ঢাকা , রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারী সদস্যের কান ছিঁড়ে ফেললেন ইউপি চেয়ারম্যান

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ
  • আপডেটের সময় : ১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০১৯
  • / ৮৪৯ টাইম ভিউ

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ সিরাজগঞ্জে ভিজিডি কার্ডের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যকে মারপিট করে তার কান ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে।

আহত নারী ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুন নাগরপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার দুপুরে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনের চত্বরে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মণ্ডলের সঙ্গে নারী সদস্য আলেয়া খাতুনের ভিজিডি কার্ডের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

এর একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে নারী সদস্যকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায় এবং কানের লতি ছিঁড়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন নারী সদস্য আলেয়া খাতুন যুগান্তরকে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানের নজরে পড়ে। তার নির্বাচনী এলাকার ভিজিডি কার্ডের ভাগ চাইলে চেয়ারম্যান তাকে মারপিট করে বাম হাত ভেঙে এবং কান ছিঁড়ে দিয়েছেন। এ সময় আরেক ইউপি সদস্য আরফান আলী চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন নারী সদস্য।

তিনি আরও জানান, ভিজিডি কার্ডের ব্যাপারে বুধবার ইউএনও অফিসে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আহত নারী সদস্যের ছেলে মিলন পাশা জানান, আমার মাকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মণ্ডল ও তার সহযোগী ইউপি সদস্য আরফান আলীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মণ্ডল জানান, আমি একজন হাজি মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। এসবের প্রশ্নই আসে না। ভিডিজি কার্ডের কথা বলে ওই নারী সদস্যই জনসম্মুখে আমাকে কিলঘুষি দিয়ে জামার কলার ছিঁড়ে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে চৌহালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই দুপক্ষ দুদিকে চলে গেছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. আবু তাহির জানান, ভিজিডি কার্ডের ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোস্ট শেয়ার করুন

নারী সদস্যের কান ছিঁড়ে ফেললেন ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেটের সময় : ১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০১৯

দেশদিগন্ত নিউজ ডেস্কঃ সিরাজগঞ্জে ভিজিডি কার্ডের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এক নারী ইউপি সদস্যকে মারপিট করে তার কান ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে চৌহালী উপজেলার উমারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে।

আহত নারী ইউপি সদস্য আলেয়া খাতুন নাগরপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার দুপুরে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনের চত্বরে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মণ্ডলের সঙ্গে নারী সদস্য আলেয়া খাতুনের ভিজিডি কার্ডের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়।

এর একপর্যায়ে চেয়ারম্যান ক্ষুব্ধ হয়ে নারী সদস্যকে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায় এবং কানের লতি ছিঁড়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে টাঙ্গাইলের নাগরপুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চিকিৎসাধীন নারী সদস্য আলেয়া খাতুন যুগান্তরকে জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার প্রতি ইউপি চেয়ারম্যানের নজরে পড়ে। তার নির্বাচনী এলাকার ভিজিডি কার্ডের ভাগ চাইলে চেয়ারম্যান তাকে মারপিট করে বাম হাত ভেঙে এবং কান ছিঁড়ে দিয়েছেন। এ সময় আরেক ইউপি সদস্য আরফান আলী চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন নারী সদস্য।

তিনি আরও জানান, ভিজিডি কার্ডের ব্যাপারে বুধবার ইউএনও অফিসে একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আহত নারী সদস্যের ছেলে মিলন পাশা জানান, আমার মাকে মারপিট ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মণ্ডল ও তার সহযোগী ইউপি সদস্য আরফান আলীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মণ্ডল জানান, আমি একজন হাজি মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। এসবের প্রশ্নই আসে না। ভিডিজি কার্ডের কথা বলে ওই নারী সদস্যই জনসম্মুখে আমাকে কিলঘুষি দিয়ে জামার কলার ছিঁড়ে ফেলেছেন।

এ বিষয়ে চৌহালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই দুপক্ষ দুদিকে চলে গেছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. আবু তাহির জানান, ভিজিডি কার্ডের ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।