ঢাকা , রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
পর্তুগাল এ ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবের জার্সি উন্মোচন লিসবনে আত্মপ্রকাশ হয় সামাজিক সংগঠন “গোলাপগঞ্জ কমিউনিটি কেয়ারর্স পর্তুগাল “ উচ্ছ্বাস আর আনন্দে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের উদযাপন করেছে পর্তুগাল যথাযথ গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পরিবেশে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালন করেছে ভেনিস প্রবাসীরা ভেনিসে বৃহত্তর সিলেট সমিতির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এক অসুস্থ প্রজন্ম কে সাথি করে এগুচ্ছি আমরা রিডানডেন্ট ক্লোথিং আর মজুর মামার ‘বিশ্বকাপ’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঈদের কাপড় কিনার জন্য মা’য়ের উপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবিজ

ডা, সাঈদ এনাম
  • আপডেটের সময় : ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ২৫০ টাইম ভিউ

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবীজ…

এই বঙদেশে ১৯ কোটি মানুষের কত কোটি মানুষ তাদের হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন কারো আইডিয়া আছে, বলতে পারেন কেউ? দেখুনতো আপনার অবস্থা?

যারা হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন সন্দেহ নেই তাদের শতভাগই নিউরোসিস বা স্বল্পতর মানসিক রোগের রোগী এবং সাইকোসিস বা ঘোরতর মানসিক রোগের রোগী।

হতাশা উদ্বেগ বা আচার আচরণ গত ব্রেইনের সমস্যা ছাড়া কেউ ফুর্তি করতে বা অলংকার হিসেবে লৌহ তৈরি এই গুল্লিটি গলায়, হাতে, কোমরে রাখবেন এটি অবিশ্বাস্য!

যাহোক যা বলছিলাম, বঙদেশের মানসিক রোগীর এই বিশাল অংশ কিন্তু মানসিক রোগের আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার বাহিরে থেকে তাবীজ আর কবজ নিয়ে কস্ট করছেন কেবল মাত্র অসচেতনতা, অজ্ঞতা এবং কুসংস্কার এর জন্যে।

একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলাম যদি মাদ্রাসা শিক্ষায় মানসিক রোগ সম্পর্কে একটি চ্যাপ্টার থাকে, সামান্য অ,আ,ক,খ ধারণা দেবার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে দেশের লাখ লাখ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মানসিক রোগ নিয়ে সচেতন হবে। কারন তারাই একদিন আলেম উলামা হয়ে সবাই সুপরামর্শ দেবেন। সবাইকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে পারবেন।

তারা দ্ব্যর্থহীন চিত্তে বলতে পারবেন, তাবীজ দিয়ে মানসিক রোগের উপশম হয়না। আর এতে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবেন মানসিক রোগীরাই।

এছাড়া আলেম সমাজ যদি জ্বীন-যাদু আর মানসিক রোগের মধ্যে সুস্পষ্ট তফাৎ করতে সমর্থ হন তাহলে মানসিক রোগীদের জন্যে হবে এ এক বিশাল কল্যাণের। তারা মানসিক রোগের জন্যে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার আসবেন।

পরিশেষে বলছি, অনেকে মনে করেন তাবীজ বোধহয় কেবল মুসলিম সম্প্রদায় পরেন। কিন্তু তা নয়। ইন্টারেস্টিং হলো, আমার চেম্বারে আগত অনেক নও -মুসলিম আছেন যাদের দেখেছি মানসিক রোগের জন্যে তাবীজ পরতে।

আশার কথা হলো, ইদানীং অনেক মৌলভী সাহেব মানসিক রোগীকে তাবীজ পরান না বরং রেফার করেন সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা নেবার জন্যে।

পোস্ট শেয়ার করুন

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবিজ

আপডেটের সময় : ০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৪

বঙদেশে মানসিক রোগে তাবীজ…

এই বঙদেশে ১৯ কোটি মানুষের কত কোটি মানুষ তাদের হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন কারো আইডিয়া আছে, বলতে পারেন কেউ? দেখুনতো আপনার অবস্থা?

যারা হাতে, গলায়, কোমরে তাবীজ নিয়ে ঘুরেন সন্দেহ নেই তাদের শতভাগই নিউরোসিস বা স্বল্পতর মানসিক রোগের রোগী এবং সাইকোসিস বা ঘোরতর মানসিক রোগের রোগী।

হতাশা উদ্বেগ বা আচার আচরণ গত ব্রেইনের সমস্যা ছাড়া কেউ ফুর্তি করতে বা অলংকার হিসেবে লৌহ তৈরি এই গুল্লিটি গলায়, হাতে, কোমরে রাখবেন এটি অবিশ্বাস্য!

যাহোক যা বলছিলাম, বঙদেশের মানসিক রোগীর এই বিশাল অংশ কিন্তু মানসিক রোগের আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার বাহিরে থেকে তাবীজ আর কবজ নিয়ে কস্ট করছেন কেবল মাত্র অসচেতনতা, অজ্ঞতা এবং কুসংস্কার এর জন্যে।

একটা স্ট্যাটাসে বলেছিলাম যদি মাদ্রাসা শিক্ষায় মানসিক রোগ সম্পর্কে একটি চ্যাপ্টার থাকে, সামান্য অ,আ,ক,খ ধারণা দেবার ব্যবস্থা থাকে, তাহলে দেশের লাখ লাখ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা মানসিক রোগ নিয়ে সচেতন হবে। কারন তারাই একদিন আলেম উলামা হয়ে সবাই সুপরামর্শ দেবেন। সবাইকে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে পারবেন।

তারা দ্ব্যর্থহীন চিত্তে বলতে পারবেন, তাবীজ দিয়ে মানসিক রোগের উপশম হয়না। আর এতে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবেন মানসিক রোগীরাই।

এছাড়া আলেম সমাজ যদি জ্বীন-যাদু আর মানসিক রোগের মধ্যে সুস্পষ্ট তফাৎ করতে সমর্থ হন তাহলে মানসিক রোগীদের জন্যে হবে এ এক বিশাল কল্যাণের। তারা মানসিক রোগের জন্যে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার আওতার আসবেন।

পরিশেষে বলছি, অনেকে মনে করেন তাবীজ বোধহয় কেবল মুসলিম সম্প্রদায় পরেন। কিন্তু তা নয়। ইন্টারেস্টিং হলো, আমার চেম্বারে আগত অনেক নও -মুসলিম আছেন যাদের দেখেছি মানসিক রোগের জন্যে তাবীজ পরতে।

আশার কথা হলো, ইদানীং অনেক মৌলভী সাহেব মানসিক রোগীকে তাবীজ পরান না বরং রেফার করেন সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা নেবার জন্যে।