ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
এমপি আনোয়ারুল আজিমকে হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন , এতে বাংলাদেশী মানুষ জড়িত:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকাস্থ ইরান দুতাবাসে রাইসির শোক বইয়ে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষর মুটো ফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে… এই অভ্যাসগুলোর চর্চা নিয়মিত করা উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য থাকা জরুরি কেনো ? পুনাক এর উদ্যোগে দুস্হ ও অসহায় নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরন করা হয়েছে কুলাউড়ার টিলাগাঁও এ সরকারি গাছ বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক লটারি বাইক জিতলো মা’ সে কারণে কপাল পুড়লো মেয়ের ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় কুকুর দলের আক্রমনে প্রান গেলো ইজাজুলের সাবেক সাংসদ সেলিমা আহমাদ মেরীর সাথে পর্তুগাল আওয়ামিলীগের মতবিনিময় সভা

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিল কিশোরী

দেশ দিগন্ত ডেক্স:
  • আপডেটের সময় : ০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০
  • / ৪০২ টাইম ভিউ

লঞ্চ স্টাফদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দিলেন ভোলার তজুমদ্দিনের এক কিশোরী। প্রায় ৩ ঘণ্টা নদীতে ভাসার পর জেলেদের সহায়তায় ফিরে পান নতুন জীবন।

১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী কাজের সন্ধানে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের যাত্রী হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে শনিবার (০৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তজমুদ্দিনের ভুঁইয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে লঞ্চ-স্টাফরা তাকে উদ্ধার না করেই গন্তব্য ঢাকায় চলে যায়।

বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। মেঘনার মধ্যবর্তী তেলিয়ার চরের কবির হোসেনের মেয়ে ওই কিশোরী। হাসপাতালে ভর্তি কিশোরী জানান, কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন ঘাট থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে উঠেন।

লঞ্চে উঠার পর থেকেই কয়েকজন স্টাফ তাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয় এবং উত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে ঢোকানের জন্য টানা-হেঁচড়া শুরু করলে নিরুপায় হয়ে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির স্রোত বেশি থাকায় বয়া ধরতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায় লঞ্চটি।

নদীতে ঝাঁপ দেয়ার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর জেলেদের ট্রলার এসে তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে। উদ্ধার করা নৌকার জেলে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন। এমন সময় নদীর মাঝে মেয়েটির ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

পরে তাকে মিজান তালুকদারসহ স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করে। তজুমদ্দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার জানান, জেলেরা উদ্ধারের পর বিষয়টি তাকে জানায়। পরে তিনি ইউএনও এবং ওসির সাথে কথা বলে হাসপাতাল ভর্তি করান। তার সামনেও লঞ্চ স্টাফদের টানা হেঁচড়ার কথা মেয়েটি বলেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল জানান, কিশোরী নদীতে ঝাঁপ দেয়ার সময় ডান হাতে আঘাত পেয়েছে। জেলেরা নদী থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত আছে।

তজুমদ্দিন থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, চিকিৎসা শেষে কিশোরীর বক্তব্য নেয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া অভিভাকদের খুঁজে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, কিশোরীকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতালকে বলা হয়েছে।#

পোস্ট শেয়ার করুন

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিল কিশোরী

আপডেটের সময় : ০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২০

লঞ্চ স্টাফদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দিলেন ভোলার তজুমদ্দিনের এক কিশোরী। প্রায় ৩ ঘণ্টা নদীতে ভাসার পর জেলেদের সহায়তায় ফিরে পান নতুন জীবন।

১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী কাজের সন্ধানে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের যাত্রী হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে শনিবার (০৪ জুলাই) সন্ধ্যায় তজমুদ্দিনের ভুঁইয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে লঞ্চ-স্টাফরা তাকে উদ্ধার না করেই গন্তব্য ঢাকায় চলে যায়।

বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। মেঘনার মধ্যবর্তী তেলিয়ার চরের কবির হোসেনের মেয়ে ওই কিশোরী। হাসপাতালে ভর্তি কিশোরী জানান, কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন ঘাট থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে উঠেন।

লঞ্চে উঠার পর থেকেই কয়েকজন স্টাফ তাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয় এবং উত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে ঢোকানের জন্য টানা-হেঁচড়া শুরু করলে নিরুপায় হয়ে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির স্রোত বেশি থাকায় বয়া ধরতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায় লঞ্চটি।

নদীতে ঝাঁপ দেয়ার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর জেলেদের ট্রলার এসে তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে। উদ্ধার করা নৌকার জেলে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন। এমন সময় নদীর মাঝে মেয়েটির ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

পরে তাকে মিজান তালুকদারসহ স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করে। তজুমদ্দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার জানান, জেলেরা উদ্ধারের পর বিষয়টি তাকে জানায়। পরে তিনি ইউএনও এবং ওসির সাথে কথা বলে হাসপাতাল ভর্তি করান। তার সামনেও লঞ্চ স্টাফদের টানা হেঁচড়ার কথা মেয়েটি বলেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল জানান, কিশোরী নদীতে ঝাঁপ দেয়ার সময় ডান হাতে আঘাত পেয়েছে। জেলেরা নদী থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত আছে।

তজুমদ্দিন থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, চিকিৎসা শেষে কিশোরীর বক্তব্য নেয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া অভিভাকদের খুঁজে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, কিশোরীকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতালকে বলা হয়েছে।#