ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
লিসবনে আত্মপ্রকাশ হয় সামাজিক সংগঠন “গোলাপগঞ্জ কমিউনিটি কেয়ারর্স পর্তুগাল “ উচ্ছ্বাস আর আনন্দে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের উদযাপন করেছে পর্তুগাল যথাযথ গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পরিবেশে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালন করেছে ভেনিস প্রবাসীরা ভেনিসে বৃহত্তর সিলেট সমিতির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এক অসুস্থ প্রজন্ম কে সাথি করে এগুচ্ছি আমরা রিডানডেন্ট ক্লোথিং আর মজুর মামার ‘বিশ্বকাপ’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঈদের কাপড় কিনার জন্য মা’য়ের উপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা লিসবনে বন্ধু মহলের আয়োজনে বিশাল ইফতার ও দোয়া মাহফিল

বই উৎসবের অপেক্ষায় সোয়া চার কোটি শিক্ষার্থী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯
  • / ৩৯৬ টাইম ভিউ

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আগামী বছরে জানুয়ারির প্রথম দিনেই রঙিন এসব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এবার সারাদেশে ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি নতুন বই বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। পরদিন উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে নতুন বই।

তবে এ বছর মাধ্যমিক পর্যায়ের উৎসবটি হবে সাভারের অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর প্রাথমিক স্তরের উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন মহলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার উৎসবের ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। বিগত বছরের মতো এবারও বছরের প্রথম দিন নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা।

ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের ভেন্যু পরিবর্তন হলেও অপরিবর্তিত থাকছে প্রাথমিকের উৎসবের ভেন্যু। গত বছরের মতো এ বছরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসবের আয়োজন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে আলাদাভাবে পাঠ্যপুস্তুক উৎসব পালন করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ ২ হাজার ৩৭৫টি বই এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বইবিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে।

এবার বিনামূল্যের বই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ৩৫০ কোটি এবং মাধ্যমিকের জন্য ব্যয় হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।

২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০০টি বই, প্রাথমিক স্তরের জন্য ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৭২টি বই ছাপা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষার ৯৭ হাজার ৫৭২টি শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩০টি বই ছাপানো হয়েছে। দেশের ৭৫০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হয়েছে ৯ হাজার ৫০৪টি বই।

মাধ্যমিক স্তর ও মাদরাসার দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই। ইবতেদায়ি (মাদরাসার প্রাথমিক) স্তরের জন্য ছাপানো হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি বই। এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১৬ লাখ ৩ হাজার ৪১১টি বই, এইচএসসি বিএম ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ৬ হাজার ২৮টি বই এবং দাখিল ভোকেশনালের জন্য ছাপানো হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫টি বই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘যথাসময়ে দেশের সকল উপজেলায় বিনামূল্যের বই পৌঁছে গেছে। বর্তমানে এসব বই স্কুল পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই তা পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, এবার ৩৫ কোটিরও বেশি বই ছাপা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন। ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে সরকার বছরের প্রথম দিন উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছে। ওই বছর শিক্ষার্থী ছিল আড়াই কোটির মতো। সে বছর প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্য বই দেয়া হয়। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অর্থাৎ গত ১০ বছরে বিনামূলে বিতরণ করা হয়েছে ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই।

পোস্ট শেয়ার করুন

বই উৎসবের অপেক্ষায় সোয়া চার কোটি শিক্ষার্থী

আপডেটের সময় : ০১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আগামী বছরে জানুয়ারির প্রথম দিনেই রঙিন এসব বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এবার সারাদেশে ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি নতুন বই বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করবেন। পরদিন উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে নতুন বই।

তবে এ বছর মাধ্যমিক পর্যায়ের উৎসবটি হবে সাভারের অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর প্রাথমিক স্তরের উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন মহলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার উৎসবের ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। বিগত বছরের মতো এবারও বছরের প্রথম দিন নতুন বই পাবে শিক্ষার্থীরা।

ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের ভেন্যু পরিবর্তন হলেও অপরিবর্তিত থাকছে প্রাথমিকের উৎসবের ভেন্যু। গত বছরের মতো এ বছরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসবের আয়োজন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে আলাদাভাবে পাঠ্যপুস্তুক উৎসব পালন করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৫ কোটি ৩১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৫৪টি বই ছাপানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ কোটি ৫৪ লাখ ২ হাজার ৩৭৫টি বই এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বইবিনা মূল্যে বিতরণ করা হবে।

এবার বিনামূল্যের বই ছাপাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকের জন্য ৩৫০ কোটি এবং মাধ্যমিকের জন্য ব্যয় হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।

২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০০টি বই, প্রাথমিক স্তরের জন্য ৯ কোটি ৮৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৭২টি বই ছাপা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পাঁচটি ভাষার ৯৭ হাজার ৫৭২টি শিশুর জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩০টি বই ছাপানো হয়েছে। দেশের ৭৫০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হয়েছে ৯ হাজার ৫০৪টি বই।

মাধ্যমিক স্তর ও মাদরাসার দাখিল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ২৪ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭৯টি বই। ইবতেদায়ি (মাদরাসার প্রাথমিক) স্তরের জন্য ছাপানো হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৫টি বই। এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১৬ লাখ ৩ হাজার ৪১১টি বই, এইচএসসি বিএম ভোকেশনালের জন্য ২৭ লাখ ৬ হাজার ২৮টি বই এবং দাখিল ভোকেশনালের জন্য ছাপানো হয়েছে এক লাখ ৬৭ হাজার ৯৬৫টি বই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘যথাসময়ে দেশের সকল উপজেলায় বিনামূল্যের বই পৌঁছে গেছে। বর্তমানে এসব বই স্কুল পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই তা পৌঁছে যাবে।’

তিনি বলেন, এবার ৩৫ কোটিরও বেশি বই ছাপা হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করবেন। ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে যাবে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে সরকার বছরের প্রথম দিন উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছে। ওই বছর শিক্ষার্থী ছিল আড়াই কোটির মতো। সে বছর প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পাঠ্য বই দেয়া হয়। ২০১৯ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত অর্থাৎ গত ১০ বছরে বিনামূলে বিতরণ করা হয়েছে ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২টি বই।