ঢাকা , সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
প্রিয়জনদের মানসিক রোগ যদি আপনজন বুঝতে না পারেন আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে পর্তুগাল আওয়ামীলীগ যেকোনো প্রচেষ্টা এককভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়: দুদক সচিব শ্রীমঙ্গলে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল সহ মিল্টন কুমার আটক পর্তুগালের অভিবাসন আইনে ব্যাপক পরিবর্তন পর্তুগাল বিএনপি আহবায়ক কমিটির জুমে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে…

“পরিবর্তনের দূত” সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কার

শেখ নিজামুর রহমান টিপু
  • আপডেটের সময় : ০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০
  • / ৮৬২ টাইম ভিউ

“পরিবর্তনের দূত” সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কার

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত,পেশাদার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা,দেশপ্রেম, মেধা, পরিশ্রম, দক্ষতা আর সততা দিয়ে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
বিনোদন, পরিবেশ, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ,মানবতা ও কল্যাণকামী সৌন্দর্যের জন্যই গোটা কুয়েতে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত হিসেবে জননন্দিত হয়েছেন মেজর জেনারেল(অব:) মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন ।
অনেকেই তার বিদায় উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলছেন। যারা সম্মুখে এসে বিদায় দিতে পারেন নি , তাদের সোস্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন আবেগপ্রবণ স্টেটাস জানান দিয়েছে উনি সবার হৃদয়ে স্হান করে নিয়েছেন ।

এখন প্রবাসী কমিউনিটির কাছে তার পরিচয় হলো :- পরিবর্তনের দূত,ঝানু ও দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাসে ।

আসা যাক মূল কথায়, যার কথা লিখতে গেলে পৃষ্টার পর পৃষ্টা লিখেও শেষ হবে না,যাকে কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপাদি দিয়েছেন
“পরিবর্তনের দূত”

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আসসালামু আলাইকুম, দেশদিগন্ত এর পক্ষ থেকে আপনাকে সুস্বাগতম।
কুয়েতে অবস্হানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা আপনাকে খুব বেশী মিস করছে, আপনি তাদের থেমনি মিস করেন কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: সর্বপ্রথম দেশদিগন্ত সম্পাদক ও পাঠক সহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
দির্ঘ সামরিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সরকার আমাকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দান করেন, এবং আমি আমার চাকুরী জীবনে নিষ্ঠা,সততা এবং দেশপ্রেমকে সম্বল করে নতুন দায়ীত্বে মনোযোগ দেই ।
দায়ীত্ব পালন করতে গিয়ে সর্ব প্রথমে সবচেয়ে বেশী যা আমাকে আন্দোলিত করেছে সেটা হলো’কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশী জনগোষ্ঠী ।
আমি নিজেকে তাদের একজন অভিবাবক ও সেবক হিসেবে দেখতে গিয়ে তাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাই ।সেই স্হৃতিগুলো এখনও আমার মনে জাগরুক হয়ে আছে । আমি কুয়েত প্রবাসী সকল ভাই-বোনদের মনে করি ও অন্তর থেকে তাদের ভালোবাসী ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত -আপনি তো ক্যাডেটের ছাত্র ছিলেন, তারপর সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন কবে ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল( অব:)আসহাব: হ্যা আমি দেশের প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়া-লেখা শেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ১৯৭৮ সনে প্রশিক্ষন শুরু করি এবং ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে দুই বৎসর মেয়াদী বাংলাদেশের প্রথম দির্ঘ মেয়াদী ফোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে সামরিক জীবন শুরু করি ।তারপর দির্ঘ ৩৬ বছর বিভিন্ন পদে চাকুরীরত সময়েই ২০১৩ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কুয়তে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আগমন করি ।
চাকুরী জীবনে আমি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়ীত্ব পালন করেছিলাম,এর মধ্যে সেনাসদর সামরিক সচিব,সেনাসদরে ডাইরেক্টর মেলিটারী ট্রেনিং, ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্রগ্রামের জিওসি ও সামরিক বাহিনী ষ্টাফ কলেজের কমান্ডেন্ট

