ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ফিরে দেখা উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা ও এনাম ভাই — শেখ নিজামুর রহমান টিপু

শেখ নিজামুর রহমান টিপু
  • আপডেটের সময় : ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০
  • / ১২১৫ টাইম ভিউ

ফিরে দেখা উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা ও এনামুল ইসলাম এনাম ভাই
——— শেখ নিজামুর রহমান টিপু

উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা গঠন হয় ১৯৯০ সালে একটু আগে, কুলাউড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা প্রথম সাধারন সম্পাদক হলেন কুলাউড়ার তৎকালীন সময়ের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বজন প্রিয় জনাব মরহুম আব্দুল মুকিত মিকি ভাই ।
এর পরেই উপজেলা ক্রীড়া সংস্হার সাধারন সম্পাদক হয়ে আসেন উপজেলার ক্রীড়াঙ্গন – সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক সংগঠনের উদ্দ্যোগী এনামুল ইসলাম এনাম ভাই ।
সেই সময় তরুন ও যুবকদের সমন্বয় করে কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খেলোয়ারদের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরী করেন ।
উপমহাদেশীয় অঞ্চলের দলগুলোর মধ্যে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের অন্যতম মাধ্যম হল সাফ গেমস ।
আর মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট হলো কুলাউড়া উপজেলা, যারা ৭০ থেকে ৯০ দশকের ফুটবল খেলা দেখেছেন তারা চোখ বুঁজে স্বীকার করবেন মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়ায় ফুটবল ইতিহাসের সেরা ম্যাচ গুলো হয়েছে ।
সেই ৭০ দশকেও জাতীয় দলের খেলোয়ার রামা নোসাই সহ অনেকেরই আগমন ঘটেছিলো কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের প্রান কেন্দ্র নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাটে ।
তারপর ৮০ দশক ও ৯০ দশকে উল্লেখযোগ্য জাতীয় দলের খেলোয়ারদেক অংশগ্রহনে নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাট ছিলো উত্তাল ।
যদি তখন ক্রিকেটের সিমাবদ্ধ ছিলো তবে চর্চা হতো নিয়মিত নবীন চন্দ্র বিদ্যালয়ের ভিতরের মাটে ।
কিন্তু বণাঢ্যভাবে প্রথম ক্রীকেট লীগ ৮৮-৮৯  শুরু হয়। এর অনেক আগে থেকেই কুলাউডায় ক্রিকেট প্রেকটিস হতো ,তবে লীগ ভিত্তিক প্রতিযোগিতা শুরু হয় ৮৮-৮৯ ।এমদাদুল মান্নান চৌধুরী তারহাম ও জোবায়ের আহমেদ বিজুর উপর  ক্রিকেট সেট  ক্রয় করার দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছিলো এবং তারা ঢাকা থেকে ক্রয় করে আনেন ।

শুধু তাই নয় প্রথম ম্যারাথন দৌড়( ব্রাক্ষণ বাজার – কুলাউড়া হাসপাতাল),ভলিবল লীগও হয়েছিলো ৪/৫ বছর।
এ্যাথলেটিক্সে জাতীয় পর্যায়ে ৩য় হয়েছিলেন শহীদ ভাই, নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শ্রদ্ধেয় সৈয়দ কামাল উদ্দিন স্যার এর মেয়ে জাতীয় পর্যায়ে ২য় হয়েছিলো ।
কুলাউড়া ডাকবাংলা মাঠে প্রতি বছরই জুনিয়র, সিনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা হতো, শহর ছাড়াও আঁশে – পাশের গ্রামের কিশোর , তরুন ও যুবকরা অপেক্ষায় থাকতো কখন সন্ধা হবে জমকালো রাতে কয়েকহাজার পাওয়ার এর লাইটে আলোকিত স্কয়ার মাঠে ব্যাডের আওয়াজ এবং মানুষের করতালীর শব্দধনী আজও যেনো কানে বাজে ।
সেই সময়ের ব্যাডমিন্টনের মাঠকাপানো খেলোয়ার যাদের নাম মনে হচ্ছে কেফায়েত ভাই, মন্টু ভাই,  মরহুম নিজাম ভাই ,তারহাম ভাই , মান্না ভাই, ফজলু ভাই,হুমায়ুন ভাই, খলিল ভাই তজম্মুল ভাই, মতিউর রহমান মতিন ভাই , বাদল ভাই , ফয়ছল ভাই,আকবর ভাই, লিটন ভাই,ফজলুল বাসিত বেলাল ভাই ১৯৮২ সালে জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন ( একক) এ থানা ও মৌলভীবাজার( মহকুমা) বর্তমান জেলা চ্যাম্পিয়ন এবং সিলেট (জেলা ) বর্তমান সিলেট বিভাগে রানার্সআপ হয়েছিলেন, কুলাউড়ার বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহন ছিলো উল্লেখযোগ্য ।

কামাল ভাই,আফিয়ান ভাই, জুড়ি থেকে আগত রফিক ভাই , পরবর্তিতে বিপুল ও নীল সহ উনাদের ব্যাডের শৈল্পিক কৌশল ছিলো চোখে পড়ার মতো,সেই চিত্র আজও যেনো চোখে জলচ্ছবি হয়ে আছে ।
আসা যাক “দাবা” কথায় আছে ধৈর্য্য শক্তি পরীক্ষা করতে হলে দাবায় বসিয়ে দাও,তখন বুঝতে পারবে সেই ব্যাক্তি কতঠুকু ধৈর্য্য রাখতে সক্ষম,যতটুকু মনে আছে ডাকবাংলা তে অবস্হিত পাবলিক লাইব্রেরিতে বিজিত রায় দাদা ও বর্তমান সাংবাদিক মছব্বির ভাইয়ের পরিচালনায় দাবা প্রতিযোগিতা প্রথম শুরু হয়েছিলো তাও কিন্তু এনাম ভাইয়ের দায়ীত্বে থাকা সময়েই ।
সিনিয়রদের নিয়ে ডাকবাংলায় কাবাডি প্রতিযোগিতা সহ লোহাউনি মাঠে তারহাম ভাই , লিটন ভাই ও কাবুল পাল দাদা সহ উনাদের ব্যবস্হাপনায় ফুটবল কোচিং হতো, সেখানে জুনিয়রদের নিয়ে যেতেন আরেক ক্রীড়া প্রেমী শেখ আলী আজন ভাই, সেই কোচিংয়ের জুনিয়রদের মধ্যে তারা মিয়া বক্স, বিপুল দেব, মান্না বক্স, দেলোয়ার সহ আমি সহ আমরা সবাই ছিলাম নবিন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত তারে চেয়ে সিনিয়রে ছিলেন মোমিন ভাই, ফয়সাল ভাই, বাবু ভাই, লাভলু ভাই, মামুন ভাই, শিপার ভাই( সম্পাদক সংলাপ) শওকত ভাই সহ আরো অনেকেই ছিলেন সবার নাম মনে পড়ছে না এখন । সে সময় জেলায় ফুটবল টিমে প্রতি বছরই অংশগ্রহন করেছে কুলাউড়ীরা ।

কুলাউড়ায় এসে ডুবসাতারু নওশের আলী ৪০ ঘন্টা একনাগারে ডুব দিয়ে উপজেলা পুকুরে খেলা দেখিয়েছ্লো এবং তা উপজেলাব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো তাও ছিলো এনামুল ইসলাম ভাইয়ে উদ্যোগে ।
শুধু কি তাই উনার উদ্যোগে একনাগারে ৭২ ঘন্টা সাইকেলের উপর ছিলেন জনৈক খেলোয়র (নাম টা মনে পড়ছে না)কুলাউড়া হাসপাতালের সামনে তখন তা ছিলো খালি মাঠ। আমরা কিশোররা তখন বিকালে খেলা করতাম, যদিও সেখানে এখন গাছ লাগানো হয়েছে ।
শুধু যে ক্রীড়াঙ্গনে উনার অবদান তাই নয় ।
শিক্ষাঙ্গনেও উনার অবদান ছিলো উল্লেখযোগ্য – বিভিন্ন স্কুল বা কলেজ প্রতিষ্টাকালীন সময়ে অবৈতনিকভাবে শিক্ষকতা করে সেই প্রতিষ্ঠান কে দাঁড় করানো ছিলো যেনো উনার দায়ীত্ব,আমি বিভিন্ন জনদের থেকে উল্লেখ যোগ্য কিছু বানিয়াচং জনাব আলী কলেজ। প্রতিষ্ঠা কাল থেকে প্রায় এক বছর ২/৩ মাস ছিলেন শিক্ষকতায়, এর পর ক্রমান্বয়ে মাহতাব সায়রা উচ্চ বিদ্যালয় (বতমানেউত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়) প্রতিষ্টা কাল থেকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে পরে প্রঃ শিঃ ছিলেন কয়েকবছর, সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা প্রঃ শিঃ, অবৈতনিক (১৯৯০—-৯৮ ),পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা প্রঃ শিঃ অবৈতনিক ২০০৪ থেকে অদ্যাবধি ।
প্রতিষ্ঠাতা “নজরুল-এনাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিটি চা বাগানের পূবে’ পাহাড়ঘেরা বনান্চল মনছরায় অবস্থিত।
অন্যান্য সেবামূলখ কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২৭ টি ফ্রি চক্ষু শিবির করেন ২০১৮ সাল পর্যন্ত এর সভাপতি ছিলেন এবং আছেন পর্যন্ত, ১৯ এবং ২০২০ এর হিসেব টা জানতে পারিনি । উনার সাথে বিভিন্ন সময়ে সম্পাদক ছিলেন সব’ জনাব সিরাজ সহ অনেকেই, ১২/১৪ বছর থেকে আ স ম কামরুল আছে ।
এছাড়া ১৩ ইউনিয়নে ১৩ টি ফ্রি গাইনি ক্যাম্প করা হয়,সম্পাদকে দায়ীত্বে ছিলেন সিপার আহমেদ।
এনাম ভাই ধর্মীয় কাজে এগিয়ে আছেন সমানতালে,প্রায় ১৮ বছর যাবত ৩ টা মক্তবে হুজুরদের বেতন দেন ।

ইনামুল ইসলাম এনাম ভাইয়ের সাথে মুটোফোনে এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন -যাদের সহযোগিতার কথা না বললে অকৃতজ্ঞ থেকে যাবো তারা হলেন তখনকার সময় ক্রীড়া সংস্হায় জনাব আব্দুল জব্বার , জনাব আব্দুল মুকিম, জনাব ফয়েজ আহমেদ, জনাব মোস্তাক আহমেদ, শ্রী রাদেশ্যাম রায় চন্দন স্যার, মাক্কু ভাই , মোজাম্মেল আহমেদ, আব্দুল মুকিত মিকি, আবুল ফাত্তাহ ফজলু, ভানু বট্যাচার্য্য, বিজু, পিন্টু, মানিক, শুকুর মেম্বার, জুলন ভাই, টেনাই ভাই, শাহীন, মহসিন চৌঃ ক্রীড়া সংস্হার সদস্য ছিলেন।
মরহুম নিজাম,তারহাম, মান্না, কাবুল, পিন্টু, লিটন, খলিল, হুমায়ুন , সামু, বাদল, শহীদ, দিপু, বিজু, সহ আরো অসংখ্য খেলোয়াড় কলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের প্রান ছিলেন আমার মনে পড়ছে না, দির্ঘকাল আগের কথা । নিটনের বাসা ছিল ক্রীড়া সামগ্রী রাখার স্হান। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি তাদের কাছে উনি ক্ষমা চেয়ে বলেন নিয়মিত অতিত ঐতিহ্য নিয়ে লেখা আসলে সবার নাম ক্রমান্বয়ে বলে যাবেন ।
আরো বলেন ৬/৭ বছর একনাগাড়ে সম্পাদক থাকায় আমার বিরুদ্ধে গুন্জন শুরু হয়েছিল। বুঝতে পেরে গুন্জন গজ’নে রুপ নেয়ার আগেই এমপি জব্বার ভাইকে নিয়ে টিএনও কাছে যাই এবং তথায় উপস্হিত রউফ এর কাছে দায়িত্ব দিয়ে পদত্যাগ করি। আমি এনালগ যুগের মানুষ ।অনেকের নাম মনে না হওয়ার কারনে কারো নাম বলতে না পাড়ায় কেউ যেনো ভুল না বুঝেন চ।
ক্রীড়াক্ষেত্রে গৌরব অর্জনের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি আমি কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের সমৃদ্ধ হউক আন্তরিক কামনা করি (এনাম)।
এনাম ভাইকে আবার যখন প্রশ্ন রাখি কলেজ সহ অনেক স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে থাকলেও পরবর্তিতে থাকতেন না কেনো ?
উত্তরে এনাম ভাই শিক্ষকতা নিয়ে বলেন -“দার্শনিক কুয়ানত্সুর মত উক্তি টাই বলি –
যদি তুমি এক বছরের পরিকল্পনা মতো ফল পেতে চাও তবে শস্য রোপণ কর, যদি দশকের পরিকল্পনায় ফল পেতে চাও তবে বৃক্ষরোপণ কর আর যদি সারা জীবনের জন্য পরিকল্পনা করে ফল পেতে চাও তবে মানুষের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা কর।”

বস্তুত এই সুশিক্ষা শব্দটির মধ্যেই সব প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর সন্নিবেশিত থাকছে, আমরা নৈতিক শিক্ষার কথাই বলি বা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার কথাই বলি সবকিছুর একটা সহজ মেলবন্ধন হবে সুশিক্ষা। বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নৈতিক এবং মানবিক শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরেকবার ভাবতে বাধ্য করেছে।বর্তমানে সবকিছুতে অর্থের কথা চলে আসে, তাই যেখানেই দেখি শিক্ষা প্রতিষ্টান দাঁড় করানোর জন্য অবৈতনিক শিক্ষক প্রয়োজন তখনই আমি নিজে থেকে হাজির হই সেখানে, এবং শুধু শিক্ষা নয়, সুশিক্ষা দিতে চেষ্টা করি ।
যে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নত করার পাশাপাশি তার ভিতরকার মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত রাখবে, তার জন্যই আমার শিক্ষকতা করা ।

এ নিয়ে মুটোফোনে নিউইয়র্ক থেকে কুলাউড়া ক্রীড়াঅঙ্গনের আরেক প্রিয় মূখ জামাল উদ্দিন লিটন ভাই বলেন – কুলাউড়ায় ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মাধ্যমে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে ভ্রাত্বতের যে সেতুবন্ধন তৈরী হয়েছিলো কয়েক যুগ আগে তা এখনও বিদ্যমান আছে কুলাউড়ীদের মধ্যে, বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কুলাউড়ার প্রবাসীরা একে অন্যর মধ্যে সেই স্নেহ, সন্মান, শ্রদ্ধাবোধ সহ মধুর সম্পর্ক অটুট রেখেই যোগাযোগ রাখছেন এখনও দেশে ও প্রবাসে সবাই সবার সাথে ।
তিনি আরো বলেন এজন্যই পড়াশুনার সাথে সাথে শরীরচর্চা ও খেলাধূলার বিশেষ প্রয়োজন আছে । কারণ অসমর্থ ও দুর্বল শরীরে কখনো ভালো পড়াশুনা হয় না ।

মুটোফোন কুলাউড়ার সর্বজন প্রিয় খেলোয়ার ও ক্রীড়া সংগঠক কাবুল পাল দাদা সাথে আলাপে বলেন
তোমরা সবাই স্বামীজীর ফুটবল খেলা নিয়ে একটি উক্তি আছে তা পড়ে নিও ।

খেলাধূলা শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে অনাবিল আনন্দ দেয় তা নয়, চরিত্রের বিকাশও ঘটায় । খেলাধূলা থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলার বোধ জাগে যা চরিত্র গঠনে বিশেষ প্রয়োজনীয়, আমাকে তোমার সবাই ফুটবল প্রেমিক বলে ডাকো , আমি চেয়েছিলাম কুলাউড়ায় অনেক ফুটবল খেলোয়ার তৈরী হোক তাই তখনকার তরুনদের মাঝে শওকত, মোমিন ,বাবু, লাভলু ,শিপার,মামুন,উত্তরবাজারে ফয়সাল,মুরাদ,কিশোরদের মাঝে তারামিয়া,দেলোয়ার তুমি টিপু, জ্যোতি, বিপুল , মান্না বক্স সহ  তখনকার কিশোরদের নিয়ে মাটে পড়ে থাকতাম ।
আমার উদ্দেশ্য ছিলো ভালো খেলোয়ার গড়ে উঠুন । কিন্তু আমাদের ব্যাচের পড়ে চোখে পড়ার মতো খেলোয়াড় কুলাউড়া ফুটবলে আসেনি, তা খুবই দুংখজনক ।

আমি যোগাযোগ করেছিলাম কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গন – সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জগতের সুরেলা গিটার বাঁধক,কুলাউড়ায় সবার কাছে অলরাউন্ডার হিসেবে এমদাদুল মান্নান চৌধুরী তাহরাম ভাই বলেছেন কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গন – সাংস্কৃতিক জগতের এবং সামাজিক সংগঠকদের অতিত ঐতিহ্য নিয়ে ধারাবাহিক সহযোগিতা করে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ।

আরো বিভিন্ন সুত্র থেকে জানতে পারি যে মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়ার সন্তানরাই ছিলেন নিয়মিত খেলোয়ার – ইলেভেনস্টার এর গোলরক্ষক ছিলেন ফয়সাল ভাই,আবাহনীর গোলরক্ষক ছিলেন তাহরাম ভাই, আর খলিল ভাই, নিজাম ভাই ও মান্না ভাই খেলতেন ওয়ান্ডারস ক্লাব মৌলভীবাজারে হয়ে,এবং পুলিশ টিমে গোলরক্ষক ছিলেন শহীদউল্লাহ ভাই ।
এ থেকে পরিস্কার হয় যে আমরা ক্রীড়াক্ষেত্রে মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়া উপজেলা একটি উজ্বল নাম।

তখনকার আমলে কুলাউড়া উপজেলা ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ করে ফুটবল অঙ্গনে যেভাবে জাতীয় খেলোয়ারদের আগমন ঘটে যে সফলতা বয়ে এসেছিলো, তা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এসব আয়োজন হয় বর্ণাঢ্যময় ও আকর্ষণীয় হওয়াতে, বৃহত্তর সিলেটে প্রসংশিত হয়েছে কুলাউড়ার সুনাম,গৌরব বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমরা এসব তথ্য থেকেই অনুমান করতে পারি ক্রীড়াক্ষেত্রে গৌরব অর্জনের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেই কয়েকযুগ আগে থেকেই।
ইনামুল ইসলাম এনাম ভাই উপজেলা ক্রীড়াসংস্হার সাধারন সম্পাদক দায়ীত্বে থাকাকালীন সময়েই ।
কুলাউড়ার সেই অতিতের ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষে প্রতি বৎসর নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট লীগের আয়োজন করে থাকে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা কুলাউড়া।

আমি কৃতজ্ঞতাসহ ধন্যাবাদ জানাচ্ছি এনাম ভাই, লিটন ভাই ও তাহরাম ভাইকে উনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে কুলাউড়ার ইতিহাস দিয়ে সাহায্য করার জন্য ।
সমাজে আধুনিক জীবনে যৌথ পরিবার বা একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে গিয়ে ছোট ছোট নিউক্লিয় পরিবারে পরিণত হচ্ছে । এর ফলে বাচ্চারা বড় বেশি একাকিত্বে ভুগছে । এরপর আছে লেখাপড়ার চাপ, এইসব টানাপোড়েনে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত । প্রবল চাপে অনেক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে । এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে খেলাধূলা । খেলাধূলাই পারে মনের সব ক্লান্তি দূর করে দিতে । তাই আমাদের বড়দের এদিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম উন্মুক্ত প্রান্তরে একটু নিশ্বাস নিতে পারে এবং মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়তে পারে ।

পোস্ট শেয়ার করুন

ফিরে দেখা উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা ও এনাম ভাই — শেখ নিজামুর রহমান টিপু

আপডেটের সময় : ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২০

ফিরে দেখা উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা ও এনামুল ইসলাম এনাম ভাই
——— শেখ নিজামুর রহমান টিপু

উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা গঠন হয় ১৯৯০ সালে একটু আগে, কুলাউড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্হা প্রথম সাধারন সম্পাদক হলেন কুলাউড়ার তৎকালীন সময়ের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বজন প্রিয় জনাব মরহুম আব্দুল মুকিত মিকি ভাই ।
এর পরেই উপজেলা ক্রীড়া সংস্হার সাধারন সম্পাদক হয়ে আসেন উপজেলার ক্রীড়াঙ্গন – সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও সামাজিক সংগঠনের উদ্দ্যোগী এনামুল ইসলাম এনাম ভাই ।
সেই সময় তরুন ও যুবকদের সমন্বয় করে কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনে একের পর এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে খেলোয়ারদের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরী করেন ।
উপমহাদেশীয় অঞ্চলের দলগুলোর মধ্যে ফুটবল শ্রেষ্ঠত্ব বিচারের অন্যতম মাধ্যম হল সাফ গেমস ।
আর মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে শ্রেষ্ট হলো কুলাউড়া উপজেলা, যারা ৭০ থেকে ৯০ দশকের ফুটবল খেলা দেখেছেন তারা চোখ বুঁজে স্বীকার করবেন মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়ায় ফুটবল ইতিহাসের সেরা ম্যাচ গুলো হয়েছে ।
সেই ৭০ দশকেও জাতীয় দলের খেলোয়ার রামা নোসাই সহ অনেকেরই আগমন ঘটেছিলো কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের প্রান কেন্দ্র নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাটে ।
তারপর ৮০ দশক ও ৯০ দশকে উল্লেখযোগ্য জাতীয় দলের খেলোয়ারদেক অংশগ্রহনে নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাট ছিলো উত্তাল ।
যদি তখন ক্রিকেটের সিমাবদ্ধ ছিলো তবে চর্চা হতো নিয়মিত নবীন চন্দ্র বিদ্যালয়ের ভিতরের মাটে ।
কিন্তু বণাঢ্যভাবে প্রথম ক্রীকেট লীগ ৮৮-৮৯  শুরু হয়। এর অনেক আগে থেকেই কুলাউডায় ক্রিকেট প্রেকটিস হতো ,তবে লীগ ভিত্তিক প্রতিযোগিতা শুরু হয় ৮৮-৮৯ ।এমদাদুল মান্নান চৌধুরী তারহাম ও জোবায়ের আহমেদ বিজুর উপর  ক্রিকেট সেট  ক্রয় করার দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছিলো এবং তারা ঢাকা থেকে ক্রয় করে আনেন ।

শুধু তাই নয় প্রথম ম্যারাথন দৌড়( ব্রাক্ষণ বাজার – কুলাউড়া হাসপাতাল),ভলিবল লীগও হয়েছিলো ৪/৫ বছর।
এ্যাথলেটিক্সে জাতীয় পর্যায়ে ৩য় হয়েছিলেন শহীদ ভাই, নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শ্রদ্ধেয় সৈয়দ কামাল উদ্দিন স্যার এর মেয়ে জাতীয় পর্যায়ে ২য় হয়েছিলো ।
কুলাউড়া ডাকবাংলা মাঠে প্রতি বছরই জুনিয়র, সিনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা হতো, শহর ছাড়াও আঁশে – পাশের গ্রামের কিশোর , তরুন ও যুবকরা অপেক্ষায় থাকতো কখন সন্ধা হবে জমকালো রাতে কয়েকহাজার পাওয়ার এর লাইটে আলোকিত স্কয়ার মাঠে ব্যাডের আওয়াজ এবং মানুষের করতালীর শব্দধনী আজও যেনো কানে বাজে ।
সেই সময়ের ব্যাডমিন্টনের মাঠকাপানো খেলোয়ার যাদের নাম মনে হচ্ছে কেফায়েত ভাই, মন্টু ভাই,  মরহুম নিজাম ভাই ,তারহাম ভাই , মান্না ভাই, ফজলু ভাই,হুমায়ুন ভাই, খলিল ভাই তজম্মুল ভাই, মতিউর রহমান মতিন ভাই , বাদল ভাই , ফয়ছল ভাই,আকবর ভাই, লিটন ভাই,ফজলুল বাসিত বেলাল ভাই ১৯৮২ সালে জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন ( একক) এ থানা ও মৌলভীবাজার( মহকুমা) বর্তমান জেলা চ্যাম্পিয়ন এবং সিলেট (জেলা ) বর্তমান সিলেট বিভাগে রানার্সআপ হয়েছিলেন, কুলাউড়ার বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহন ছিলো উল্লেখযোগ্য ।

কামাল ভাই,আফিয়ান ভাই, জুড়ি থেকে আগত রফিক ভাই , পরবর্তিতে বিপুল ও নীল সহ উনাদের ব্যাডের শৈল্পিক কৌশল ছিলো চোখে পড়ার মতো,সেই চিত্র আজও যেনো চোখে জলচ্ছবি হয়ে আছে ।
আসা যাক “দাবা” কথায় আছে ধৈর্য্য শক্তি পরীক্ষা করতে হলে দাবায় বসিয়ে দাও,তখন বুঝতে পারবে সেই ব্যাক্তি কতঠুকু ধৈর্য্য রাখতে সক্ষম,যতটুকু মনে আছে ডাকবাংলা তে অবস্হিত পাবলিক লাইব্রেরিতে বিজিত রায় দাদা ও বর্তমান সাংবাদিক মছব্বির ভাইয়ের পরিচালনায় দাবা প্রতিযোগিতা প্রথম শুরু হয়েছিলো তাও কিন্তু এনাম ভাইয়ের দায়ীত্বে থাকা সময়েই ।
সিনিয়রদের নিয়ে ডাকবাংলায় কাবাডি প্রতিযোগিতা সহ লোহাউনি মাঠে তারহাম ভাই , লিটন ভাই ও কাবুল পাল দাদা সহ উনাদের ব্যবস্হাপনায় ফুটবল কোচিং হতো, সেখানে জুনিয়রদের নিয়ে যেতেন আরেক ক্রীড়া প্রেমী শেখ আলী আজন ভাই, সেই কোচিংয়ের জুনিয়রদের মধ্যে তারা মিয়া বক্স, বিপুল দেব, মান্না বক্স, দেলোয়ার সহ আমি সহ আমরা সবাই ছিলাম নবিন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম ও অষ্টম শ্রেনীতে অধ্যয়নরত তারে চেয়ে সিনিয়রে ছিলেন মোমিন ভাই, ফয়সাল ভাই, বাবু ভাই, লাভলু ভাই, মামুন ভাই, শিপার ভাই( সম্পাদক সংলাপ) শওকত ভাই সহ আরো অনেকেই ছিলেন সবার নাম মনে পড়ছে না এখন । সে সময় জেলায় ফুটবল টিমে প্রতি বছরই অংশগ্রহন করেছে কুলাউড়ীরা ।

কুলাউড়ায় এসে ডুবসাতারু নওশের আলী ৪০ ঘন্টা একনাগারে ডুব দিয়ে উপজেলা পুকুরে খেলা দেখিয়েছ্লো এবং তা উপজেলাব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো তাও ছিলো এনামুল ইসলাম ভাইয়ে উদ্যোগে ।
শুধু কি তাই উনার উদ্যোগে একনাগারে ৭২ ঘন্টা সাইকেলের উপর ছিলেন জনৈক খেলোয়র (নাম টা মনে পড়ছে না)কুলাউড়া হাসপাতালের সামনে তখন তা ছিলো খালি মাঠ। আমরা কিশোররা তখন বিকালে খেলা করতাম, যদিও সেখানে এখন গাছ লাগানো হয়েছে ।
শুধু যে ক্রীড়াঙ্গনে উনার অবদান তাই নয় ।
শিক্ষাঙ্গনেও উনার অবদান ছিলো উল্লেখযোগ্য – বিভিন্ন স্কুল বা কলেজ প্রতিষ্টাকালীন সময়ে অবৈতনিকভাবে শিক্ষকতা করে সেই প্রতিষ্ঠান কে দাঁড় করানো ছিলো যেনো উনার দায়ীত্ব,আমি বিভিন্ন জনদের থেকে উল্লেখ যোগ্য কিছু বানিয়াচং জনাব আলী কলেজ। প্রতিষ্ঠা কাল থেকে প্রায় এক বছর ২/৩ মাস ছিলেন শিক্ষকতায়, এর পর ক্রমান্বয়ে মাহতাব সায়রা উচ্চ বিদ্যালয় (বতমানেউত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়) প্রতিষ্টা কাল থেকে সহকারী শিক্ষক হিসাবে পরে প্রঃ শিঃ ছিলেন কয়েকবছর, সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা প্রঃ শিঃ, অবৈতনিক (১৯৯০—-৯৮ ),পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা প্রঃ শিঃ অবৈতনিক ২০০৪ থেকে অদ্যাবধি ।
প্রতিষ্ঠাতা “নজরুল-এনাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিটি চা বাগানের পূবে’ পাহাড়ঘেরা বনান্চল মনছরায় অবস্থিত।
অন্যান্য সেবামূলখ কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২৭ টি ফ্রি চক্ষু শিবির করেন ২০১৮ সাল পর্যন্ত এর সভাপতি ছিলেন এবং আছেন পর্যন্ত, ১৯ এবং ২০২০ এর হিসেব টা জানতে পারিনি । উনার সাথে বিভিন্ন সময়ে সম্পাদক ছিলেন সব’ জনাব সিরাজ সহ অনেকেই, ১২/১৪ বছর থেকে আ স ম কামরুল আছে ।
এছাড়া ১৩ ইউনিয়নে ১৩ টি ফ্রি গাইনি ক্যাম্প করা হয়,সম্পাদকে দায়ীত্বে ছিলেন সিপার আহমেদ।
এনাম ভাই ধর্মীয় কাজে এগিয়ে আছেন সমানতালে,প্রায় ১৮ বছর যাবত ৩ টা মক্তবে হুজুরদের বেতন দেন ।

