ঢাকা , রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়ার ৬০ কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০
  • / ৪২১ টাইম ভিউ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
করোনা মহামারি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। ইউনিসেফ একটি প্রতিবেদনে বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৬০ কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের ইউনিসেফ সংস্থাটি এই অঞ্চলের লাখ লাখ শিশু ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিজ নিজ দেশের সরকারকে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ মহামারিতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে আগামী কয়েক দশক ধরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে শিশুদের অগ্রগতির জন্য বিরামহীন কাজ করে যেতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যতা থেকে ফিরেয়ে আনতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ে টিকাদান, পুষ্টি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যারফলে পরবর্তী ছয় মাস প্রায় চার লাখ ৫৯ হাজার শিশু ও মায়ের জীবনের হুমকি রয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় করা ইউনিসেফের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ পরিবারে খাদ্য ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু দরিদ্র পরিবার প্রতিদিন তিনবেলার খাবার জোগানে ব্যর্থ হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় ৪৩ কোটির বেশি শিশুকে অনলাইন শিক্ষার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যা অনেক পরিবারের শিশুর বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রতন্ত্য অঞ্চলে বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছে, ওই সকল শিশুর সাথে যুক্ত হতে পারে আরো তিন কোটি ২০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশু। যারা করোনা আঘাত হানার পূর্ব থেকে বিদ্যালয় যাওয়ার সুবিধা পায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের শিশুদের উপর করোনার প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষনীয়।
পাকিস্তানে, করোনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত পোলিও নির্মূল টিকা প্রদান স্থগিত রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানই একমাত্র দুটি দেশ যেখানে পোলিও এখনো আঞ্চলিক রোগ। দক্ষিণ এশিয়ার ইউনিসেফের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পল রত্তনার বলেছেন, ভাইরাস থেকে শিশুদের ঝুঁকি কমাতে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখতে হবে। কোভিড -১৯’এ সময়কালে পরিবারগুলোতে প্রসবব্যবস্থা, শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রায় পাচ কোটি ৬০ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে মূল ভারতে রয়েছে ৪ কোটি শিশু। কম ওজন ও উচ্চতার দিক থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা দুই কোটি এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভারতীয় মহিলারা রক্তাল্পতাজনিত সমস্যায় ভুগছে। জীবন রক্ষাকারী টিকাদান কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় পরবর্তী ছয় মাসে প্রায় তিন লাখ শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ড: ইয়াসমিন আলী হক বলছেন, প্রতিটি শিশুর জন্য আরো উন্নত বিশ্বের পুণনির্মাণে সরকার ও সকলকে একত্রিত হয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে করা একটি জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৬৪ শতাংশ রোহিঙ্গা শিশু করোনায় সংক্রামিত হওয়ার ঝুকিতে রয়েছে। সুরক্ষা ও শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ৪৮ শতাংশ শিশু ইতোমধ্যে অসুস্থ। তিনি আরো বলেন, ৩৯ শতাংশ রোহিঙ্গা শিশু মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বর্তমানে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারে প্রায় পাচ লাখ রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে ।

পোস্ট শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশিয়ার ৬০ কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে

আপডেটের সময় : ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
করোনা মহামারি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। ইউনিসেফ একটি প্রতিবেদনে বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৬০ কোটি শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের ইউনিসেফ সংস্থাটি এই অঞ্চলের লাখ লাখ শিশু ও তাদের পরিবারের সুরক্ষার জন্য নিজ নিজ দেশের সরকারকে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ মহামারিতে পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে আগামী কয়েক দশক ধরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে শিশুদের অগ্রগতির জন্য বিরামহীন কাজ করে যেতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দারিদ্র্যতা থেকে ফিরেয়ে আনতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ে টিকাদান, পুষ্টি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যারফলে পরবর্তী ছয় মাস প্রায় চার লাখ ৫৯ হাজার শিশু ও মায়ের জীবনের হুমকি রয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় করা ইউনিসেফের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ পরিবারে খাদ্য ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু দরিদ্র পরিবার প্রতিদিন তিনবেলার খাবার জোগানে ব্যর্থ হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় ৪৩ কোটির বেশি শিশুকে অনলাইন শিক্ষার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যা অনেক পরিবারের শিশুর বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রতন্ত্য অঞ্চলে বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছে, ওই সকল শিশুর সাথে যুক্ত হতে পারে আরো তিন কোটি ২০ লাখ সুবিধাবঞ্চিত শিশু। যারা করোনা আঘাত হানার পূর্ব থেকে বিদ্যালয় যাওয়ার সুবিধা পায়নি। দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশের শিশুদের উপর করোনার প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষনীয়।
পাকিস্তানে, করোনায় লকডাউন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত পোলিও নির্মূল টিকা প্রদান স্থগিত রয়েছে। জাতিসঙ্ঘের মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানই একমাত্র দুটি দেশ যেখানে পোলিও এখনো আঞ্চলিক রোগ। দক্ষিণ এশিয়ার ইউনিসেফের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পল রত্তনার বলেছেন, ভাইরাস থেকে শিশুদের ঝুঁকি কমাতে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখতে হবে। কোভিড -১৯’এ সময়কালে পরিবারগুলোতে প্রসবব্যবস্থা, শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রায় পাচ কোটি ৬০ লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। এর মধ্যে মূল ভারতে রয়েছে ৪ কোটি শিশু। কম ওজন ও উচ্চতার দিক থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা দুই কোটি এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ভারতীয় মহিলারা রক্তাল্পতাজনিত সমস্যায় ভুগছে। জীবন রক্ষাকারী টিকাদান কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় পরবর্তী ছয় মাসে প্রায় তিন লাখ শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি ড: ইয়াসমিন আলী হক বলছেন, প্রতিটি শিশুর জন্য আরো উন্নত বিশ্বের পুণনির্মাণে সরকার ও সকলকে একত্রিত হয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে করা একটি জরিপে দেখা গেছে প্রায় ৬৪ শতাংশ রোহিঙ্গা শিশু করোনায় সংক্রামিত হওয়ার ঝুকিতে রয়েছে। সুরক্ষা ও শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ৪৮ শতাংশ শিশু ইতোমধ্যে অসুস্থ। তিনি আরো বলেন, ৩৯ শতাংশ রোহিঙ্গা শিশু মৃত্যুর প্রহর গুনছে। বর্তমানে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারে প্রায় পাচ লাখ রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে ।