আপডেট

x

দেশের শিল্প বাণিজ্যের অগ্রযাত্রায় এক ধাবমান দ্যুতি কুলাউড়ার আজম জে. চৌধুরী

রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ | ১০:০৭ অপরাহ্ণ | 132 বার

দেশের শিল্প বাণিজ্যের অগ্রযাত্রায় এক ধাবমান দ্যুতি কুলাউড়ার আজম জে. চৌধুরী
পুরষ্কার গ্রহণ করছেন শিল্প জগতের জাদুকর আজম জে. চৌধুরী

চৌধুরী আবু সাঈদ ফুয়াদ: কামারের হাপর থেকে বের হওয়া অগ্নি স্ফুলিঙ্গের মতো তার শিল্পীত কাজগুলো ছড়িয়ে পড়ছে দেশ ছেড়ে পৃথিবীর পথে। ম্যানলি, উয়িটি আর শিল্প বাণিজ্যের এক যাদুকর আজম জে. চৌধুরী। সদা কাজে নিমগ্ন পরিপাটি সুটেড-বুটেড বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা আর মাথায় ছড়িয়ে থাকা ওয়েভি দুধ রং চুল তাঁর ব্যাক্তিত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেক গুণ। তিনি কুলাউড়ার কাদিপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের সন্তান।

সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক কোম্পানি ডিএইচএল এক্সপ্রেস ও দ্য ডেইলি স্টারের যৌথ আয়োজনে ১৮তম বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ অনুষ্ঠানে দেশের সেরা ব্যবসায়িক ব্যাক্তিত্ব নির্বাচিত হয়ে সম্মাননা পেয়েছেন শিল্পপতি ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা আজম জে. চৌধুরী। একটি হোটেলে বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাওয়ার্ডের জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

জীবনের জলছবি:

আজম জে. চৌধুরীর বাবা বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম মহতছিন আলী চৌধুরী ও মা মহিয়সী বখতুন নেছা চৌধুরী। আজম জে. চৌধুরী উছাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা অর্জন করে কুলাউড়া নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক ও সিলেট এম সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে ইন্টামিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৭৭ সালে ইংরেজীতে বি এ অনার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি দেশের মেইনষ্ট্রিম একটি ইংরেজী দৈনিক কাজ করেছেন। সে সময় ইউনিভাসিটি ক্যাম্পাসে সাংবাদিক হিসাবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন।

আজম জে. চৌধুরী দেশের একজন পরিচ্ছন্ন খ্যাতিমান উদ্যোক্তা। তিনি ইস্টকোস্ট গ্রুপের মালিক ও চেয়ারম্যান। এ ছাড়া তিনি লি কনসোলিটেড টি আ্যন্ড ল্যান্ড কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং নেত্বস্থানীয় বেসরকারী ব্যাণিজ্যিক ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান। তিনি এম জে এস বাংলাদেশ লিমিটেড এর ম্যানিজিং ডিরেক্টর। তিনি সেন্ট্রাল ডিপোজিটরী বাংলাদেশ লিঃ এর পরিচালক এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েট অব সালিসিটি লিঃ এর নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। আজম জে চৌধুরী দেশের অন্যতম বৃহৎ এলপিজি অপারেটর ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের পরিচালক। তিনি ওমেরা সিলিন্ডার লিঃ ও ওমেরা লিমিটেডের পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ এনার্জি কোম্পানিস এসোসিয়েট এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটর এসোসিয়েট এর সহ সভাপতি। আজম জে চৌধুরী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। বাংলাদেশ সমূদ্রগ্রামী জাহাজ মালিক সমিতির সভাপতি। তাঁর অসাধারণ বিভিন্ন কার্য্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে হাঙ্গেরীও সরকার তাকে অনারারী কনস্যুলার হিসেবে মনোয়ন দান করেছেন।
একদিকে যেমন তিনি সফল শিল্পপতি, দানশীল,সমাজ সেবক অন্যদিকে রাত-দিন ব্যাস্ততার মাঝে ও নিজেকে সফল খোলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি পরিচিতি পেয়েছেন নামকরা গলফ্ খেলোয়াড় হিসেবে এবং কয়েকবারই দেশে বিদেশে পদকও লাভ করেছেন।

পারিবারিক জীবনে তাঁর স্ত্রী খ্যাতিমান নারী উদ্যোক্তা ইস্ট কোস্ট গ্রুপের ভাইস চেয়ারপার্সন ও বিশিষ্ট সমাজসেবী মেরিনা ইয়াসমিন চৌধুরী। তাদের দুই পুত্র এবং দুই কন্যা সন্তান রয়েছেন। ১ম পুত্র তানজীল চৌধুরী। তিনি ইস্ট কোস্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত পরিচালক। ২য় পুত্র তানভীর চৌধুরী ইস্ট কোস্ট গ্রুপের অন্যতম পরিচালক ও ওমেরা লুব্রিকেন্টের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১ম কন্যা দিলরুবা চৌধুরী বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে অন্যতম পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২য় কন্যা তানহা চৌধুরী সিঙ্গাপুরের একটি নামকরা স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশুনা করছেন। তিনি ছবি আঁকা, কবিতা এবং গল্প লেখায় বেশ পারদর্শী।

শত ব্যস্ততার মাঝেও আজম জে. চৌধুরী তাঁর জন্মভূমি কুলাউড়ার জন্য নিরলশ কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের কল্যাণের পাশাপাশি নিজের জন্মভূমি কুলাউড়ার শিক্ষা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাখছেন অসামান্য অবদান। উপজেলার কাদিপুরে পিতার নামে স্থাপিত মহতোছিন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে বেগবান করতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অনেক পরিবর্তন সাধিত করেছেন। সম্প্রতি বিদ্যাপিঠের উন্নয়নের জন্য অর্থ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠান ইস্ট কোস্ট গ্রæপ ও প্রাইম ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় কুলাউড়ার অনেক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য কুলাউড়ায় একমাত্র আধুনিক বখতুন্নেছা চৌধুরী ডায়াবেটিস হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তিনি কুলাউড়া শহরের নিরাপত্তা বিধানে ও চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি রোধে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে সি সি ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন। যার সুফল কুলাউড়ার সর্বস্তরের মানুষ ভোগ করছেন। কুলাউড়ায় নিয়মিত ফ্রি-স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত কুলাউড়া থানায় একটি পুলিশ টহল ভ্যান প্রদান করেছেন। এছাড়াও তিনি কুলাউড়ায় একটি সর্বাধুনিক আই হসপিটাল ও টেকনিক্যাল স্কুল নির্মাণ করার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন।#

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

১৬টি বছর খুব সুন্দর ছিলো’ চিরকুটে আত্মহননকারী কলেজ ছাত্রী

deshdiganto.com © 2019 কপিরাইট এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত

design and development by : TAP.Com