ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা কুলাউড়ার হাজীপুরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ১২ ঘন্টার মধ্যেই দুজন গ্রেফতার কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায়  আছকির মিয়া (৫০)নিহত  হয়েছেন। বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্তুগাল বিএনপির আহবায়ক কমিটির অভিষেক ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা প্রধান নির্বাচিত হলেন অধ্যক্ষ মাওলানা বশির আহমদ মুসলিম কমিউনিটি মৌলভীবাজার এর কমিটি গঠন

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবিজ

ডা, সাঈদ এনাম
  • আপডেটের সময় : ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২৫৪ টাইম ভিউ

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবীজ…

এই বঙদেশে ১৯ কোটি মানুষের কত কোটি মানুষ তাদের হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন কারো আইডিয়া আছে, বলতে পারেন কেউ? দেখুনতো আপনার অবস্থা?

যারা হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন সন্দেহ নেই তাদের শতভাগই নিউরোসিস বা স্বল্পতর মানসিক রোগের রোগী এবং সাইকোসিস বা ঘোরতর মানসিক রোগের রোগী।

হতাশা উদ্বেগ বা আচার আচরণ গত ব্রেইনের সমস্যা ছাড়া কেউ ফুর্তি করতে বা অলংকার হিসেবে লৌহ তৈরি এই গুল্লিটি গলায়, হাতে, কোমরে রাখবেন এটি অবিশ্বাস্য!

যাহোক যা বলছিলাম, বঙদেশের মানসিক রোগীর এই বিশাল অংশ কিন্তু মানসিক রোগের আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার বাহিরে থেকে তাবীজ আর কবজ নিয়ে কস্ট করছেন কেবল মাত্র অসচেতনতা, অজ্ঞতা এবং কুসংস্কার এর জন্যে।

একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলাম যদি মাদ্রাসা শিক্ষায় মানসিক রোগ সম্পর্কে একটি চ্যাপ্টার থাকে, সামান্য অ,আ,ক,খ ধারণা দেবার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে দেশের লাখ লাখ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মানসিক রোগ নিয়ে সচেতন হবে। কারন তারাই একদিন আলেম উলামা হয়ে সবাই সুপরামর্শ দেবেন। সবাইকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে পারবেন।

তারা দ্ব্যর্থহীন চিত্তে বলতে পারবেন, তাবীজ দিয়ে মানসিক রোগের উপশম হয়না। আর এতে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবেন মানসিক রোগীরাই।

এছাড়া আলেম সমাজ যদি জ্বীন-যাদু আর মানসিক রোগের মধ্যে সুস্পষ্ট তফাৎ করতে সমর্থ হন তাহলে মানসিক রোগীদের জন্যে হবে এ এক বিশাল কল্যাণের। তারা মানসিক রোগের জন্যে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার আসবেন।

পরিশেষে বলছি, অনেকে মনে করেন তাবীজ বোধহয় কেবল মুসলিম সম্প্রদায় পরেন। কিন্তু তা নয়। ইন্টারেস্টিং হলো, আমার চেম্বারে আগত অনেক নও -মুসলিম আছেন যাদের দেখেছি মানসিক রোগের জন্যে তাবীজ পরতে।

আশার কথা হলো, ইদানীং অনেক মৌলভী সাহেব মানসিক রোগীকে তাবীজ পরান না বরং রেফার করেন সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা নেবার জন্যে।

পোস্ট শেয়ার করুন

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবিজ

আপডেটের সময় : ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবীজ…

এই বঙদেশে ১৯ কোটি মানুষের কত কোটি মানুষ তাদের হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন কারো আইডিয়া আছে, বলতে পারেন কেউ? দেখুনতো আপনার অবস্থা?

যারা হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন সন্দেহ নেই তাদের শতভাগই নিউরোসিস বা স্বল্পতর মানসিক রোগের রোগী এবং সাইকোসিস বা ঘোরতর মানসিক রোগের রোগী।

হতাশা উদ্বেগ বা আচার আচরণ গত ব্রেইনের সমস্যা ছাড়া কেউ ফুর্তি করতে বা অলংকার হিসেবে লৌহ তৈরি এই গুল্লিটি গলায়, হাতে, কোমরে রাখবেন এটি অবিশ্বাস্য!

যাহোক যা বলছিলাম, বঙদেশের মানসিক রোগীর এই বিশাল অংশ কিন্তু মানসিক রোগের আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার বাহিরে থেকে তাবীজ আর কবজ নিয়ে কস্ট করছেন কেবল মাত্র অসচেতনতা, অজ্ঞতা এবং কুসংস্কার এর জন্যে।

একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলাম যদি মাদ্রাসা শিক্ষায় মানসিক রোগ সম্পর্কে একটি চ্যাপ্টার থাকে, সামান্য অ,আ,ক,খ ধারণা দেবার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে দেশের লাখ লাখ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মানসিক রোগ নিয়ে সচেতন হবে। কারন তারাই একদিন আলেম উলামা হয়ে সবাই সুপরামর্শ দেবেন। সবাইকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে পারবেন।

তারা দ্ব্যর্থহীন চিত্তে বলতে পারবেন, তাবীজ দিয়ে মানসিক রোগের উপশম হয়না। আর এতে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবেন মানসিক রোগীরাই।

এছাড়া আলেম সমাজ যদি জ্বীন-যাদু আর মানসিক রোগের মধ্যে সুস্পষ্ট তফাৎ করতে সমর্থ হন তাহলে মানসিক রোগীদের জন্যে হবে এ এক বিশাল কল্যাণের। তারা মানসিক রোগের জন্যে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার আসবেন।

পরিশেষে বলছি, অনেকে মনে করেন তাবীজ বোধহয় কেবল মুসলিম সম্প্রদায় পরেন। কিন্তু তা নয়। ইন্টারেস্টিং হলো, আমার চেম্বারে আগত অনেক নও -মুসলিম আছেন যাদের দেখেছি মানসিক রোগের জন্যে তাবীজ পরতে।

আশার কথা হলো, ইদানীং অনেক মৌলভী সাহেব মানসিক রোগীকে তাবীজ পরান না বরং রেফার করেন সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা নেবার জন্যে।