ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / ৩৯২ টাইম ভিউ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বগুড়ার আদমদীঘি থানা এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যসহ এক ডজনেরও বেশি আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, এটা ওই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছদ্মবেশী স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র ও অপকর্ম।

বিভ্রান্তিকর তালিকা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তারা।
প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় এসেছে বৃহত্তর আদমদীঘি (আদমদীঘি ও আক্কেলপুর একত্রে থাকাকালীন) থানা এলাকার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, যিনি ভারতের কামাড়পাড়াতে একটি মুক্তিযোদ্ধাদের টেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নৌকা মনোনীত এমপি ও ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সভাস্থলে অবস্থানকারী, ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদের নৌকা মার্কার মনোনীত এমপি।

বঙ্গবন্ধুর গভর্নর প্রথা চালুকালে, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার গর্ভনর। ৭৫ পরবর্তী দুর্যোগকালীন সময়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

প্রায় ৩০ বছর আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কছিম উদ্দীন আহম্মেদ, সাবেক এমএনএ মজিবর রহমান আক্কেলপুরি, এলাকার শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা মৃত ফরেজ উদ্দীন মাস্টার, মৃত মজিবর রহমান মাস্টার, মৃত তাহের উদ্দীন মাস্টার, মৃত ডা. মহসিন আলী মল্লিক, মৃত হবিবর রহমান, মৃত নজিবর রহমান সরদার, মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে তালিকায়।

এদিকে, বৃহত্তর আদমদীঘি ও দুপচাচিয়া এলাকার রাজাকার মৃত আব্দুল মজিদ তালুকদার, তার ছেলে আব্দুল মতিন তালুকদার, আব্দুল মান্নান তালুকদার এবং যুদ্ধপরাধ ও মানবতাবিরোধী মামলার পলাতক আসামি আব্দুল মমিন তালুকদার খোকা, তৎকালীন মালেক মন্ত্রীসভার মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মসিউল ইসলামের নাম এই তালিকায় থাকলেও নাম নেই এলাকার পিস কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের।

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা এবং সেই সময় পরবর্তী শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম দেখে হতবাক হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্বাধীনতা স্বপক্ষের সর্বস্তরের মানুষ এই বিভ্রান্তিমুলক তালিকার ব্যাপারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ভুল স্বীকার করার মাধ্যমে তালিকা সংশোধন এবং জড়িতদের চিহিৃত করে বিচার দাবি করেছেন।

পোস্ট শেয়ার করুন

বগুড়ায় রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম

আপডেটের সময় : ০২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বগুড়ার আদমদীঘি থানা এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যসহ এক ডজনেরও বেশি আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, এটা ওই মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ছদ্মবেশী স্বাধীনতা বিরোধীদের ষড়যন্ত্র ও অপকর্ম।

বিভ্রান্তিকর তালিকা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন তারা।
প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় এসেছে বৃহত্তর আদমদীঘি (আদমদীঘি ও আক্কেলপুর একত্রে থাকাকালীন) থানা এলাকার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষা সৈনিক, যিনি ভারতের কামাড়পাড়াতে একটি মুক্তিযোদ্ধাদের টেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করেছেন। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নৌকা মনোনীত এমপি ও ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সভাস্থলে অবস্থানকারী, ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদের নৌকা মার্কার মনোনীত এমপি।

বঙ্গবন্ধুর গভর্নর প্রথা চালুকালে, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার গর্ভনর। ৭৫ পরবর্তী দুর্যোগকালীন সময়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।

প্রায় ৩০ বছর আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কছিম উদ্দীন আহম্মেদ, সাবেক এমএনএ মজিবর রহমান আক্কেলপুরি, এলাকার শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতা মৃত ফরেজ উদ্দীন মাস্টার, মৃত মজিবর রহমান মাস্টার, মৃত তাহের উদ্দীন মাস্টার, মৃত ডা. মহসিন আলী মল্লিক, মৃত হবিবর রহমান, মৃত নজিবর রহমান সরদার, মুক্তিযোদ্ধা আমিরুল ইসলামসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে তালিকায়।

এদিকে, বৃহত্তর আদমদীঘি ও দুপচাচিয়া এলাকার রাজাকার মৃত আব্দুল মজিদ তালুকদার, তার ছেলে আব্দুল মতিন তালুকদার, আব্দুল মান্নান তালুকদার এবং যুদ্ধপরাধ ও মানবতাবিরোধী মামলার পলাতক আসামি আব্দুল মমিন তালুকদার খোকা, তৎকালীন মালেক মন্ত্রীসভার মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মসিউল ইসলামের নাম এই তালিকায় থাকলেও নাম নেই এলাকার পিস কমিটির চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হকের।

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মুক্তিযোদ্ধা এবং সেই সময় পরবর্তী শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম দেখে হতবাক হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্বাধীনতা স্বপক্ষের সর্বস্তরের মানুষ এই বিভ্রান্তিমুলক তালিকার ব্যাপারে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত ভুল স্বীকার করার মাধ্যমে তালিকা সংশোধন এবং জড়িতদের চিহিৃত করে বিচার দাবি করেছেন।