আপডেট

x


দৌড় হলো না শেষ

সোমবার, ১৪ আগস্ট ২০১৭ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ | 454 বার

দৌড় হলো না শেষ

শুরু আর শেষের গল্পের কী মিল। ২০০৪ অ্যাথেন্স অলিম্পিকে সিনিয়র ক্যারিয়ারের পথচলা শুরু হয়েছিল উসাইন বোল্টের। ১৩ বছর আগে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে দৌড় শেষ করেছিলেন তিনি। ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের হিটে পাঁচ নম্বর হওয়া বোল্ট দৌড় শেষ করেছিলেন ২১.০৫ সেকেন্ডে। শুরুর সেই ব্যর্থতার সঙ্গে জীবনের শেষ দৌড়েও যে ইনজুরির হানা। লন্ডনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে শনিবার রাতে ৪ গুণিতক ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দৌড়ই শেষ করতে পারেননি বজ্রবোল্ট। তার আগেই ট্র্যাকে শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছিলেন। গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সে যে কষ্ট নিয়ে শুরু, ইংল্যান্ডের লন্ডনে সেই কষ্টেই শেষ এ কিংবদন্তির।

রূপকথায় শুরু, বিষাদে শেষ। মহাতারকাদের বিদায় তাহলে এমনই হয়! ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে যে এমনই চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলী রিংয়ে শেষ পাঁচটি ম্যাচ জিততে পারেননি। ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যান জীবনের শেষ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। যে কারণে টেস্টে এ অস্ট্রেলিয়ানের ব্যাটিং গড় ১০০ হয়নি। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে জীবনের শেষ দৌড়ই শেষ করতে পারেননি উসাইন বোল্ট। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ব্রোঞ্জ জিতেছেন। বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ১১টি স্বর্ণ জেতা জ্যামাইকান গতিমানব লন্ডনে এবার দু’বারই ফিরেছেন শূন্য হাতে। শেষবার ইনজুরিতে পড়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ট্র্যাক ত্যাগ করা বোল্টের এমন দৃশ্যে হতবাক গোটা দুনিয়া। এটাও কি সম্ভব? ‘লাইটিং বোল্ট’ যে আলোহীন। বিদ্যুৎ চমকায়নি।



শেষের এমন বিষাদের গল্প। বজ্রবোল্টের যে কিংবদন্তি পরিচয়, এই পরাজয়ে তাতে কি কোনো কমতি হবে? অবশ্যই না। অলিম্পিকে আট এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ১১টি সোনা জেতা বোল্টের কীর্তি থাকবে চিরদিন। নতুন করে যখন লেখা হবে ইতিহাস, তখন দেখা যাবে জ্যামাইকান এ গতিমানবের নাম মোহাম্মদ আলীর পাশে। ট্র্যাকে ১০০ মিটার এবং ৪ গুণিতক ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বোল্টের নামের পাশে নেই কোনো পদক। কিন্তু গোটা দুনিয়া শেষের এই ট্র্যাজিক ভুলে গিয়ে শুধুই মনে রাখবে কত বছর ধরে অজেয় ছিলেন ২১ আগস্ট ৩১ বছরে পা দিতে যাওয়া বোল্ট।

নিজের প্রিয় ব্যক্তিগত ইভেন্ট ১০০ মিটার স্প্রিন্টে রাজত্ব হারিয়েছিলেন জাস্টিন গ্যাটলিনের হাতে। তাই দলগত ইভেন্টে শনিবার রাতে ক্যারিয়ারের শেষ দৌড় দিতে যখন বোল্ট নামেন, অলিম্পিক স্টেডিয়ামে প্রায় ৬০ হাজার দর্শক এ গতিমানবের নাম ধরে গলা ফাটাচ্ছেন। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে একের পর এক বিশ্বরেকর্ড গড়া মহাতারকার রূপকথার সমাপ্তি দেখার অপেক্ষায় ছিল পুরো দুনিয়া। কিন্তু গ্রহের দ্রুততম মানব বোল্টের ক্যারিয়ারের শেষ অঙ্কে এ যেন দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি। শেষ ল্যাপে ফিনিশিং লাইন থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরত্ব। সতীর্থ ইয়োহান ব্লেকের কাছ থেকে ব্যাটল নেন বোল্ট। ওই সময় জ্যামাইকা ছিল তিন নম্বরে। দৌড়ের শেষ দিকে বিদ্যুৎ চমকানোর অপেক্ষা। সামনের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলতে দৌড়ের গতি বাড়াতেই বিপত্তি। পা ধরে লুটিয়ে পড়লেন ট্র্যাকে। ফিনিশিং লাইনও শেষ করতে পারেননি। সতীর্থরা ছুটে আসেন তার কাছে। শুয়ে কাতরাচ্ছেন গতির রাজা। স্তব্ধ অলিম্পিক স্টেডিয়াম। সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদের এমন করুণ বিদায়! জ্যামাইকার রাজ্যে হানা দিয়ে ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে প্রথম সোনার হাসি হেসেছে গ্রেট ব্রিটেন।

শেষ বিষাদের। কিন্তু শুরুটা তো ছিল মহাকাব্যের। ভাইয়ের সঙ্গে ক্রিকেট-ফুটবল নিয়ে মেতে থাকা বোল্টের চোখে কখনোই স্প্রিন্টের রাজা হওয়ার স্বপ্ন ছিল না। কিন্তু স্কুলে গতির ঝলক দেখিয়ে সবার হৃদয় জয় করেছেন। আস্তে আস্তে দৌড়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে একক রাজত্ব স্থাপিত করেন। ১০০, ২০০ এবং ৪ গুনিতক ১০০ মিটার রিলেতে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১১ সালে দেগুতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বোল্ট। ওই একটি হতাশার অধ্যায় ছাড়া ২০০৯ থেকে এই আসরের আগ পর্যন্ত তিন ইভেন্টেই সোনা জিতেছিলেন জ্যামাইকান এ গতিমানব।

কিন্তু লন্ডনে দুই ইভেন্টেই হতাশার বিদায় বোল্টের। অথচ এই স্টেডিয়ামেই ২০১২ অলিম্পিকে দলগত ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলেতে ৩৬.৮৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল বোল্টের নেতৃত্ব জ্যামাইকা। কিংবদন্তি এ অ্যাথলেটের করুণ সমাপ্তির মতো ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে আধিপত্য হারালো জ্যামাইকাও।

অ্যাথলেটিকসে হারাল এক গ্গ্নামারও। বিদায় বোল্ট। বিদায় কিংবদন্তি।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments


যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে রাখার দাবীতে সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে জাকির হোসেন উজ্জ্বলের ছবি ভাইরাল

deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : TAP.Com