ইনামুল ইসলাম এনাম ভাইয়ের সাথে মুটোফোনে এ নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন -যাদের সহযোগিতার কথা না বললে অকৃতজ্ঞ থেকে যাবো তারা হলেন তখনকার সময় ক্রীড়া সংস্হায় জনাব আব্দুল জব্বার , জনাব আব্দুল মুকিম, জনাব ফয়েজ আহমেদ, জনাব মোস্তাক আহমেদ, শ্রী রাদেশ্যাম রায় চন্দন স্যার, মাক্কু ভাই , মোজাম্মেল আহমেদ, আব্দুল মুকিত মিকি, আবুল ফাত্তাহ ফজলু, ভানু বট্যাচার্য্য, বিজু, পিন্টু, মানিক, শুকুর মেম্বার, জুলন ভাই, টেনাই ভাই, শাহীন, মহসিন চৌঃ ক্রীড়া সংস্হার সদস্য ছিলেন।
মরহুম নিজাম,তারহাম, মান্না, কাবুল, পিন্টু, লিটন, খলিল, হুমায়ুন , সামু, বাদল, শহীদ, দিপু, বিজু, সহ আরো অসংখ্য খেলোয়াড় কলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের প্রান ছিলেন আমার মনে পড়ছে না, দির্ঘকাল আগের কথা । নিটনের বাসা ছিল ক্রীড়া সামগ্রী রাখার স্হান। যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি তাদের কাছে উনি ক্ষমা চেয়ে বলেন নিয়মিত অতিত ঐতিহ্য নিয়ে লেখা আসলে সবার নাম ক্রমান্বয়ে বলে যাবেন ।
আরো বলেন ৬/৭ বছর একনাগাড়ে সম্পাদক থাকায় আমার বিরুদ্ধে গুন্জন শুরু হয়েছিল। বুঝতে পেরে গুন্জন গজ’নে রুপ নেয়ার আগেই এমপি জব্বার ভাইকে নিয়ে টিএনও কাছে যাই এবং তথায় উপস্হিত রউফ এর কাছে দায়িত্ব দিয়ে পদত্যাগ করি। আমি এনালগ যুগের মানুষ ।অনেকের নাম মনে না হওয়ার কারনে কারো নাম বলতে না পাড়ায় কেউ যেনো ভুল না বুঝেন চ।
ক্রীড়াক্ষেত্রে গৌরব অর্জনের ধারাবাহিকতার পাশাপাশি আমি কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গনের সমৃদ্ধ হউক আন্তরিক কামনা করি (এনাম)।
এনাম ভাইকে আবার যখন প্রশ্ন রাখি কলেজ সহ অনেক স্কুলের প্রতিষ্ঠাকালিন সময়ে থাকলেও পরবর্তিতে থাকতেন না কেনো ?
উত্তরে এনাম ভাই শিক্ষকতা নিয়ে বলেন -“দার্শনিক কুয়ানত্সুর মত উক্তি টাই বলি –
যদি তুমি এক বছরের পরিকল্পনা মতো ফল পেতে চাও তবে শস্য রোপণ কর, যদি দশকের পরিকল্পনায় ফল পেতে চাও তবে বৃক্ষরোপণ কর আর যদি সারা জীবনের জন্য পরিকল্পনা করে ফল পেতে চাও তবে মানুষের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা কর।”

বস্তুত এই সুশিক্ষা শব্দটির মধ্যেই সব প্রশ্ন ও প্রশ্নের উত্তর সন্নিবেশিত থাকছে, আমরা নৈতিক শিক্ষার কথাই বলি বা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষার কথাই বলি সবকিছুর একটা সহজ মেলবন্ধন হবে সুশিক্ষা। বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট নৈতিক এবং মানবিক শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরেকবার ভাবতে বাধ্য করেছে।বর্তমানে সবকিছুতে অর্থের কথা চলে আসে, তাই যেখানেই দেখি শিক্ষা প্রতিষ্টান দাঁড় করানোর জন্য অবৈতনিক শিক্ষক প্রয়োজন তখনই আমি নিজে থেকে হাজির হই সেখানে, এবং শুধু শিক্ষা নয়, সুশিক্ষা দিতে চেষ্টা করি ।
যে শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর নৈতিক মানদণ্ডকে উন্নত করার পাশাপাশি তার ভিতরকার মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত রাখবে, তার জন্যই আমার শিক্ষকতা করা ।

এ নিয়ে মুটোফোনে নিউইয়র্ক থেকে কুলাউড়া ক্রীড়াঅঙ্গনের আরেক প্রিয় মূখ জামাল উদ্দিন লিটন ভাই বলেন – কুলাউড়ায় ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মাধ্যমে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে ভ্রাত্বতের যে সেতুবন্ধন তৈরী হয়েছিলো কয়েক যুগ আগে তা এখনও বিদ্যমান আছে কুলাউড়ীদের মধ্যে, বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কুলাউড়ার প্রবাসীরা একে অন্যর মধ্যে সেই স্নেহ, সন্মান, শ্রদ্ধাবোধ সহ মধুর সম্পর্ক অটুট রেখেই যোগাযোগ রাখছেন এখনও দেশে ও প্রবাসে সবাই সবার সাথে ।
তিনি আরো বলেন এজন্যই পড়াশুনার সাথে সাথে শরীরচর্চা ও খেলাধূলার বিশেষ প্রয়োজন আছে । কারণ অসমর্থ ও দুর্বল শরীরে কখনো ভালো পড়াশুনা হয় না ।

মুটোফোন কুলাউড়ার সর্বজন প্রিয় খেলোয়ার ও ক্রীড়া সংগঠক কাবুল পাল দাদা সাথে আলাপে বলেন
তোমরা সবাই স্বামীজীর ফুটবল খেলা নিয়ে একটি উক্তি আছে তা পড়ে নিও ।

খেলাধূলা শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে অনাবিল আনন্দ দেয় তা নয়, চরিত্রের বিকাশও ঘটায় । খেলাধূলা থেকে নিয়ম-শৃঙ্খলার বোধ জাগে যা চরিত্র গঠনে বিশেষ প্রয়োজনীয়, আমাকে তোমার সবাই ফুটবল প্রেমিক বলে ডাকো , আমি চেয়েছিলাম কুলাউড়ায় অনেক ফুটবল খেলোয়ার তৈরী হোক তাই তখনকার তরুনদের মাঝে শওকত, মোমিন ,বাবু, লাভলু ,শিপার,মামুন,উত্তরবাজারে ফয়সাল,মুরাদ,কিশোরদের মাঝে তারামিয়া,দেলোয়ার তুমি টিপু, জ্যোতি, বিপুল , মান্না বক্স সহ  তখনকার কিশোরদের নিয়ে মাটে পড়ে থাকতাম ।
আমার উদ্দেশ্য ছিলো ভালো খেলোয়ার গড়ে উঠুন । কিন্তু আমাদের ব্যাচের পড়ে চোখে পড়ার মতো খেলোয়াড় কুলাউড়া ফুটবলে আসেনি, তা খুবই দুংখজনক ।

আমি যোগাযোগ করেছিলাম কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গন – সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জগতের সুরেলা গিটার বাঁধক,কুলাউড়ায় সবার কাছে অলরাউন্ডার হিসেবে এমদাদুল মান্নান চৌধুরী তাহরাম ভাই বলেছেন কুলাউড়ার ক্রীড়াঙ্গন – সাংস্কৃতিক জগতের এবং সামাজিক সংগঠকদের অতিত ঐতিহ্য নিয়ে ধারাবাহিক সহযোগিতা করে যাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ।

আরো বিভিন্ন সুত্র থেকে জানতে পারি যে মৌলভীবাজার জেলায় কুলাউড়ার সন্তানরাই ছিলেন নিয়মিত খেলোয়ার – ইলেভেনস্টার এর গোলরক্ষক ছিলেন ফয়সাল ভাই,আবাহনীর গোলরক্ষক ছিলেন তাহরাম ভাই, আর খলিল ভাই, নিজাম ভাই ও মান্না ভাই খেলতেন ওয়ান্ডারস ক্লাব মৌলভীবাজারে হয়ে,এবং পুলিশ টিমে গোলরক্ষক ছিলেন শহীদউল্লাহ ভাই ।
এ থেকে পরিস্কার হয় যে আমরা ক্রীড়াক্ষেত্রে মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়া উপজেলা একটি উজ্বল নাম।

তখনকার আমলে কুলাউড়া উপজেলা ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ করে ফুটবল অঙ্গনে যেভাবে জাতীয় খেলোয়ারদের আগমন ঘটে যে সফলতা বয়ে এসেছিলো, তা ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এসব আয়োজন হয় বর্ণাঢ্যময় ও আকর্ষণীয় হওয়াতে, বৃহত্তর সিলেটে প্রসংশিত হয়েছে কুলাউড়ার সুনাম,গৌরব বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমরা এসব তথ্য থেকেই অনুমান করতে পারি ক্রীড়াক্ষেত্রে গৌরব অর্জনের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেই কয়েকযুগ আগে থেকেই।
ইনামুল ইসলাম এনাম ভাই উপজেলা ক্রীড়াসংস্হার সাধারন সম্পাদক দায়ীত্বে থাকাকালীন সময়েই ।
কুলাউড়ার সেই অতিতের ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষে প্রতি বৎসর নিয়মিত ফুটবল ও ক্রিকেট লীগের আয়োজন করে থাকে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা কুলাউড়া।

আমি কৃতজ্ঞতাসহ ধন্যাবাদ জানাচ্ছি এনাম ভাই, লিটন ভাই ও তাহরাম ভাইকে উনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে কুলাউড়ার ইতিহাস দিয়ে সাহায্য করার জন্য ।
সমাজে আধুনিক জীবনে যৌথ পরিবার বা একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে গিয়ে ছোট ছোট নিউক্লিয় পরিবারে পরিণত হচ্ছে । এর ফলে বাচ্চারা বড় বেশি একাকিত্বে ভুগছে । এরপর আছে লেখাপড়ার চাপ, এইসব টানাপোড়েনে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত । প্রবল চাপে অনেক বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়ে । এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে খেলাধূলা । খেলাধূলাই পারে মনের সব ক্লান্তি দূর করে দিতে । তাই আমাদের বড়দের এদিকে বিশেষ ভাবে নজর দিতে হবে যাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম উন্মুক্ত প্রান্তরে একটু নিশ্বাস নিতে পারে এবং মুক্ত বিহঙ্গের মতো উড়তে পারে ।