ঢাকা , রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপডেট :
পর্তুগাল এ ফ্রেন্ডশিপ ক্রিকেট ক্লাবের জার্সি উন্মোচন লিসবনে আত্মপ্রকাশ হয় সামাজিক সংগঠন “গোলাপগঞ্জ কমিউনিটি কেয়ারর্স পর্তুগাল “ উচ্ছ্বাস আর আনন্দে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের উদযাপন করেছে পর্তুগাল যথাযথ গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পরিবেশে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর পালন করেছে ভেনিস প্রবাসীরা ভেনিসে বৃহত্তর সিলেট সমিতির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত এক অসুস্থ প্রজন্ম কে সাথি করে এগুচ্ছি আমরা রিডানডেন্ট ক্লোথিং আর মজুর মামার ‘বিশ্বকাপ’ ইউরোপের সবচেয়ে বড় ঈদুল ফিতরের নামাজ পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পর্তুগাল বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন ঈদের কাপড় কিনার জন্য মা’য়ের উপর অভিমান করে মেয়ের আত্মহত্যা

তুলসীপুরে প্রায় পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্যবাড়ী ঘোড়ার হাট

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেটের সময় : ০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মে ২০২২
  • / ৩৬৮ টাইম ভিউ

মুক্তাগাছার পার্শ্ববর্তী জামালপুর সদরের তুলসীপুরে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বসছে ঐতিহ্যবাড়ী ঘোড়ার হাট। এখানে দেশের প্রায় ৪০টি জেলার ঘোড়া কেনা-বেচা করতে আসেন পাইকার ও ক্রেতারা। প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোড়ার পায়ের টক টক শর গলায় লাগানো ঘন্টার ঝনঝনানীতে মুখরীত হয়ে উঠে তুলশীপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠ। এক সময় গ্রাম বাংলায় যাতায়াতের জন্য অন্যতম বাহন ছিলো গরু ও ঘোড়ার গাড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসতো ঘোড়ার হাট। সময়ের সাথে সাথে কমেছে ঘোড়ার হাটের সংখ্যা। দ্রুত পণ্য পরিবহণ ক্ষমতার জন্য বিশেষ কদর ছিলো ঘোড়ার। তবে, কালের পরিক্রমায় এখন খুব একটা দেখা মেলে না ঘোড়ার গাড়ির। তাই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঘোড়ার হাটও। যে কয়েকটি ঘোড়ার হাট এখনো টিকে আছে তার মধ্যে অন্যতম হল জামালপুর সদরের তুলসিপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠের ঘোড়ার হাট। জামালপুর ছাড়াও ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, শেরপুর, গাজীপুর, যশোর, জিনাইদহ, রংপুর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এই হাটে আসেন ঘোড়া বিক্রি করতে। এখানে শক্তি পরীক্ষার জন্য ঘোড়াকে হাঁটানো হয় বালুর রাস্তায়, ছোটানো হয় পানির মধ্যে। ওঠানামা করানো হয় উঁচু পাড়ে। যে ঘোড়া যত ভালো তার দামও তত বেশি। রানি, রাজ, রাজা, বাহাদুর, বিজলি, কিরণমালা, বজ্র, রাঙা, পঙ্গীরাজ, সিপাহীসহ বাহারী সব তাকলাগানো নামে ঘোড়ার নাম রেখেছেন মালিকরা। এদের নাম যেমন বাহারি, তেমনি গুণেও। এরা ছুটতে পারে ক্ষিপ্রগতিতে। এ কারণে ওদের কদরও যথেষ্ট। এদের পেতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে যায়। বৃহস্পতিবার জামালপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তুলসীপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠের ঘোড়ার হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় ও পুরোনো ঘোড়ার হাট এটি। এ কারণে সারা দেশ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এখানে। প্রতি বৃহস্পতিবার বসে এই ঘোড়ার হাট। এখানে ঘোড়ার পাশাপাশি বেচাকেনা হয় ঘোড়ার গাড়ি, লাগামসহ নানা সরঞ্জাম। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলছে এ হাট। সারিবদ্ধভাবে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি মাঠে ঢুকছে। অনেক বিক্রেতা ঘোড়া ছুটিয়ে ঢুকছেন হাটে। কিছু সময়ের মধ্যে নানা রঙের ঘোড়ায় মাঠ কানায় কানায় ভরে উঠল হাট। জমে উঠল বেচাকেনা। ঘোড়ার শক্তি ও ক্ষিপ্রতা যাচাই বাছায়ের জন্য মাঠের চারদিকে ঘুরানোর বালুময় পথ সেপথে ঘোড়াকে ঘোড়ার দৌড়িয়ে পরীক্ষা করে নেয় ক্রেতারা। কেউ কেউ আবার নিয়ে যায় পাকা রাস্তায়। তারপর হাঁকা হচ্ছে ঘোড়ার দাম। পছন্দের ঘোড়া পেতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি দেখা গেল। তুলসীপুর ঘোড়ার হাটের বাজার কমিটির হাবেল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার এ প্রতিনিধিকে জানান, এটাই দেশের অন্যতম পুরাতন ঐহিত্যবাহী ঘোড়ার হাট। প্রায় ৫০ বছর ধরে এই ঘোড়ার হাট চলছে। দেশে আরও ঘোড়ার হাট থাকলেও, এত বড় হাট কোথাও নেই। এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘোড়া কেনাবেচার জন্য আসেন লোকজন। হাটে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দামের ঘোড়াও বিক্রি হয়ে থাকে। সময় বিশেষে ৫ লক্ষ টাকার ঘোড়াও বিক্রি হয়েছে এ হাটে। এছাড়াও হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার থাকা– খাওয়া সুব্যবস্থা আছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নিরাপদে কেনাবেচা করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা প্রহরীর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঐতিহ্য ধরে রেখেই হাটটি পরিচালনার কথা জানান তিনি। এ পর্যন্ত এই ঘোড়ার হাটে কোন চাঁদাবাজি কিংবা ছিন্তায়ের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি ।

পোস্ট শেয়ার করুন

তুলসীপুরে প্রায় পঞ্চাশ বছরের ঐতিহ্যবাড়ী ঘোড়ার হাট

আপডেটের সময় : ০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মে ২০২২

মুক্তাগাছার পার্শ্ববর্তী জামালপুর সদরের তুলসীপুরে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে বসছে ঐতিহ্যবাড়ী ঘোড়ার হাট। এখানে দেশের প্রায় ৪০টি জেলার ঘোড়া কেনা-বেচা করতে আসেন পাইকার ও ক্রেতারা। প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘোড়ার পায়ের টক টক শর গলায় লাগানো ঘন্টার ঝনঝনানীতে মুখরীত হয়ে উঠে তুলশীপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠ। এক সময় গ্রাম বাংলায় যাতায়াতের জন্য অন্যতম বাহন ছিলো গরু ও ঘোড়ার গাড়ি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসতো ঘোড়ার হাট। সময়ের সাথে সাথে কমেছে ঘোড়ার হাটের সংখ্যা। দ্রুত পণ্য পরিবহণ ক্ষমতার জন্য বিশেষ কদর ছিলো ঘোড়ার। তবে, কালের পরিক্রমায় এখন খুব একটা দেখা মেলে না ঘোড়ার গাড়ির। তাই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে ঘোড়ার হাটও। যে কয়েকটি ঘোড়ার হাট এখনো টিকে আছে তার মধ্যে অন্যতম হল জামালপুর সদরের তুলসিপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠের ঘোড়ার হাট। জামালপুর ছাড়াও ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, শেরপুর, গাজীপুর, যশোর, জিনাইদহ, রংপুর, রাজশাহীসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এই হাটে আসেন ঘোড়া বিক্রি করতে। এখানে শক্তি পরীক্ষার জন্য ঘোড়াকে হাঁটানো হয় বালুর রাস্তায়, ছোটানো হয় পানির মধ্যে। ওঠানামা করানো হয় উঁচু পাড়ে। যে ঘোড়া যত ভালো তার দামও তত বেশি। রানি, রাজ, রাজা, বাহাদুর, বিজলি, কিরণমালা, বজ্র, রাঙা, পঙ্গীরাজ, সিপাহীসহ বাহারী সব তাকলাগানো নামে ঘোড়ার নাম রেখেছেন মালিকরা। এদের নাম যেমন বাহারি, তেমনি গুণেও। এরা ছুটতে পারে ক্ষিপ্রগতিতে। এ কারণে ওদের কদরও যথেষ্ট। এদের পেতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে যায়। বৃহস্পতিবার জামালপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তুলসীপুর ডিগ্রী কলেজ মাঠের ঘোড়ার হাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় ও পুরোনো ঘোড়ার হাট এটি। এ কারণে সারা দেশ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে এখানে। প্রতি বৃহস্পতিবার বসে এই ঘোড়ার হাট। এখানে ঘোড়ার পাশাপাশি বেচাকেনা হয় ঘোড়ার গাড়ি, লাগামসহ নানা সরঞ্জাম। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে চলছে এ হাট। সারিবদ্ধভাবে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ি মাঠে ঢুকছে। অনেক বিক্রেতা ঘোড়া ছুটিয়ে ঢুকছেন হাটে। কিছু সময়ের মধ্যে নানা রঙের ঘোড়ায় মাঠ কানায় কানায় ভরে উঠল হাট। জমে উঠল বেচাকেনা। ঘোড়ার শক্তি ও ক্ষিপ্রতা যাচাই বাছায়ের জন্য মাঠের চারদিকে ঘুরানোর বালুময় পথ সেপথে ঘোড়াকে ঘোড়ার দৌড়িয়ে পরীক্ষা করে নেয় ক্রেতারা। কেউ কেউ আবার নিয়ে যায় পাকা রাস্তায়। তারপর হাঁকা হচ্ছে ঘোড়ার দাম। পছন্দের ঘোড়া পেতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি দেখা গেল। তুলসীপুর ঘোড়ার হাটের বাজার কমিটির হাবেল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার এ প্রতিনিধিকে জানান, এটাই দেশের অন্যতম পুরাতন ঐহিত্যবাহী ঘোড়ার হাট। প্রায় ৫০ বছর ধরে এই ঘোড়ার হাট চলছে। দেশে আরও ঘোড়ার হাট থাকলেও, এত বড় হাট কোথাও নেই। এই হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘোড়া কেনাবেচার জন্য আসেন লোকজন। হাটে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা দামের ঘোড়াও বিক্রি হয়ে থাকে। সময় বিশেষে ৫ লক্ষ টাকার ঘোড়াও বিক্রি হয়েছে এ হাটে। এছাড়াও হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার থাকা– খাওয়া সুব্যবস্থা আছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নিরাপদে কেনাবেচা করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা প্রহরীর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঐতিহ্য ধরে রেখেই হাটটি পরিচালনার কথা জানান তিনি। এ পর্যন্ত এই ঘোড়ার হাটে কোন চাঁদাবাজি কিংবা ছিন্তায়ের মতো কোন ঘটনা ঘটেনি ।