* সম্পাদক দেশদিগন্ত :কুটনৈতিক ( রাষ্ট্রদূত) হিসেবে যুক্ত হবার গল্পটা শুনাবেন কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদানের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিলো না । এক পর্যায়ে সরকার সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্হ কয়েকজনকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত পদে পদায়ন করে । এটা একটা রুটিন ঘটনার মধ্যে পড়ে,এরই মাঝে আমি পড়ে গেলাম, সামরিক বাহিনী থেকে একসাথে ৪/৫ টা দেশের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ক্রমে থাকেন ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনি রাষ্ট্রদূত হয়ে আসার পর কুয়েতে অনেক পরিবর্তন হয়েছিলো, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা উম্মুক্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা দূতাবাসের উপর সন্তুষ্ট ছিলো , তা কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো যদি বলেন :

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল( অব:) আসহাব :রাষ্ট্রদূত হয়ে আসার পর আমি আমার কর্ম পরিকল্পনা (Work Strategy’s)
তৈরী করি।
প্রথমত আমি দেখলাম আমাদের প্রতিবেশী দেশ সহ অনেক দেশের মানুষ কর্মক্ষেত্র হিসাবে কুয়েতে আসছে,কিন্তু বাংলাদেশের জন্য work permit নাই। আমরা বাংলাদেশীরা কুয়েত পুর্নউদ্দার ও পুর্নগঠনে অনেক অবদান রেখেছি এবং এখনো রাখছিলাম । সেই সুবাদে আমি কুয়েতের সরকারী উচ্চ মহলে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম যে বাংলাদেশীদের পুনরায় আনা হউক। দির্ঘ ৭/৮ বছর পর পুনরায় কুয়েতে বাংলাদেশীদের জন্য দ্বার উম্মুক্ত হলো ।দ্বিতীয় তো আমার প্রধান কাজ ছিলো এই তিন লক্ষাধিক প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসকে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং তা করতে পেরেছিলাম ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : দির্ঘ্য সেনা ক্যারিয়ার জীবনে আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা কোন বিষয় আছে কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব:) আসহাব : মানুষ হিসাবে ভালো লাগা ও মন্দ লাগা দুটোই স্বাভাবিক ব্যাপার, মানুষ তো আমরা ভূল-ত্রুটি,ভালো-মন্দ নিয়েই জীবন। আমার জীবনেও ভালো ও মন্দের সময় ছিলো,তবে আমি কোনো দিন আমার কাজ কে ছোট করে দেখিনি ।
যেখানে যে কাজের দায়ীত্ব পেয়েছি তা নিষ্ঠা – সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে করার চেষ্ঠা করেছি। সার্বক্ষনিক পজেটিভ এটিচিউড ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতা ছিলো,যদিও মাঝে মধ্যে খুব রেগে যেতাম তবে তা ছিলো খুবই সাময়িক, থেমনি কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করিনি কখনও ।
আল্লাহ তাহালার কাছে শুকরিয়া তিনি আমাকে অর্পিত দায়ীত্ব পালনে প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং মানুষ কে ভালবাসার সামান্য গুনটুকু দিয়েছেন ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনি রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্হায় কুয়েতের সাথে বাংলাদেশে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিলো, আপনি যাওয়ার পর তা ভাটা পড়েছিলোসতা আর্ন্তজাতিক ও জাতীয় মিডিয়াতে দেখতে পেয়েছেন, সে সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করবেন কি ?
সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব : আমার রাষ্ট্রদূত থাকা কালীন সময়ে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে দুই ভাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক কে আরো উচ্চতায় নেওয়ার প্রচেষ্টা করেছি ।অনেকগুলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো আমার সময়ে ।দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার আমি ডিক্রী অর্জন করেছিলাম ।বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক তৈরী করেছিলাম । আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ছিলো দুই দেশের সম্পর্ক কে আরো এগিয়ে নেওয়া, এই সম্পর্কের সেতুবন্ধন রাষ্ট্রদূতই অগ্রনীলভূমিকা পালন করেন এবং এটাই তার উপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়ীত্ব । বর্তমানে কেন এবং কি জন্য এই সম্পর্কের ভাটা পড়েছে আমার জানা নেই ও বোধগম্য হচ্ছে না ।আমার ধারনা ছিলো আমি যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তেরী করেছিলাম পরবর্তিতে তা আরো বেগবান হবে । একটা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে রাষ্ট্র তথা দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আর্ন্তজাতিক মিডিয়া এবং জাতীয় মিডিয়াতে কুয়েতের দূতাবাস ও বাংলাদেশের একজন সাংসদ কে নিয়ে যেভাবে তোলপাড় হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রদূতের কোন ভূমিকা নেই কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: ইহা অত্যান্ত একটি দুংখজনক ও অনাকাংখিত ঘটনা । একজন সংসদ একজন আইন প্রণেতা দেশকে এগিয়ে নিতে স্হানীয়ভাবে এমনকি আর্ন্তজাতিকভাবে অনেক অবদান রাখার কথা।বর্তমানে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মিডিয়াতে দূতাবাস ও কারাগারে আটক সাংসদ সম্পর্কে অনেক লেখা-লেখি হচ্ছে যাহা কোনোভাবেই কাংখিত না। দেশ ও কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অত্যান্ত পিড়াদায়ক ও দুংখজনক । প্রবাসে মানসম্মান ভুলুন্ঠিত হলে,দেশের ভাবমূর্তি খুবই ব্যাহত হয় । দেশকে প্রবাসে নেতৃত্ব দেওয়া ও প্রবাসীদের দেখা করাই তো রাষ্ট্রদূতের দায়ীত্ব ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : কুয়েতস্হ বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতারা সহ সাধারন প্রবাসীরা সব সময় বলে আসছে, দূতাবাসের দালালী ও দূনীর্তি রাষ্ট্রদূতদের ইন্ধন ছাড়া সম্ভব নয়, আপনি কি মনে করেন ?
*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব:) আসহাব: একজন রাষ্ট্রদূত প্রবাসে দেশ,রাষ্ট্র ,সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন,তাকে হতে হবে সৎ – দক্ষ ও দেশপ্রেমিক ।দূতাবাসে যাতে কোন ধরনের অসংগতি ও দূনীর্তি না হয়,সেদিকে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন ।
রাষ্ট্রদূতের অদক্ষতার জন্য অধ:স্হন কর্মকর্তা /কর্মচারীদের সুযোগ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে ।

*সম্পাদক দেশদিগন্ত :আপনার অক্লান্ত পরিশ্রমে একমাত্র বাংলাদেশী স্কুলটি,আপনি যাওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেলো ! তা আপনি শুনেছেন অবশ্যই, আপনার দেওয়া নামেরও পরিবর্তন করছেন মৌখিকভাবে , সে সম্পর্কে কি বলবেন ।

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব :অনেক পরিশ্রম,অনেক চেষ্টা ও কষ্টের ফসল ছিলো,কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দির্ঘদিনের আকাংখা একটি বাংলাদেশী স্কুল প্রতিষ্টা । তা সম্ভব হয়েছিলো স্হানীয় কুয়েতী কতৃপক্ষ ও অনেক বিশিষ্ট বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীদের সহযোগিতায় ।স্কুলের জন্য একটি ভবিষৎ পরিকল্পনা দিয়ে এসেছিলাম,অত্যান্ত সুন্দরভাবে দক্ষ শিক্ষক মন্ডলী দিয়ে স্কুলটি চালুও ছিলো ।এই স্কুলটি বন্ধ হয়েছে শুনে আমিও প্রবাসীদের মতো খুবই দুংখ পেয়েছি এবং মর্মাহত হয়েছি।আশা করি সকলের সম্মেলিত প্রয়াসে আবারো স্কুলটি চালু হবে ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : কুটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করার জন্য রাষ্ট্রদূতের কি ধরনের ভূমিকা রাখা উচিত ?

***সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: দুই দেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্ক কে দৃঢ় করা এবং আরো বেগবান করাই রাষ্ট্রদূতের মূখ্য কাজ ।এখানে কুটনৈতিক মানে অর্থনৈতিক ,ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক সহ দুই দেশের সরকার এবং জনগণের একটি আর্ন্তরিক ও কার্যকরি সম্পর্ক তৈরী করা ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনি কুয়েতে এসে যেভাবে কুটনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছিলেন, আগত মেজর জেনারেল সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারবেন কি?

***সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব:) আসহাব: আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগত (আগষ্ট ২০২০)রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান তার মেধা- প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কে আরো উচ্চতায় নিতে সক্ষম হবেন। নতুন রাষ্ট্রদূত ও তার টিমের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভাশিষ থাকবে ।

*সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট করে সময়পোযোগী কথা বলার জন্য দেশদিগন্ত এর পক্ষ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব:আপনাকে ও দেশদিগন্ত পরিবার কে ধন্যবাদ ।সেই সাথে কুয়েতে অবস্হানরত সকল বাংলাদেশী ভাই-বোনদের জন্য রহিলো উষ্ণ মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা ।সকলের সুসাস্হ্য ও মঙ্গল কামনা করি ।

উল্লেখযোগ্য
কুয়েতে যখন প্রায় ৮/৯ বছর বাংলাদেশী শ্রমিক বাজার (ভিসা) বন্ধ ছিলো,সেই সময় কুয়েতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন, উনার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় উনার মেয়াদকালের প্রথম বছরেই বাংলাদেশী শ্রমবাজার খুলেছিলেন, যদিও শর্তারোপে ছিলো নামানা করে ভিসা বের করতে হতো ।
শুধু তাই নয় বাংলাদেশীদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঅঙ্গনে, বাংলাদেশী কৃষ্টি – কালচার কে তুলে ধরতে পিঠা উৎসব সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য তাগিদ দিতেন কুয়েতে অবস্হানরত প্রবাসীদের,উনার সময়ই এসব নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা ছিলো ।
এখনও প্রবাসী কমিউনিটির কাছে তার পরিচয় হলো :- পরিবর্তনের দূত,ঝানু ও দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে।

এখানে পুরানের সঙ্গে নতুনের, অতীতের সঙ্গে উনার স্থলাভিষিক্ত রাস্ট্রদূত এস এম আবুল কালামের কার্যক্রমের পার্থক্য দেখেছেন প্রায় তিন লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার বাংলাদেশী, উনাকে নিয়ে না হয় কিছু উল্লেখ নাই করলাম ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন কুয়েতের সংঙ্গে বাংলাদেশে লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়সহ সামষ্টিক সব কিছুই ছিলো উনার অন্তর্ভুক্ত, উনার সময়ই এসব পুর্নউত্তান ঘটেছিলো ।
তার সময়ই প্রতিষ্টা পেয়েছিলো মরুর বুকে বাংলাদেশী পতাকা বহনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মনিং গ্লোরী কিন্ডার গার্ডেন, কুয়েতের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে কৌটা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্হা করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন ।

পোস্ট শেয়ার করুন

“পরিবর্তনের দূত” সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কার

আপডেটের সময় : ০৭:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

“পরিবর্তনের দূত” সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাত্কার

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত,পেশাদার সাবেক সামরিক কর্মকর্তা,দেশপ্রেম, মেধা, পরিশ্রম, দক্ষতা আর সততা দিয়ে দেশকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়।
বিনোদন, পরিবেশ, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ,মানবতা ও কল্যাণকামী সৌন্দর্যের জন্যই গোটা কুয়েতে সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত হিসেবে জননন্দিত হয়েছেন মেজর জেনারেল(অব:) মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন ।
অনেকেই তার বিদায় উপলক্ষে ভাষণ দিতে গিয়ে নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেলছেন। যারা সম্মুখে এসে বিদায় দিতে পারেন নি , তাদের সোস্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন আবেগপ্রবণ স্টেটাস জানান দিয়েছে উনি সবার হৃদয়ে স্হান করে নিয়েছেন ।

এখন প্রবাসী কমিউনিটির কাছে তার পরিচয় হলো :- পরিবর্তনের দূত,ঝানু ও দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে।
মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দিয়েছেন ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাসে ।

আসা যাক মূল কথায়, যার কথা লিখতে গেলে পৃষ্টার পর পৃষ্টা লিখেও শেষ হবে না,যাকে কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপাদি দিয়েছেন
“পরিবর্তনের দূত”

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আসসালামু আলাইকুম, দেশদিগন্ত এর পক্ষ থেকে আপনাকে সুস্বাগতম।
কুয়েতে অবস্হানরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা আপনাকে খুব বেশী মিস করছে, আপনি তাদের থেমনি মিস করেন কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: সর্বপ্রথম দেশদিগন্ত সম্পাদক ও পাঠক সহ সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
দির্ঘ সামরিক জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সরকার আমাকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দান করেন, এবং আমি আমার চাকুরী জীবনে নিষ্ঠা,সততা এবং দেশপ্রেমকে সম্বল করে নতুন দায়ীত্বে মনোযোগ দেই ।
দায়ীত্ব পালন করতে গিয়ে সর্ব প্রথমে সবচেয়ে বেশী যা আমাকে আন্দোলিত করেছে সেটা হলো’কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশী জনগোষ্ঠী ।
আমি নিজেকে তাদের একজন অভিবাবক ও সেবক হিসেবে দেখতে গিয়ে তাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাই ।সেই স্হৃতিগুলো এখনও আমার মনে জাগরুক হয়ে আছে । আমি কুয়েত প্রবাসী সকল ভাই-বোনদের মনে করি ও অন্তর থেকে তাদের ভালোবাসী ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত -আপনি তো ক্যাডেটের ছাত্র ছিলেন, তারপর সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন কবে ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল( অব:)আসহাব: হ্যা আমি দেশের প্রখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজ থেকে পড়া-লেখা শেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে ১৯৭৮ সনে প্রশিক্ষন শুরু করি এবং ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে দুই বৎসর মেয়াদী বাংলাদেশের প্রথম দির্ঘ মেয়াদী ফোর্সের সাথে কমিশন প্রাপ্ত হয়ে সামরিক জীবন শুরু করি ।তারপর দির্ঘ ৩৬ বছর বিভিন্ন পদে চাকুরীরত সময়েই ২০১৩ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কুয়তে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আগমন করি ।
চাকুরী জীবনে আমি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়ীত্ব পালন করেছিলাম,এর মধ্যে সেনাসদর সামরিক সচিব,সেনাসদরে ডাইরেক্টর মেলিটারী ট্রেনিং, ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্রগ্রামের জিওসি ও সামরিক বাহিনী ষ্টাফ কলেজের কমান্ডেন্ট

* সম্পাদক দেশদিগন্ত :কুটনৈতিক ( রাষ্ট্রদূত) হিসেবে যুক্ত হবার গল্পটা শুনাবেন কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদানের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা ছিলো না । এক পর্যায়ে সরকার সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্হ কয়েকজনকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত পদে পদায়ন করে । এটা একটা রুটিন ঘটনার মধ্যে পড়ে,এরই মাঝে আমি পড়ে গেলাম, সামরিক বাহিনী থেকে একসাথে ৪/৫ টা দেশের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ক্রমে থাকেন ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনি রাষ্ট্রদূত হয়ে আসার পর কুয়েতে অনেক পরিবর্তন হয়েছিলো, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা উম্মুক্ত এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা দূতাবাসের উপর সন্তুষ্ট ছিলো , তা কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো যদি বলেন :

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল( অব:) আসহাব :রাষ্ট্রদূত হয়ে আসার পর আমি আমার কর্ম পরিকল্পনা (Work Strategy’s)
তৈরী করি।
প্রথমত আমি দেখলাম আমাদের প্রতিবেশী দেশ সহ অনেক দেশের মানুষ কর্মক্ষেত্র হিসাবে কুয়েতে আসছে,কিন্তু বাংলাদেশের জন্য work permit নাই। আমরা বাংলাদেশীরা কুয়েত পুর্নউদ্দার ও পুর্নগঠনে অনেক অবদান রেখেছি এবং এখনো রাখছিলাম । সেই সুবাদে আমি কুয়েতের সরকারী উচ্চ মহলে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম যে বাংলাদেশীদের পুনরায় আনা হউক। দির্ঘ ৭/৮ বছর পর পুনরায় কুয়েতে বাংলাদেশীদের জন্য দ্বার উম্মুক্ত হলো ।দ্বিতীয় তো আমার প্রধান কাজ ছিলো এই তিন লক্ষাধিক প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসকে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং তা করতে পেরেছিলাম ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : দির্ঘ্য সেনা ক্যারিয়ার জীবনে আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা কোন বিষয় আছে কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব:) আসহাব : মানুষ হিসাবে ভালো লাগা ও মন্দ লাগা দুটোই স্বাভাবিক ব্যাপার, মানুষ তো আমরা ভূল-ত্রুটি,ভালো-মন্দ নিয়েই জীবন। আমার জীবনেও ভালো ও মন্দের সময় ছিলো,তবে আমি কোনো দিন আমার কাজ কে ছোট করে দেখিনি ।
যেখানে যে কাজের দায়ীত্ব পেয়েছি তা নিষ্ঠা – সততা ও দেশপ্রেম দিয়ে করার চেষ্ঠা করেছি। সার্বক্ষনিক পজেটিভ এটিচিউড ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।মানুষকে সাহায্য করার মানসিকতা ছিলো,যদিও মাঝে মধ্যে খুব রেগে যেতাম তবে তা ছিলো খুবই সাময়িক, থেমনি কারো ক্ষতি করার চেষ্টা করিনি কখনও ।
আল্লাহ তাহালার কাছে শুকরিয়া তিনি আমাকে অর্পিত দায়ীত্ব পালনে প্রয়োজনীয় জ্ঞান এবং মানুষ কে ভালবাসার সামান্য গুনটুকু দিয়েছেন ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনি রাষ্ট্রদূত থাকা অবস্হায় কুয়েতের সাথে বাংলাদেশে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছিলো, আপনি যাওয়ার পর তা ভাটা পড়েছিলোসতা আর্ন্তজাতিক ও জাতীয় মিডিয়াতে দেখতে পেয়েছেন, সে সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করবেন কি ?
সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব : আমার রাষ্ট্রদূত থাকা কালীন সময়ে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে দুই ভাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে সম্পর্ক কে আরো উচ্চতায় নেওয়ার প্রচেষ্টা করেছি ।অনেকগুলো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো আমার সময়ে ।দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার আমি ডিক্রী অর্জন করেছিলাম ।বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক তৈরী করেছিলাম । আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ছিলো দুই দেশের সম্পর্ক কে আরো এগিয়ে নেওয়া, এই সম্পর্কের সেতুবন্ধন রাষ্ট্রদূতই অগ্রনীলভূমিকা পালন করেন এবং এটাই তার উপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়ীত্ব । বর্তমানে কেন এবং কি জন্য এই সম্পর্কের ভাটা পড়েছে আমার জানা নেই ও বোধগম্য হচ্ছে না ।আমার ধারনা ছিলো আমি যেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তেরী করেছিলাম পরবর্তিতে তা আরো বেগবান হবে । একটা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করতে রাষ্ট্র তথা দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আর্ন্তজাতিক মিডিয়া এবং জাতীয় মিডিয়াতে কুয়েতের দূতাবাস ও বাংলাদেশের একজন সাংসদ কে নিয়ে যেভাবে তোলপাড় হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রদূতের কোন ভূমিকা নেই কি ?

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: ইহা অত্যান্ত একটি দুংখজনক ও অনাকাংখিত ঘটনা । একজন সংসদ একজন আইন প্রণেতা দেশকে এগিয়ে নিতে স্হানীয়ভাবে এমনকি আর্ন্তজাতিকভাবে অনেক অবদান রাখার কথা।বর্তমানে জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক মিডিয়াতে দূতাবাস ও কারাগারে আটক সাংসদ সম্পর্কে অনেক লেখা-লেখি হচ্ছে যাহা কোনোভাবেই কাংখিত না। দেশ ও কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অত্যান্ত পিড়াদায়ক ও দুংখজনক । প্রবাসে মানসম্মান ভুলুন্ঠিত হলে,দেশের ভাবমূর্তি খুবই ব্যাহত হয় । দেশকে প্রবাসে নেতৃত্ব দেওয়া ও প্রবাসীদের দেখা করাই তো রাষ্ট্রদূতের দায়ীত্ব ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : কুয়েতস্হ বাংলাদেশ কমিউনিটি নেতারা সহ সাধারন প্রবাসীরা সব সময় বলে আসছে, দূতাবাসের দালালী ও দূনীর্তি রাষ্ট্রদূতদের ইন্ধন ছাড়া সম্ভব নয়, আপনি কি মনে করেন ?
*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব:) আসহাব: একজন রাষ্ট্রদূত প্রবাসে দেশ,রাষ্ট্র ,সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন,তাকে হতে হবে সৎ – দক্ষ ও দেশপ্রেমিক ।দূতাবাসে যাতে কোন ধরনের অসংগতি ও দূনীর্তি না হয়,সেদিকে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন ।
রাষ্ট্রদূতের অদক্ষতার জন্য অধ:স্হন কর্মকর্তা /কর্মচারীদের সুযোগ নেওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে ।

*সম্পাদক দেশদিগন্ত :আপনার অক্লান্ত পরিশ্রমে একমাত্র বাংলাদেশী স্কুলটি,আপনি যাওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গেলো ! তা আপনি শুনেছেন অবশ্যই, আপনার দেওয়া নামেরও পরিবর্তন করছেন মৌখিকভাবে , সে সম্পর্কে কি বলবেন ।

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব :অনেক পরিশ্রম,অনেক চেষ্টা ও কষ্টের ফসল ছিলো,কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশীদের দির্ঘদিনের আকাংখা একটি বাংলাদেশী স্কুল প্রতিষ্টা । তা সম্ভব হয়েছিলো স্হানীয় কুয়েতী কতৃপক্ষ ও অনেক বিশিষ্ট বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীদের সহযোগিতায় ।স্কুলের জন্য একটি ভবিষৎ পরিকল্পনা দিয়ে এসেছিলাম,অত্যান্ত সুন্দরভাবে দক্ষ শিক্ষক মন্ডলী দিয়ে স্কুলটি চালুও ছিলো ।এই স্কুলটি বন্ধ হয়েছে শুনে আমিও প্রবাসীদের মতো খুবই দুংখ পেয়েছি এবং মর্মাহত হয়েছি।আশা করি সকলের সম্মেলিত প্রয়াসে আবারো স্কুলটি চালু হবে ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : কুটনৈতিক সম্পর্ক জোরালো করার জন্য রাষ্ট্রদূতের কি ধরনের ভূমিকা রাখা উচিত ?

***সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব: দুই দেশের মধ্যে কুটনৈতিক সম্পর্ক কে দৃঢ় করা এবং আরো বেগবান করাই রাষ্ট্রদূতের মূখ্য কাজ ।এখানে কুটনৈতিক মানে অর্থনৈতিক ,ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক সহ দুই দেশের সরকার এবং জনগণের একটি আর্ন্তরিক ও কার্যকরি সম্পর্ক তৈরী করা ।

* সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনি কুয়েতে এসে যেভাবে কুটনৈতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করেছিলেন, আগত মেজর জেনারেল সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারবেন কি?

***সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব:) আসহাব: আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আগত (আগষ্ট ২০২০)রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান তার মেধা- প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কে আরো উচ্চতায় নিতে সক্ষম হবেন। নতুন রাষ্ট্রদূত ও তার টিমের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভাশিষ থাকবে ।

*সম্পাদক দেশদিগন্ত : আপনার মুল্যবান সময় নষ্ট করে সময়পোযোগী কথা বলার জন্য দেশদিগন্ত এর পক্ষ থেকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

*** সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব:আপনাকে ও দেশদিগন্ত পরিবার কে ধন্যবাদ ।সেই সাথে কুয়েতে অবস্হানরত সকল বাংলাদেশী ভাই-বোনদের জন্য রহিলো উষ্ণ মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা ।সকলের সুসাস্হ্য ও মঙ্গল কামনা করি ।

উল্লেখযোগ্য
কুয়েতে যখন প্রায় ৮/৯ বছর বাংলাদেশী শ্রমিক বাজার (ভিসা) বন্ধ ছিলো,সেই সময় কুয়েতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আসহাব উদ্দিন, উনার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় উনার মেয়াদকালের প্রথম বছরেই বাংলাদেশী শ্রমবাজার খুলেছিলেন, যদিও শর্তারোপে ছিলো নামানা করে ভিসা বের করতে হতো ।
শুধু তাই নয় বাংলাদেশীদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঅঙ্গনে, বাংলাদেশী কৃষ্টি – কালচার কে তুলে ধরতে পিঠা উৎসব সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য তাগিদ দিতেন কুয়েতে অবস্হানরত প্রবাসীদের,উনার সময়ই এসব নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা ছিলো ।
এখনও প্রবাসী কমিউনিটির কাছে তার পরিচয় হলো :- পরিবর্তনের দূত,ঝানু ও দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে।

এখানে পুরানের সঙ্গে নতুনের, অতীতের সঙ্গে উনার স্থলাভিষিক্ত রাস্ট্রদূত এস এম আবুল কালামের কার্যক্রমের পার্থক্য দেখেছেন প্রায় তিন লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার বাংলাদেশী, উনাকে নিয়ে না হয় কিছু উল্লেখ নাই করলাম ।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আসহাব উদ্দিন কুয়েতের সংঙ্গে বাংলাদেশে লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়সহ সামষ্টিক সব কিছুই ছিলো উনার অন্তর্ভুক্ত, উনার সময়ই এসব পুর্নউত্তান ঘটেছিলো ।
তার সময়ই প্রতিষ্টা পেয়েছিলো মরুর বুকে বাংলাদেশী পতাকা বহনকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মনিং গ্লোরী কিন্ডার গার্ডেন, কুয়েতের বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে কৌটা ভিত্তিক শিক্ষা ব্যাবস্হা করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন ।