ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক ফিরিয়ে দিলো হারিয়ে যাওয়া শিল্পীকে…

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭
  • / ৮৯৮ টাইম ভিউ

ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যানে শিল্পী বেগম (১২) নামের এক শিশুকন্যাকে খুঁজে পেলেন তাঁর স্বজনরা। গত ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মেয়ের সন্ধান পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হন স্বজনরা।

তারা ছুটে আসেন কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী গ্রামে। স্থানীয় ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দিকলবাগ ইউনিয়নের মনির মিয়া

পরিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ঢাকা মালিবাগে বসবাস করতেন। সেখানে তিনি একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। গত ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে বাসার নিচ থেকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয় মনির মিয়ার শিশুকন্যা শিল্পী বেগম (১২)। অনেক খোজাখুঁজি করে তিনি মেয়েটির সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় তিনি রামপুরা থানায় একটি জিডি (নং ৪৮০) করেন।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী গ্রামের হাতির মাহুত ফরিদ মিয়া ঢাকায় বিভিন্ন সার্কাসে হাতির খেলা দেখাতেন। ওই দিন তিনি বাড়ী ফেরার পথে গাউছিয়া এলাকায় শিল্পী বেগমকে রাস্তার পাশে বসে কাঁদতে দেখে তার সাথে কথা বলেন। শিল্পী কোন স্বজনদের ঠিকানা দিতে না পারায় তিনি তাকে বাড়ী নিয়ে আসেন। বাড়ীতে এসে ফরিদ মিয়া এলাকার বিভিন্ন জনের আইডি থেকে দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে শিল্পীর আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ মিলে। এরি ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শিল্পীর পিতা মনির মিয়া কর্মধার টাট্টিউলী গ্রামে আসেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাকসুদ আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাসিতসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যায় শিল্পীকে নিয়ে যান স্বজনরা। এসময় এক আনন্দগণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শিল্পীর পিতা মনির মিয়া বলেন, যান্ত্রিক শহর ঢাকায় কেউ হারিয়ে গেলে খুঁজে পাওয়া অনেক কষ্ঠকর। আমরা তাকে (শিল্পীকে) নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ ফেসবুকের কল্যাণে তাকে ফিরে পেলাম। এসময় তিনি ফরিদ মিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফরিদ মিয়া বলেন, আমি ঢাকা থেকে বাড়ী ফেরার পথে গাউছিয়া এলাকার একটি রাস্তার পাশে শিল্পীকে কাঁদতে দেখি। তার সাথে কথা বলার পর সে কোন স্বজনদের ঠিকানা দিতে না পারায় আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে বাড়ী নিয়ে আসি। বাড়ীতে এসে এলাকার ছেলেদের বিষয়টি ছবিসহ ফেসবুকে দেয়ার কথা বলি। তারা ফেসবুকে দেয়ার পর শিল্পীর স্বজনদের সন্ধান পেয়ে তাদের হাতে শিল্পীকে তুলে দেই।

পোস্ট শেয়ার করুন

ফেসবুক ফিরিয়ে দিলো হারিয়ে যাওয়া শিল্পীকে…

আপডেটের সময় : ০১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭

ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যানে শিল্পী বেগম (১২) নামের এক শিশুকন্যাকে খুঁজে পেলেন তাঁর স্বজনরা। গত ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার মেয়ের সন্ধান পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হন স্বজনরা।

তারা ছুটে আসেন কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী গ্রামে। স্থানীয় ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দিকলবাগ ইউনিয়নের মনির মিয়া

পরিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ঢাকা মালিবাগে বসবাস করতেন। সেখানে তিনি একটি বেসরকারী কোম্পানিতে চাকুরি করতেন। গত ৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে বাসার নিচ থেকে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয় মনির মিয়ার শিশুকন্যা শিল্পী বেগম (১২)। অনেক খোজাখুঁজি করে তিনি মেয়েটির সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় তিনি রামপুরা থানায় একটি জিডি (নং ৪৮০) করেন।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলী গ্রামের হাতির মাহুত ফরিদ মিয়া ঢাকায় বিভিন্ন সার্কাসে হাতির খেলা দেখাতেন। ওই দিন তিনি বাড়ী ফেরার পথে গাউছিয়া এলাকায় শিল্পী বেগমকে রাস্তার পাশে বসে কাঁদতে দেখে তার সাথে কথা বলেন। শিল্পী কোন স্বজনদের ঠিকানা দিতে না পারায় তিনি তাকে বাড়ী নিয়ে আসেন। বাড়ীতে এসে ফরিদ মিয়া এলাকার বিভিন্ন জনের আইডি থেকে দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে শিল্পীর আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ মিলে। এরি ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দুপুরে শিল্পীর পিতা মনির মিয়া কর্মধার টাট্টিউলী গ্রামে আসেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাকসুদ আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাসিতসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যায় শিল্পীকে নিয়ে যান স্বজনরা। এসময় এক আনন্দগণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

শিল্পীর পিতা মনির মিয়া বলেন, যান্ত্রিক শহর ঢাকায় কেউ হারিয়ে গেলে খুঁজে পাওয়া অনেক কষ্ঠকর। আমরা তাকে (শিল্পীকে) নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ ফেসবুকের কল্যাণে তাকে ফিরে পেলাম। এসময় তিনি ফরিদ মিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফরিদ মিয়া বলেন, আমি ঢাকা থেকে বাড়ী ফেরার পথে গাউছিয়া এলাকার একটি রাস্তার পাশে শিল্পীকে কাঁদতে দেখি। তার সাথে কথা বলার পর সে কোন স্বজনদের ঠিকানা দিতে না পারায় আমি মানবিক দিক বিবেচনা করে বাড়ী নিয়ে আসি। বাড়ীতে এসে এলাকার ছেলেদের বিষয়টি ছবিসহ ফেসবুকে দেয়ার কথা বলি। তারা ফেসবুকে দেয়ার পর শিল্পীর স্বজনদের সন্ধান পেয়ে তাদের হাতে শিল্পীকে তুলে দেই।