লেগেছিলো ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: কানাডা আসার পর দেশকে খুব মিস করতাম। মনে হতো কিছু টাকা পয়সা কামিয়ে আবার দেশে চলে যাবো।

দেশদিগন্ত টিপু: কানাডায় এসে আবার কিভাবে সামাজিক -সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত হলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: কানাডায় আসার পর আমি প্রথম যে কোম্পানিতে কাজ করি, সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন ছিলোনা। আমরা কয়েকজন মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার আন্দোলন শুরু করি। এক পর্যায়ে আমি ইউনিয়নের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হই। একসময় আমার বাবার উৎসাহে এখানে পূজা উৎযাপন কমিটির সাথে জড়িয়ে যাই।
বিভিন্ন সময় প্রায় ৪ বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। অসংখ্য অনুষ্ঠান আয়োজনে ভূমিকা রাখি।
কমুনিটির মুরুব্বিদের নির্ভরতা এবং ইচ্ছার সম্মান দিতে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসাবে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেই।
এখনো দ্বিতীয় মেয়াদে আবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।

দেশদিগন্ত টিপু:  সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমানে আপনার ভূমিকা কি ?
অনুপ চৌধুরী মিটু: ২০১৭ সালে আমরা “লোকজ মন্ট্রিয়ল” নামে একটি সাংস্কৃতিক সগঠন করি। এই সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয়, দেশ এবং পশ্চিমবাংলার শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন চলমান।
এই বছরের শুরুতে দেশ থেকে আসা প্রফেশনাল যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে আমরা গঠন করি, “দামাল মিউজিক্যাল গ্রুপ” যারা বর্তমানে কানাডার বিভিন্ন শহরে দেশ এবং ভারত থেকে আসা সংগীত শিল্পীদের সাথে সংগত করছেন। সময় পেলে আমিও তাদের সাথে একটু বাজানোর চেষ্টা করি।
আমি উভয় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি শুরু থেকেই।

দেশদিগন্ত টিপু: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলেন –

অনুপ চৌধুরী মিটু:আমার একমেয়ে, এইবছর কলেজ শুরু করেছে, এক ছেলে আগামী বছর হাই স্কুলে যাবে। স্ত্রী ছোটবেলা গান, নৃত্য এবং নাটক করতো। এখন শুধুমাত্র গান করে মাঝে মাঝে। আমি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করি গত ১৮ বছর থেকে। এর আগে অন্য জব করতাম। আমার স্ত্রী হাসপাতালে চাকুরী করে অ্যাডমিন-এসিস্টেন্ট হিসাবে।

দেশদিগন্ত টিপু:  তবলা বাজাতেন জানি, তবলা শিক্ষা কিভাবে শুরু হলো ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন দীপক দা (দীপক পাল)। খুব ভালো তবলা বাজাতেন। উনার কাছে অল্প কয়েকদিন তবলায় তালিম নিয়েছিলাম। উনি ঢাকা চলে যান, তার পর আর শেখার সুযোগ হয়নি। নিজ থেকে চেষ্টা করেই যা পারতাম, তাই বাজাতাম।
দেশদিগন্ত টিপু:  বিদেশে সংগীত চর্চা কেমন ? ভাষার জন্য কোনো সমস্যা হয় ?
অনুপ চৌধুরী মিটু: বিদেশে সংগীত চর্চা অনেক কঠিন। ভাষাগত সমস্যা আছে, আছে শিক্ষক স্বল্পতা। নতুন প্রজন্ম ইংলিশ গান শুনতেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে।
তারপরও বিদেশে কিছু মানুষ আছেন, যারা অনেক কষ্ট করে ছোট ছেলে-মেয়েদের বাংলা সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন নিষ্ঠার সাথে। তাদেরকে স্যালুট জানাই।

দেশদিগন্ত টিপু: বিদেশে বড় হওয়া নতুন প্রজন্মের বাংলা
সংগীতে ভবিষ্যত কি ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: নতুন শিল্পীদের ধৈৰ্য্য খুব কম। একটা, দুইটা গান শিখেই মঞ্চ কাঁপিয়ে ফেলতে চায়। অভিবাবকদেরও দোষ আছে এক্ষেত্রে। কতটুকু শেখার পর মানুষের সামনে গাওয়া উচিত, সেটা অনেকেই বুঝতে পারেনা।

দেশদিগন্ত টিপু: . বিদেশে সংগঠন বা অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কি কি বাধা থাকতে পারে ?
অনুপ চৌধুরী মিটু:  প্রবাসে সংগঠন করা বা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, মেলা, আব্বিত্তি বা কোনো কিছু আয়োজন করাও সহজ বিষয় না। কারণ ছাড়াই একদল লোক বিরোধিতা শুরু করে। প্রবাসে রয়েছে অসংখ্য গ্রুপ। এই গ্রুপ সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক কারণে, আঞ্চলিক কারণে, বা রুচিবোধের কারণে।
কিছু লোক, যারা জীবনে এইসবের ধারে -কাছেও ছিলোনা, তারা এসে খবরদারি করতে চায়। খবরদারি না মানলেই শুরু হয় বিরোধিতা। এটা প্রবাসের প্রতিটি দেশের কমন সমস্যা।

দেশদিগন্ত টিপু:  দীর্ঘ প্রবাস জীবনে দেশের প্রতি টান কি অনুভব করেন ?
অনুপ চৌধুরী মিটু: ২৮ বছর কানাডায় থেকেও এখন পর্যন্ত কানাডিয়ান হতে পারিনি। মনে প্রাণে শতভাগ বাঙালি আছি।
দেশে খুব একটা যাওয়া না হলেও দেশের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী -পরিচিত সবার সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি।

দেশদিগন্ত টিপু: ফেসবুকে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে আপনার লেখা দেখি। স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য কখনো সমালোচনা বা বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: এটা হয় বলেই ইদানিং কম লেখি। স্পষ্টবাদীদের অনেকেই পছন্দ করেন না। আমি যা সত্য জানি, তাই বলার চেষ্টা করি। সমাজের অসঙ্গতি এবং অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। বিভিন্ন কারণে, অনেকে সেটা করেন না। তাই সমাজে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অন্যায় সংগঠিত হয়।

দেশদিগন্ত টিপু: একটা সফল, সুন্দর অনুষ্ঠান করতে কি কি প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: প্রতিটি অনুষ্ঠানই একেকটি নতুন অভিজ্ঞতা। এখন একটি অনুষ্ঠান পুরোপুরি সফল করতে হলে ভালো শিল্পী’র সাথে সাথে ভালো মিউজিসিয়ান, ভালো হল, আধুনিক লাইট, সাউন্ড, প্রজেকশন বা এলইডি প্যানেল, এগুলো প্রয়োজন হয়। সেই ক্ষেত্রে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এখন সংগঠক হিসাবে এই বিষয়গুলি সত্যি চ্যালেঞ্জিং।
ছোট ছোট অনুষ্ঠানে লাইট, সাউন্ড আমরা নিজেরাই ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ করে থাকি।
প্রয়োজনের খাতিরেই এগুলো শিখে নিতে হয়েছে |

দেশদিগন্ত টিপু:  দেশদিগন্তের পাঠকদের জন্য আপনি
কি কিছু বলতে চান ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: প্রথমত ধন্যবাদ ছোটভাই টিপু এবং দেশ-দিগন্ত পরিবারকে। আমি নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মানুষ হিসাবেই মনে করি। সারাজীবন ধরে যা করছি, সেটা নিতান্ত ভালোলাগা এবং ভালোবাসা থেকেই। সেগুলো কারো ভালো লাগলে নিজেদের কষ্ট স্বার্থক হয়েছে বলে মনে হয়। নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে আরো ভালো, আরো সুন্দর অনুষ্ঠান কমিউনিটিকে উপহার দেয়ার চেষ্টা থাকবে অব্যাহত। ধন্যবাদ সবাইকে ।

দেশদিগন্ত টিপু: প্রবাসের শত ব্যাস্ততার মধ্যে আপনি আমাদের সময় দিয়েছেন এজন্য অনেক ধন্যবাদ ।প্রবাসীদের নিয়ে আবারও  কথা হবে জানা হবে ।

 

পোস্ট শেয়ার করুন

বহু গুণে গুণান্বিত মন্ট্রিয়ল এর জননন্দিত কুলাউড়ার অনুপ চৌধুরী মিটু

আপডেটের সময় : ০৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩

বহু গুণে গুনান্বিত মন্ট্রিয়ল এর জননন্দিত কুলাউড়ার অনুপ চৌধুরী মিটু

মৌলভীবাজার জেলার প্রাচীন একটি জনপদের নাম কুলাউড়া। ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, শিল্প সাহিত্য,ক্রীড়া, সংস্কৃতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক শহরের অনুপ চৌধুরী মিটু জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি একজন বহুমাত্রিক ও বহু গুণে গুণান্বিত মানুষ। কোনো একক পরিচয়ে তাঁকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
নিজ জন্মভূমির সংস্কৃতি তুলে জনসচেতনার সৃষ্টির লক্ষ্যে কানাডার মন্ট্রিয়ল এ গঠন করে যাচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রয়েছে তার অকৃত্রিম পথচলা।
সর্বস্বীকৃত ও প্রশংসিত হয়েছেন মন্ট্রিয়ল এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে।
দেশের গন্ডি পেরিয়ে কানাডা’র মন্ট্রিয়ল এর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে সু-সংগঠিত করেছেন।দেশদিগন্ত এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে কানাডার মন্ট্রিয়ল এর বিশিষ্ট সংগঠক অনুপ চৌধুরী মিটু বলেন কালের পরিক্রমায় ও সময়ের বিবর্তনে হাজারো স্মৃতিবিজড়িত কুলাউড়া উনার কাছে জলছবি হয়ে আছে ।

দেশদিগন্ত টিপু: সংগীতের প্রতি আপনার অনুরাগ সৃষ্টি হলো কিভাবে ?

অনুপ চৌধুরী মিটু : আমি যখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়ি, রাজনৈতিক মামলায় পলাতক হয়ে আমার বড় মামা তখন আমাদের বাসায় থাকতেন। মামা খুব ভালো গান করতেন। কিছুদিনের মধ্যেই সিলেট অঞ্চলের সংগীত মহলের অনেকের সাথে মামার পরিচয় হলো। আমাদের বাসায় দিনরাত গানের আসর চলতেই থাকতো। তখন থেকেই সংগীতের প্রতি ধীরে ধীরে ভালোলাগা শুরু হয়।

দেশদিগন্ত টিপু : সংগঠন করার উৎসাহ কিভাবে পেলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু : ক্লাস সিক্স এ আমি সিলেট চলে যাই। চাকুরী সূত্রে বাবা তখন সিলেটে। সিলেটে তখন পাড়াভিত্তিক বিভিন্ন ক্লাব ছিল। মূলত খেলাধুলা, সামাজিক ছোট খাটো অনুষ্ঠান ছিল এই সব ক্লাবের কাজ।
আমি যে পাড়াতে থাকতাম, সেখানে “শাপলা সংঘ” নামের ক্লাবটির সাথে আমি জড়িত হয়ে যাই।

দেশদিগন্ত টিপু:  বাংলদেশে আপনার সাংগঠনিক কর্মকান্ডের কথা যদি আমাদের একটু বলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু : ক্লাস ৮ এর শেষের দিকে কুলাউড়া ফিরে আসি। দক্ষিণ মাগুরায় তখন আমরা কয়েকজন মিলে”শাপলা সংঘ” গড়ে তুলি। আমি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। বিভিন্ন খেলার আয়োজন, বিশেষ করে ব্যাডমিন্টন এবং সাঁতার প্রতিযোগিতা, কুলাউড়া ফুটবল লিগে অংশগ্রহণ সহ সামাজিক কাজ হিসাবে রাস্তা সংস্কার করে আমরা প্রশংসা পেয়েছিলাম।
আহসান ভাইয়ের নেতৃত্বে একসময় খেলাঘর একটি শক্তিশালী সংগঠন ছিল। উনার অসুস্থতা জনিত অনুপস্থিতির কারণে আমি কিছুদিন সাধারণ সম্পাদক হিসাবে খেলাঘরের দায়িত্ব পালন করি।
খেলাঘরের দায়িত্ব ছাড়ার সাথে সাথেই লেদু স্যারকে সভাপতি এবং আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে উদীচীর নতুন কমিটি ঘোষণা হয়।
উদীচীর উদ্যোগে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আমরা অসংখ্য অনুষ্ঠান করেছিলাম কয়েক বছর দায়িত্ব পালনকালে।
একপর্যায়ে আমি ঢাকা চলে যাই। ঢাকায় অবস্থানকালে “ঢাকা পদাতিক” থিয়েটার গ্রূপের সাথে জড়িয়ে যাই। প্রায় ৪ বছরে সেই সময় গাইড হাউস মিলনায়তন, মহিলা সমিতি মঞ্চ, জাতীয় জাদুঘর মঞ্চ, বাংলা একাডেমি, চারুকলা, টিএসসি চত্বর সহ ঢাকার বাইরেও কয়েকটি শো সহ বেশ কয়েকটি নাটকের প্রায় পঞ্চাশ অধিক মঞ্চায়নে অংশ নেই।
একই সময় সালাউদ্দিন লাভলু ভাইয়ের উদ্যোগে কুলাউড়ায়, “চৌকষ নাট্য সম্প্রদায়” গড়ে উঠে।
আমিও তাদের সাথে ছিলাম।
বিভিন্ন সময়ে ঢাকা এবং কুলাউড়ায় অনুষ্ঠান এবং নাটক নিয়ে আসা যাওয়া করেছি।

দেশদিগন্ত টিপু: কুলাউড়ায় আপনাকে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিতে দেখেছি। সেই সময়টা কি এখন মিস করেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: তরুণ সংঘের হয়ে বিভিন্ন সময় খেলায় অংশ নিয়েছি, যদিও খেলায় আমি কোনো সময়ই তত ভালো ছিলাম না।
বিশেষ করে মাগুরায় বড়-ছোট সবাই মিলে বিকালে আমরা ফুটবল খেলতাম। নিজাম ভাই, শামীম ভাই, আশীষ দা, বেলাল ভাই, নামীম ভাই, ডাবলু এবং লাভলু ভাই, জসিম ভাই, আশরাফ, জাকারিয়া , নুরুল, কয়েস, শামীম সহ আরো অনেকে এই খেলায় নিয়মিত অংশ নিতো।
তুমি, মাসুম সহ ছোটরাও তখন আমাদের সাথে খেলতে আসতে। আমরা বড়দের যেমন সম্মান করতাম, বড়রাও আমাদের স্নেহ করতেন। সুন্দর একটা পরিবেশ ছিল।
দেশদিগন্ত টিপু: ঢাকায় কুলাউড়ার ছাত্রদের সংগঠনে আপনি মনে হয় একবার নির্বাচন করেছিলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: অনেকের অনুরোধে আমি ঢাকাস্থ কুলাউড়া ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। আমাদের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক ছিল সিপার উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান মেয়র, কুলাউড়া পৌরসভা।
নির্বাচনের পূর্বে কানাডার ভিসা পেয়ে যাওয়ায় তখন আমি প্রার্থিতা উইথড্র করি, কিছুদিন পরেই কানাডা চলে আসি।

আমার বাবা আগে থেকেই কানাডা ছিলেন। আমরা ৩ ভাই, একবোন এবং মা একসাথে কানাডা আসি।
দেশদিগন্ত টিপু:  দেশ ছেড়ে কানাডায় এসে কেমন লেগেছিলো ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: কানাডা আসার পর দেশকে খুব মিস করতাম। মনে হতো কিছু টাকা পয়সা কামিয়ে আবার দেশে চলে যাবো।

দেশদিগন্ত টিপু: কানাডায় এসে আবার কিভাবে সামাজিক -সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত হলেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: কানাডায় আসার পর আমি প্রথম যে কোম্পানিতে কাজ করি, সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন ছিলোনা। আমরা কয়েকজন মিলে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার আন্দোলন শুরু করি। এক পর্যায়ে আমি ইউনিয়নের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হই। একসময় আমার বাবার উৎসাহে এখানে পূজা উৎযাপন কমিটির সাথে জড়িয়ে যাই।
বিভিন্ন সময় প্রায় ৪ বার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। অসংখ্য অনুষ্ঠান আয়োজনে ভূমিকা রাখি।
কমুনিটির মুরুব্বিদের নির্ভরতা এবং ইচ্ছার সম্মান দিতে প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসাবে একটি পূর্ণাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেই।
এখনো দ্বিতীয় মেয়াদে আবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি।

দেশদিগন্ত টিপু:  সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমানে আপনার ভূমিকা কি ?
অনুপ চৌধুরী মিটু: ২০১৭ সালে আমরা “লোকজ মন্ট্রিয়ল” নামে একটি সাংস্কৃতিক সগঠন করি। এই সংগঠনের মাধ্যমে স্থানীয়, দেশ এবং পশ্চিমবাংলার শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন চলমান।
এই বছরের শুরুতে দেশ থেকে আসা প্রফেশনাল যন্ত্রশিল্পীদের নিয়ে আমরা গঠন করি, “দামাল মিউজিক্যাল গ্রুপ” যারা বর্তমানে কানাডার বিভিন্ন শহরে দেশ এবং ভারত থেকে আসা সংগীত শিল্পীদের সাথে সংগত করছেন। সময় পেলে আমিও তাদের সাথে একটু বাজানোর চেষ্টা করি।
আমি উভয় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি শুরু থেকেই।

দেশদিগন্ত টিপু: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলেন –

অনুপ চৌধুরী মিটু:আমার একমেয়ে, এইবছর কলেজ শুরু করেছে, এক ছেলে আগামী বছর হাই স্কুলে যাবে। স্ত্রী ছোটবেলা গান, নৃত্য এবং নাটক করতো। এখন শুধুমাত্র গান করে মাঝে মাঝে। আমি রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করি গত ১৮ বছর থেকে। এর আগে অন্য জব করতাম। আমার স্ত্রী হাসপাতালে চাকুরী করে অ্যাডমিন-এসিস্টেন্ট হিসাবে।

দেশদিগন্ত টিপু:  তবলা বাজাতেন জানি, তবলা শিক্ষা কিভাবে শুরু হলো ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: আমাদের প্রতিবেশী ছিলেন দীপক দা (দীপক পাল)। খুব ভালো তবলা বাজাতেন। উনার কাছে অল্প কয়েকদিন তবলায় তালিম নিয়েছিলাম। উনি ঢাকা চলে যান, তার পর আর শেখার সুযোগ হয়নি। নিজ থেকে চেষ্টা করেই যা পারতাম, তাই বাজাতাম।
দেশদিগন্ত টিপু:  বিদেশে সংগীত চর্চা কেমন ? ভাষার জন্য কোনো সমস্যা হয় ?
অনুপ চৌধুরী মিটু: বিদেশে সংগীত চর্চা অনেক কঠিন। ভাষাগত সমস্যা আছে, আছে শিক্ষক স্বল্পতা। নতুন প্রজন্ম ইংলিশ গান শুনতেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে।
তারপরও বিদেশে কিছু মানুষ আছেন, যারা অনেক কষ্ট করে ছোট ছেলে-মেয়েদের বাংলা সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন নিষ্ঠার সাথে। তাদেরকে স্যালুট জানাই।

দেশদিগন্ত টিপু: বিদেশে বড় হওয়া নতুন প্রজন্মের বাংলা
সংগীতে ভবিষ্যত কি ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: নতুন শিল্পীদের ধৈৰ্য্য খুব কম। একটা, দুইটা গান শিখেই মঞ্চ কাঁপিয়ে ফেলতে চায়। অভিবাবকদেরও দোষ আছে এক্ষেত্রে। কতটুকু শেখার পর মানুষের সামনে গাওয়া উচিত, সেটা অনেকেই বুঝতে পারেনা।

দেশদিগন্ত টিপু: . বিদেশে সংগঠন বা অনুষ্ঠান করতে গিয়ে কি কি বাধা থাকতে পারে ?
অনুপ চৌধুরী মিটু:  প্রবাসে সংগঠন করা বা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, মেলা, আব্বিত্তি বা কোনো কিছু আয়োজন করাও সহজ বিষয় না। কারণ ছাড়াই একদল লোক বিরোধিতা শুরু করে। প্রবাসে রয়েছে অসংখ্য গ্রুপ। এই গ্রুপ সৃষ্টি হয় রাজনৈতিক কারণে, আঞ্চলিক কারণে, বা রুচিবোধের কারণে।
কিছু লোক, যারা জীবনে এইসবের ধারে -কাছেও ছিলোনা, তারা এসে খবরদারি করতে চায়। খবরদারি না মানলেই শুরু হয় বিরোধিতা। এটা প্রবাসের প্রতিটি দেশের কমন সমস্যা।

দেশদিগন্ত টিপু:  দীর্ঘ প্রবাস জীবনে দেশের প্রতি টান কি অনুভব করেন ?
অনুপ চৌধুরী মিটু: ২৮ বছর কানাডায় থেকেও এখন পর্যন্ত কানাডিয়ান হতে পারিনি। মনে প্রাণে শতভাগ বাঙালি আছি।
দেশে খুব একটা যাওয়া না হলেও দেশের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী -পরিচিত সবার সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি।

দেশদিগন্ত টিপু: ফেসবুকে প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে আপনার লেখা দেখি। স্পষ্ট বক্তব্যের জন্য কখনো সমালোচনা বা বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: এটা হয় বলেই ইদানিং কম লেখি। স্পষ্টবাদীদের অনেকেই পছন্দ করেন না। আমি যা সত্য জানি, তাই বলার চেষ্টা করি। সমাজের অসঙ্গতি এবং অন্যায় -অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। বিভিন্ন কারণে, অনেকে সেটা করেন না। তাই সমাজে বিভিন্ন অনিয়ম এবং অন্যায় সংগঠিত হয়।

দেশদিগন্ত টিপু: একটা সফল, সুন্দর অনুষ্ঠান করতে কি কি প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: প্রতিটি অনুষ্ঠানই একেকটি নতুন অভিজ্ঞতা। এখন একটি অনুষ্ঠান পুরোপুরি সফল করতে হলে ভালো শিল্পী’র সাথে সাথে ভালো মিউজিসিয়ান, ভালো হল, আধুনিক লাইট, সাউন্ড, প্রজেকশন বা এলইডি প্যানেল, এগুলো প্রয়োজন হয়। সেই ক্ষেত্রে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এখন সংগঠক হিসাবে এই বিষয়গুলি সত্যি চ্যালেঞ্জিং।
ছোট ছোট অনুষ্ঠানে লাইট, সাউন্ড আমরা নিজেরাই ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণ করে থাকি।
প্রয়োজনের খাতিরেই এগুলো শিখে নিতে হয়েছে |

দেশদিগন্ত টিপু:  দেশদিগন্তের পাঠকদের জন্য আপনি
কি কিছু বলতে চান ?

অনুপ চৌধুরী মিটু: প্রথমত ধন্যবাদ ছোটভাই টিপু এবং দেশ-দিগন্ত পরিবারকে। আমি নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মানুষ হিসাবেই মনে করি। সারাজীবন ধরে যা করছি, সেটা নিতান্ত ভালোলাগা এবং ভালোবাসা থেকেই। সেগুলো কারো ভালো লাগলে নিজেদের কষ্ট স্বার্থক হয়েছে বলে মনে হয়। নিজেদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ভবিষ্যতে আরো ভালো, আরো সুন্দর অনুষ্ঠান কমিউনিটিকে উপহার দেয়ার চেষ্টা থাকবে অব্যাহত। ধন্যবাদ সবাইকে ।

দেশদিগন্ত টিপু: প্রবাসের শত ব্যাস্ততার মধ্যে আপনি আমাদের সময় দিয়েছেন এজন্য অনেক ধন্যবাদ ।প্রবাসীদের নিয়ে আবারও  কথা হবে জানা হবে ।